জাপানের আর্খিপেলাগোর মূল দ্বীপ হনস্যুর দক্ষিণের হিরোশিমা প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর হিরোশিমাতে আণবিক বোমা বর্ষণের স্মৃতির তর্পণে আজ জাপান সহ বিশ্বের সব দেশই অংশ নিয়েছে.

    ঠিক ৬৪ বছর আগে আমেরিকান বি – ২৯ বোমারু বিমান সকাল আটটা পনেরো মিনিটে শিশু নামে যে বোমাটি ফেলেছিল, তাতে একশ চল্লিশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল. হিরোশিমার শান্তি উদ্যানে সকাল আটটা বেজে পনেরো মিনিটে স্মৃতির উদ্দেশ্যে বাজানো ঘন্টার শব্দে কয়েক হাজার লোক জমা হয়েছিলেন, ঠিক এই সময়েই বোমাটি ফেলা হয়েছিল. রাশিয়া সহ আরও ৫৬ টি দেশের প্রতিনিধি এই শহরের মেয়র ও জাপান সরকারের নেতৃত্বের সাথে একত্রে এই স্মৃতি তর্পণে উপস্থিত ছিলেন. হিরোশিমার সরকারি দপ্তরের খবরে ১৪৬ টি দেশকে এই স্মৃতি তর্পণে আসার নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে গত কয়েক দিন আগে পারমানবিক বোমা পরীক্ষা করেছে এমন দেশ, উত্তর কোরিয়া ও রয়েছে. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং এই নিমন্ত্রণের উত্তর দেয় নি.

    অনেক রাজনীতিবিদ ও বিজ্ঞানী সেই পুরনো শোকের দিনের কথা স্মরণ করে তার থেকে মানবসমাজ কি শিক্ষা নিতে পারে. তা নিয়ে আলোচনা করেছেন. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির এভসেয়েভ আমাদের রেডিও স্টেশনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বলেছেনঃ

    "আমার মতে আণবিক অস্ত্রের প্রথম যুদ্ধে ব্যবহার মানুষের ইতিহাসের পালা বদলে প্রবল প্রভাব ফেলেছে. ক্যারিবিয়ান উপসাগরের সমস্যার সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকির আণবিক বোমা বর্ষণের ফলাফল রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে এই বোমার ব্যবহার থেকে নিরস্ত করতে সমর্থ হয়েছিল. এছাড়াও আরও বহুবার মস্কো ও ওয়াশিংটন এই বোমা ব্যবহারের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিল. কিন্তু হিরোশিমা ও নাগাসাকির ঘটনা আমেরিকান ও তার প্রত্যুত্তরে রাশিয়ার নেতৃত্ব কে আণবিক বোমা ব্যবহারের হাত থেকে রক্ষা করেছে. আরও মনে করানো যায় যে, জাপানের সংবিধানে পারমানবিক অস্ত্রের নিষিদ্ধ করণ ঘটেছিল হিরোশিমা ও নাগাসাকির কথা ভেবেই. তাই জাপান মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আণবিক অস্ত্র বানাতে পারলেও কখনোই সে চেষ্টা করে নি. কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা সবাই একই ভাবে নেয় নি. বর্তমানে বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে, যারা নিজেদের আভ্যন্তরীন সমস্যার সমাধানে আণবিক অস্ত্রকে হাতিয়ার করতে চায়. দেখাই যাচ্ছে যে, হিরোশিমা ও নাগাসাকির শিক্ষা এদেরও পাওয়া দরকার, তা না হলে যে ট্র্যাজেডি জাপানের মাটিতে হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি যে কোন জায়গাতেই হতে পারে. আমার মতে উত্তর কোরিয়া, ইরান বা অন্য কোন দেশই এটা চাইতে পারে না".

         সারা দুনিয়া আজ চাইছে বিশ্ব থেকে পারমানবিক অস্ত্র পুরোপুরি নিশ্চিহ্ণ করে দিতে, যাতে বর্তমানের ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আত্মহনণের এই বিভীষিকা আর না থাকে. আজকের এই শোক দিবসে স্মৃতির উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব বান কী মুন বলেছেনঃ "আসুন সবাই মিলে বিশ্বের সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের বোঝানো যাক যে, পারমানবিক বোমা ও অন্যান্য গণহত্যার অস্ত্র শুধু অযথা খরচ বাড়ায় আর বিপদ ডেকে আনে. এই ভয়ঙ্কর বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা সমস্বরে বলে উঠি সবাইকে অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে".