দক্ষিন ওসেতির সাদামাটা ত্রকটি সড়ক জারস্কি. পথচারীদের আকৃষ্ট করার মত ত্রখানে কিছুই নেই.তবে ত্রখন যদি আপনি ত্রই সড়কটি ধরে হেটে যান তবে দেখতে পাবেন অসংখ্য ফুল যা জারস্কি সড়কের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে.
ত্রই সড়কটি হল দক্ষিন ওসেতি থেকে উত্তর ওসেতি যাওয়ার ত্রকমাত্র পথ.আর ত্রখানেই গত বছর রচিত হয়েছে ইতিহাসের আরও ত্রকটি কলঙ্কময় অধ্যায়ের. গত বছর জর্জিয়া যে রাশিয়ার শান্তিবাহিনী ও দক্ষিণ ওসেতিয় জনসাধারণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছিল তার সূত্রপাত ত্রখান থেকেই . এ যুদ্ধের সময় নিহত হয় ৬০ জনেরও বেশি রাশিয়ার সামরিক কর্মচারী এবং শত শত শান্তিপূর্ণ অধিবাসী.নিহতদের স্মরনেই তাদের আত্বীয় স্বজনরা গতকাল ছুটে আসে ত্রই জারস্কি সড়কে.ফুল আর মোমবাতি প্রজ্জলন করে তারা নিহতদের আত্বার শান্তি কামনা করে. ত্রছাড়া রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ''ক্রাইস্ট দ্য সেভিয়ার’’ গীর্জার পাশে “স্মৃতির শিখা” নামে স্মরন সভার আয়োজন করা হয়.যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিরা নিহতদের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বালায়. নিহতদের স্মৃতিতে ধর্মীয় আরাধনা করা হয় রাশিয়াতে ও বিদেশে অবস্থিত অর্থোডক্স চার্চগুলিতে.
৮ আগষ্ট ২০০৮ সন. ভোর বেলা.তখনও ঘুম ভাঙ্গেনি দক্ষিন ওসেতির জারস্কি সড়কে বসবাসকারি পরিবারগুলির.কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিরীহ ত্রই লোকজনগুলির ওপর জর্জিয়ার সৈন্যবহিনীরা অতর্কিত হামলায় চালায়.নিজেকে বাচাঁনোর জন্য মহিলা,শিশু ও বৃদ্ধ বয়সের লোকজনসহ সবাই পালাতে চেষ্টা করে.দক্ষিন ওসেতি থেকে তারা সবাই উত্তর ওসেতির দিকে যাত্রা করে . কিন্তু তাদের উত্তর ওসেতি যাওয়া আর হল না . তাদের বহনকারী গাড়িটি যখন উত্তর ওসেতির(রাশিয়ার ভূখন্ড) ত্রকদম নিকটে চলে আসে ঠিক তখনই জর্জিয়ার সৈন্যরা তাদের লক্ষকরে হামলা চালায়. যুদ্ধের বীভিষিকা আর ট্যাঙ্কের গোলাবারুদ ত্রকে ত্রকে তাদের সবার জীবন কেড়ে নেয়.
বালেরি কাকোয়েব যিনি ঐ যুদ্ধে হারিয়েছেন তার পরিবার ও আত্বীয়স্বজনদেরকে. তিনি তার পরিবারকে উদ্বার করার জন্য আপ্রান চেষ্টাও করেছিলেন.সেই লোমহর্ষক ঘটানার বর্ননা করতে গিয়ে তিনি কয়েকবার মূর্ছা যান. তিনি বলেন,
“লোকজন বুঝে উঠতে পারেনি যে কোন দিক থেকে বুলেট ধেয়ে আসছে.তারা জানত যে, ঐ স্থানে কেবল ত্রকটিই সড়ক.তাই ত্রই জারস্কি সড়ক দড়েই তারা সবাই পালাতে থাকে.কিন্তু সেই পথেই ত্রগিয়ে আসে জর্জিয়ার সৈন্যদের ভারী ট্যাঙ্ক.বাচঁর শেষ সুযোগটিও তারা আর পেল না”.বললেন বালেরি কাকোয়েব.
জর্জিয়ার সৈন্যরা শুধু মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত ছিল না. তারা জারস্কি সড়কের দুই পাশের বাড়িঘরগুলোকে ধ্বংস্তুপে পরিনত করে দেয়.

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক দেখে রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদবেদেভ দক্ষিন ওসিতির নিরীহ জনগনকে রক্ষার জন্য তার দেশের সৈন্যবাহিনীকে নির্দেশ দেয়. অতপর রুশ সৈন্যবাহিনী দক্ষিন ওসিতি থেকে জর্জিয়ার সৈন্যদেরকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়.যুদ্ধে জর্জিয়ার সৈন্যরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়.সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট তার ত্রক বক্তৃতায় বলেন যে, রাশিয়ার প্রতিবেশী কোন রাষ্ট্র তার নিরাপত্তা ও যে কেন জরুরী পরিস্থিতির জন্য সাহায্য চাইলে রাশিয়া কখনও “ না“ শব্দটি উচ্চারন করে না. ত্রবং দক্ষিন ওসেতিয়া ও আবখাজিয়ার নিরাপত্তার জন্য রাশিয়া যে কোন প্রকার সাহায্য প্রদান করবে. আর তা জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সাকাশবিলীও বেশ ভালকরেই জানে.

<sound>