তালিবান আন্দোলনের যোদ্ধারা ও আল কায়দার সন্ত্রাসবাদীরা গত দুই বছরের মধ্যে অন্ততঃ পক্ষে তিনবার পাকিস্থানের পারমানবিক প্রকল্প গুলিতে হামলা চালিয়েছে আণবিক প্রযুক্তি হাত করার চেষ্টায় অথবা পারমানবিক সর্বনাশ করার উদ্দেশ্য. পারমানবিক অস্ত্রের বিষয়ে হামলার ওপর গবেষণা করে ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী শন গ্রেগোরী যে রিপোর্ট করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে ব্রিটেনের সংবাদ পত্র "ডেইলী টেলিগ্রাফ" এই সংবাদ জানিয়েছে. "ফক্স নিউজ" সংবাদ সংস্থা একই খবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক নাম গোপনে ইচ্ছুক প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য হিসাবে জানিয়েছে.

    বিষয়টি বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    বিশ্ব সমাজে বহুদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তালিবান আন্দোলন, আল কায়দা ও অন্যান্য চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী দলের পাকিস্থানের আণবিক বোমা ও প্রযুক্তি দখলে আনার চেষ্টা. "ফক্স নিউজ""ডেইলী টেলিগ্রাফের" খবর আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই উদ্বেগ ভিত্তিহীণ নয়.

১লা নভেম্বর ২০০৭ সালে সারগোধার পারমানবিক কেন্দ্রে প্রথম বার আততায়ীরা হানা দিয়েছিল. সেই বছরেরই ১০ই ডিসেম্বর কামরার বিমান বন্দরে, যেখানে আণবিক বোমা রয়েছে, সেখানে আবার আততায়ীরা গুপ্ত কারখানায় তৈরী বোমা নিয়ে হানা দিয়েছিল. ২০শে আগষ্ট ২০০৮ তৃতীয় বার হানা দিয়েছিল ভাখ শহরের আণবিক বোমা তৈরীর সামরিক কারখানাতে.

    আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা এই হানার উদ্দেশ্যের বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত না হতে পারলেও, বিশ্বাস করেন যে, সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্থানে এখনও এই ধরনের কেন্দ্রের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সমর্থ নয়. আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা এই সব সন্ত্রাসবাদী হানার খবর জানি, কিন্তু পাকিস্থানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে দুর্বল তা বলতে পারি না. ব্রিটেনের ব্র্যাডফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী শন গ্রেগোরী বলছেন যে, তিনি দেখতে পেয়েছেন, পাকিস্থানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার ব্যয় করলেও হামলা গুলি কিন্তু শেষ অবধি সন্ত্রাসবাদীরা প্রতিরক্ষার বেড়াজাল টপকে করতে পেরেছে. গ্রেগোরী আরও লিখেছেন যে, পাকিস্থানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলি সেই সব অঞ্চলের শহরে রয়েছে, যেখানে তালিবান ও আল কায়দার নিয়ন্ত্রণ সরকারের নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কম নয় ও তারা ইচ্ছে করলেই যখন খুশী সন্ত্রাসবাদী হানা দিতে পারে. বিশেষত যদি পাক আফগান সীমান্তে একবার সত্যি কারের যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে চাগাই হিলস অঞ্চলের যেখানে ধারণা করা হয়েছে যে আণবিক বোমা পরীক্ষা কেন্দ্র আছে অথবা কুন্দিয়ানে, যেখানে পারমানবিক বিভাজনের জন্য পরীক্ষাগার ও শিল্পোত্পাদন কেন্দ্র রয়েছে বা চাশমা শহরে, যেখানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে, কিংবা কাবুল হেল অঞ্চলের ইউরেনিয়াম খনিতে বা ইসা হেল অঞ্চলের ইউরেনিয়াম পরিশোধন কেন্দ্রে বিপদ ঘটতেই পারে.

    বিশেষজ্ঞদের মতে সত্যিকারের বিপদ রয়েছে যে ঘটনায়, তা হল যে, সন্ত্রাসবাদী যোদ্ধারা তাদের পক্ষে সহানুভূতিশীল কয়েকজন সামরিক বাহিনীর নেতার কাছ থেকেও এই অস্ত্র বা প্রযুক্তি পেতে পারে. এই বিষয়ে একই রকম ভাবেন রাশিয়ার পূর্ব দেশ বিষয়ের বিজ্ঞানী প্রফেসর ভ্লাদিমির সোতনিকোভ, তিনি এই বিষয়ে বলেছেনঃ

    "আণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তির বিষয়ে উদ্বেগের কারণ অনেক. কারণ, প্রথমত পাকিস্থানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির পাহারায় যে সব সামরিক বাহিনী রয়েছে, তাদের অনেকেই তালিব ও অন্যান্য ঐসলামিক চরমপন্থী দলগুলির প্রতি সহানুভূতিশীল. রাশিয়ার বিজ্ঞানী "আল কায়দা" বা "তেহরিক এ তালিবান পাকিস্থানের" সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ঐসলামিক সামরিক বাহিনীর "ইচ্ছাকৃত ভাবেই" আণবিক বোমা ও প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার ব্যাপারটি মোটেও কাল্পনিক ভাবছেন না. এটা সত্য যে, পারমানবিক বোমা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে ২০০০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্থানের কাছে তুলে দেওয়া প্যাল সিস্টেমের সাংকেতিক কোড জানা থাকা ও সক্রিয় করার নিয়ম জানতে হবে. আর এই কোড তালিব যোদ্ধারা জানতে পারে যদি পারমানবিক কেন্দ্রের রক্ষায় যে সব কর্মচারী রয়েছে, তারা যদি ওদের নিয়ন্ত্রণে আসে. তাই পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বা পারমানবিক জ্বালানী রূপান্তরের কেন্দ্রের কথা না ভাবলেও শুধু যুদ্ধের জন্য সক্রিয় করা একটা আণবিক বোমাই যথেষ্ট হতে পারে এই অঞ্চলে সামগ্রিক সর্বনাশের".

<sound>