রাশিয়ার পূর্ব দিকে – সুদূর পূর্বে – এই বছরেই স্বদেশী মোটর গাড়ী তৈরীর কারখানা কাজ শুরু করবে. আজ অবধি এই বিশাল অঞ্চল শুধুমাত্র পুরনো জাপানী ও কোরিয়ান গাড়ীর বাজার হয়ে ছিল. কিন্তু বিশ্ব জোড়া অর্থনৈতিক সঙ্কট দেশের সরকারকে বাধ্য করেছে স্বদেশী গাড়ীর বিক্রয় বাড়াবার ব্যবস্থা করতে এবং শুল্ক বিভাগের বাধা তৈরী করে বিদেশী গাড়ীর আমদানী বন্ধ করতে.

ভ্লাদিভস্তকে বছরে ১৫ হাজার গাড়ী তৈরী করা যাবে এমন কারখানা তৈরী হচ্ছে. সেই কারখানাতে জাপানী মালবাহী গাড়ী তৈরী কোম্পানী "ইসুজু" র সব রকমের গাড়ী (মাল বহনের ক্ষমতা ১,৫ টন থেকে ২৫ টন পর্যন্ত) তৈরী করা হবে, কোরিয়ান সব রকমের রাস্তায় চলার উপযোগী গাড়ী তৈরী কোম্পানী "স্যান ইয়ং" এবং মিনিবাস তৈরীর কোম্পানী "ফিয়াট ডুক্যাটো" র গাড়ী বানানো হবে. এই রকমের একটি কারখানা এর আগেই তাতারস্থানের ইলাবুর্গা শহরে চালু করা হয়েছে. এই প্রকল্প চালু করছে "সোলের্স" কোম্পানী আর রাশিয়ার "ভ্নেশতর্গ ব্যাঙ্ক" এই কোম্পানীকে ৫০০ কোটি রুবল ঋণ দিচ্ছে. এই ঋণের অংশ খরচ করা হবে ভ্লাদিভস্তকের কারখানা বানাতে. সুদূর পূর্বের কারখানার জন্য "সোলের্স" যে প্রকল্প করেছে ও বিক্রয়ের জন্য এমন যে সব গাড়ীর মডেল বাজারে আনবে, যা এর আগে রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশে কখনো তৈরী করা হয় নি – যেমন "ইসুজু" র ফুল ড্রাইভ সিস্টেমের ট্রাক, যে গুলির চাকার ফরমুলা ৬ X ৬ এবং "ফিয়াট ডুক্যাটো" র বিশেষ ধরনের টাফ বডি ও হাই ক্লিয়ারেন্সের মিনিবাস. উত্পাদনের পুরো পরম্পরা, যাতে ওয়েল্ডিং, রং ও গাড়ী এসেম্বলি রয়েছে, তা পরে শুরু করা হবে. বর্তমানে শুধু গাড়ীর এসেম্বলি করা হবে, সমস্ত কারখানার আধুনিকী করণ শেষ হলে ওয়েল্ডিং ও রং করার শেড চালু করা হবে. এই প্রকল্পে শতকরা ৭০ ভাগ "ফিয়াট ডুক্যাটো" র গাড়ী তৈরী করা যাবে কারখানাতে গাড়ীর ধাতব বডি তৈরীর সুবিধা থাকায়, তা ছাড়াও শতকরা ৪০ ভাগ "ইসুজু" র ট্রাক ও শতকরা ৩০ ভাগ "স্যান ইয়ং" এর জিপ তৈরী হবে. ২৯ শে ডিসেম্বর এই কারখানার কনভেয়ার বেল্ট থেকে প্রথম গাড়ী বেরোবে. প্রধান মন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আয়োজিত মন্ত্রী ও আঞ্চলিক শিল্প গুলির প্রধানদের বৈঠকে সোলের্স কোম্পানীর ডিরেক্টর ভাদিম শ্ভেত্সভ এই খবর দিয়েছেন.

এই বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেনঃ "আমাদের কাছে এই অঞ্চলের পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং শিল্প উত্পাদনের পরিমান বাড়ানোর প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ, কর্ম সংস্থান করা ও তার সংরক্ষণ ও জরুরী".

এই ঘোষণার ভিত্তিতেই তৈরী হচ্ছে সাখালিন – খাবারভস্ক – ভ্লাদিভস্তক গ্যাস পরিবহণ পাইপ লাইন, যে লাইন দিয়ে তিন বছর পর সাখালিনের গ্যাস সুদূর পূর্বের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছবে, এই অঞ্চলের জাহাজ তৈরী ও উড়োজাহাজ তৈরী কারখানা গুলিতে নতুন বায়না দেওয়া হচ্ছে ও নতুন মোটর গাড়ী তৈরী করার কারখানা বানানো হচ্ছে, যেখানে খুব কম করে হলেও এক হাজার লোকের কর্ম সংস্থান হবে. ভ্লাদিভস্তকের গাড়ী তৈরীর কারখানা ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানার প্রকল্পের বাজেট ৫০০ কোটি রুবল.