পাকিস্থান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থাদের কুখ্যাত তালিব নেতা বেইতুল্লা মেহসুদের শিকারের প্রথম ফল পাওয়া বোধ হয় গেছে. পাকিস্থানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিকের ঘোষণার উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা রয়টার শুক্রবার এই খবর প্রচার করেছে.

    খুবই সম্ভাবনা আছে যে, বেইতুল্লা মেহসুদ তাঁর স্ত্রী ও দেহরক্ষীদের সাথে শ্বশুর বাড়ীতে থাকা অবস্থায় আমেরিকান পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান আক্রমণে নিজের ও শ্বশুরের সমস্ত পরিবার শুদ্ধু মারা গিয়েছেন. প্রথমে বলা হয়েছিল যে, বেইতুল্লা সেই সময় বাড়ীতে ছিল না, তার বৌ একাই মারা গিয়েছে. রেহমান মালিক তো বলছেন যে, তার কাছে যে প্রমাণ আছে তাতে বেইতুল্লাও এই হামলায় মরেছে. আমাদের কাছে খবর আছে, কিন্তু এখনও আমরা প্রমাণ পাই নি. একই রকম খবর দিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ওয়াশিংটনে, প্রশাসনের প্রতিনিধি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, শতকরা ৯৫ ভাগ নিশ্চিত যে, বেইতুল্লা মরেছে বোমারু বিমান হামলায়. তার কথা মতো মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার কাছে চাক্ষুষ প্রমাণ ও অন্যান্য রকমের প্রমাণ আছে. পাকিস্থানের সংস্থা বর্তমানে বাস্তব প্রমাণের সন্ধান করছে. পূর্ব দেশ বিশেষজ্ঞ নাতালিয়া জামারোয়েভা কে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে তিনি বলেছেনঃ

    "গত দুই মাস ধরে সারা পৃথিবীর নজর রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দিকে. আমেরিকান সামরিক বাহিনীর আফগানিস্থানের গেলমেন্দ প্রদেশের সন্ত্রাসবাদ দমনে অভিযান এই নজরের প্রথম কারণ. আর সীমান্তের অপর পারে — পাকিস্থানে – পুস্তুনদের এলাকায় সামরিক বাহিনীর আক্রমণ. এই অঞ্চলে আমেরিকান পাইলট বিহীণ বোমারু বিমানের হানাতে যেমন ঘাঁটিতে হানা দিয়ে আতঙ্কবাদী মারা চলছে, তেমনই নিরীহ লোকেরাও এই আক্রমণে মারা পড়েছেন. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব বলেছে, আকাশ পথে হানা, স্থল পথের যুদ্ধে খুবই সাহায্য করেছে. ২০ শে আগষ্ট আফগানিস্থানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে চলেছে, তাই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাহিনী তার আগে যথা সম্ভব বেশী তালিব সন্ত্রাসবাদী মেরে, তাদের চরমপন্থায় পথ চলা বন্ধ করে দিতে চেয়েছে. কিন্তু তালিবদের এক কুখ্যাত নেতা বেইতুল্লা মেহসুদের মৃত্যু (বর্তমানে এই খবরের প্রমাণের খোঁজ করা হচ্ছে) অবশ্যই সমস্ত যোদ্ধাদের বাধা ভেঙে দিতে পারবে না".

    তার ওপরে এখনও পাকিস্থানের গুপ্তচর সংস্থার হাতে কোন সঠিক প্রমাণ নেই যে, মেহসুদ বোমার আঘাতে সত্যিই মরেছে. সামরিক বাহিনীর এক প্রতিনিধি বলেছেন যে, বেইতুল্লা বিপদ আছে বলে কখনোই কোন আত্মীয়ের বাড়ীতে আসে না. শুধু কয়েকজন বিশ্বস্ত লোকই জানে সে কোথায় আছে.