পাকিস্থান ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ফিরতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, কারণ এই পথেই একমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি করা যেতে পারে. পাকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশী বুধবারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেছেন.

এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই রকম ঘোষণা আজকাল প্রায়ই শুধুমাত্র পাকিস্থানের নেতৃত্বের মুখ থেকেই নয়, এমনকি ভারতের নেতাদের কাছ থেকেও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে. দেখাই যাচ্ছে যে, দুই দেশেরই নেতারা বুঝতে পারছেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি করতে হলে বৈঠকে বসতেই হবে. এর আগে ভারত ও পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে রাশিয়ার ইকাতেরিনবুর্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠকের সময় এবং ইজিপ্টের পর্যটন কেন্দ্র শারম – এল – শেখ এ আয়োজিত নির্জোট দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনের সময়.

তবুও এই সাক্ষাত্কার গুলির পরে অনেক সময় কেটে গেছে, কিন্তু আলোচনা এখনও শুরু হয় নি. এর অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে মুখ্য যে টি, তা পর্যবেক্ষকদের ধারণা মতে হল, ভারত পাকিস্থানের কাছ থেকে শুধু ঘোষণাই নয়, বরং নির্দিষ্ট কাজ দেখতে চাইছে. ভারত ইসলামাবাদকে চাপে ফেলেছে ভারত বিরোধী দলগুলির কাজকর্মের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে এবং মুম্বাই এর সন্ত্রাসবাদী হামলার অংশীদার সমস্ত সন্ত্রাসবাদীকে শাস্তি দিতে. অংশতঃ ভারত "লস্কর এ তৈবা" দলের উদ্যোক্তা হাফিজ সৈয়দা কে গ্রেপ্তার ও আদালতে তোলার বিষয়ে দেরীর কারণ বুঝতে পারছে না. এর গ্রেপ্তার ও বিচার এবং পাকিস্থানে একই সঙ্গে মুম্বাই হামলার অংশীদার সমস্ত অপরাধীর শাস্তি ও ভারত বিরোধী সমস্ত সন্ত্রাসবাদী দলের নিষিদ্ধ করণকে দিল্লী মনে করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের জন্য একমাত্র আবশ্যিক শর্ত.

মুম্বাই হামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশী বলেছেন যে, পাকিস্থান ও ভারত দুই দেশই সন্ত্রাস বাদী হামলার শিকার হয়েছে এবং এর মোকাবিলাতে দুই দেশের সহযোগিতার প্রয়োজন. তাহলে এখনও কথাই খালি কেন হচ্ছে? কাজ কোথায়? ইসলামাবাদের কি নিজের দেশে সন্ত্রাসবাদী দের গ্রেপ্তার করা বা তাদের ঘাঁটি ধ্বংস করা বা নিজের মাটিতে ভারত বিরোধী কাজ বন্ধ করানোর ক্ষমতা নেই?

পাকিস্থানের সোয়াত উপত্যকায় তালিবান আন্দোলনের যোদ্ধাদের ধ্বংস করা দেখে বোঝা হয়েছে যে, চাইলে পাকিস্থান এটা অনায়াসে করতে পারে, যদি তাদের দেশের স্থিতিশীলতার প্রশ্ন ওঠে. তাহলে ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষেত্রে হাত উঠছে না কেন? ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ তো পাকিস্থানের নেতৃত্ব কে সোজাসুজিই জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মুম্বাই হামলার অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও কঠিন শাস্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি আলোচনার নামে বৈঠকে বসাটা হবে প্রহসন.

এই বিষয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর ভারত অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ও প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেনঃ

"আমার ধারণা হয়েছে যে, পাকিস্থানের সরকার টলমল করছে, প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে, সরকার তার উপযুক্ত কাজ করছে না. কারণ হল এক সময় যে পাকিস্থানের সরকারকে বিশেষ উদ্দেশ্যে তালিবদের কে সোয়াত উপত্যকাতে স্বায়ত্ত শাসন ও শরিয়তের আইনে থাকতে দিতে হয়েছিল, আজ সেই সরকারকেই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ বাঁচাতে হচ্ছে. উত্তর পশ্চিমের এই যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার সময় সরকার ভয় পেয়েছে ভারত বিরোধী চরম পন্থী দল গুলিকে ও অধিকৃত কাশ্মীরে "লস্কর এ তৈবার" মত সন্ত্রাসবাদী দের একসাথে মোকাবিলা করতে. বোধ হয় আরও কোন বিশেষ বোঝাপড়া থাকতে পারে মার্কিন অনুগত পাক নেতাদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী দের. আর এই সব খবরই ভারতকে পাকিস্থানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে গিয়ে শঙ্কিত করেছে".

<sound>