ভারত ও আসিয়ান দেশ গুলি ছয় বছর ধরে গভীর আলোচনার পর থাইল্যান্ডে শুল্ক মুক্ত বাণিজ্যের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে.

এই বিষয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

আসিয়ান সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলি হল ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ফিলিপিনস. এই দেশগুলির অর্থনৈতিক ক্ষমতা নানারকমের হলেও সকলেরই উন্নতির ক্ষেত্রে সমস্যা একই ধরনের এবং আসিয়ানের কাঠামোর মধ্যে সকলেই ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে. এক্ষেত্রে ভারতের প্রচেষ্টাও সার্ক সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি বা আসিয়ান সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করা. তার ওপরে ভারতের সঙ্গে আসিয়ান দেশ গুলির শুধু ভৌগলিক বা ঐতিহাসিক সম্পর্কই নয় বর্তমানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ. এই দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমান ৪০০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে.

এই অঞ্চলে বসবাস কারী প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য এই চুক্তির মূল্য অনেক, শুধুমাত্র বাণিজ্যেই যে আর কোন বাধা থাকল না তা নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, শিল্পোত্পাদনের ক্ষেত্রে, মানব সম্পদ ও প্রযুক্তির বিনিময়ে নতুন ও আরও সামঞ্জস্য পূর্ণ সহযোগিতার পথ খুলে গেল.

অনেকগুলি ধাপে এই পারস্পরিক শুল্ক মুক্ত বাণিজ্যের পথ খুলবে, প্রথমে শুল্ক কমানো হবে ১লা জানুয়ারি ২০১০ থেকে, ২০১৩ সালে দ্বিতীয় বার শুল্ক কমানো হবে আর ২০১৬ সালে আশা করা হচ্ছে ভারতের আসিয়ান দেশ থেকে আমদানীর ক্ষেত্রে প্রায় ৪০০০ দ্রব্যের উপর শুল্ক হবে শূণ্য. একই সঙ্গে ৪৮৯ রকমের দ্রব্য সম্ভার বিশেষত কৃষি উত্পাদনের উপর শুল্ক কমানো হবে না, যাতে প্রতিবেশীর অসুবিধা না হয়. এই দ্রব্যের তালিকা তৈরী করতেই আলোচনার অনেক সময় ব্যয় হয়েছে, মূল চুক্তি স্বাক্ষরের আগে.

মস্কো আসিয়ান ও ভারতের চুক্তিকে এশিয়ার এই অঞ্চলের উন্নতির জন্য একটি ভারসাম্য আছে এমন চুক্তি বলে স্বাগত জানিয়েছে. বর্তমানের চুক্তি আসিয়ানের দেশ গুলি ও ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতির পথ খুলে দেবে এবং আসিয়ান ও ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ আর্থবাণজ্যিক সম্পর্ক কে আরও মজবুত করবে.

ভারতের জনৈক সাংবাদিক এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেনঃ

"ভারত ও আসিয়ানের দেশ গুলি আঞ্চলিক ভাবে সহযোগিতার প্রয়াসে সব সময়েই রত রয়েছে. বিশেষত বিশ্বের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুতর সঙ্কটের সময়ে আসিয়ান ও ভারতের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে. আমি নিশ্চিত যে, এই চুক্তি স্বাক্ষর কারী সব দেশের ভালর জন্যই হয়েছে".

<audio>