মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রবার্ট গেইটস ন্যাটো জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে আফগানিস্থানের পরিস্থিতি ও জোটের সৈন্য বাহিনীর অবস্থা এবং সমগ্র মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন. এই বিষয়টি জানিয়েছেন পেন্টাগনের তথ্য সম্পাদক জেফ মোরেল.

    রবিবারে বেলজিয়ামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ঘাঁটিতে এই বৈঠক হয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে এই বৈঠকের খবর আগে দেওয়া হয় নি. মোরেলের বক্তব্য অনুযায়ী পেন্টাগনের প্রধান জোটের নেতৃত্বের কাছ থেকে আফগানিস্থানে জোটের সেনা বাহিনীর সাফল্যের খবর প্রাথমিক ভাবে জানতে চেয়েছিলেন. ২০০২ সালে শুরু হওয়া সামরিক অনুপ্রবেশের পর গত মাসটি ন্যাটো জোটের আন্তর্জাতিক সৈন্য দলের জন্য সবচেয়ে কঠিন হওয়ায়, সাফল্যের কথা জানতে চাওয়া বোধ হয় সময়ের আগেই হয়ে গেল. জুলাই মাসে নিহতের সংখ্যা ছিল ৭৫ জন. তাই মনে হয়, রবার্ট গেইটস এই বৈঠকের প্রতিনিধিদের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের গৃহীত আফগানিস্থানের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে নতুন স্ট্র্যাটেজির কথাই বলে থাকবেন. এর অভিমত গুলি প্রধানতঃ সেই অভিমত গুলির সাথে মেলে, যেগুলি সোমবার ন্যাটো জোটের নতুন সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন. তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী আফগান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে শুধুমাত্র ন্যাটো জোটের প্রচেষ্টাতে ফল হবে না, বরং প্রয়োজন সমস্ত আন্তর্জাতিক সমাজের ও আফগানিস্থানের জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসের. রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পূর্ব দেশ গুলির অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইরিনা জ্ভিয়াগেলস্কায়া এই বিষয়ে বলেছেনঃ

    "ন্যাটো জোটের নূতন অভিপ্রায়ে অধিকাংশ জোর দেওয়া হয়েছে এক দিকে আফগানিস্থানের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আধুনিকীকরণে ও অন্যদিকে স্থানীয় নিরাপত্তা শক্তির সৃষ্টি ও তাকে শক্তিশালী করাতে, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই এই দেশের নিরাপত্তার ভার নিতে পারে. দেখাই যাচ্ছে যে, শুধু মাত্র পেশী শক্তি প্রদর্শন করে এই দেশে কোন লাভ হবে না. আর এটাও দেখা যাচ্ছে যে, আফগানিস্থানে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনরুদ্ধারের জন্য সামগ্রিক ভাবে প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়েছে. এই ক্ষেত্রে একমত হওয়া যেতে পারে যে, এটা ন্যাটো জোটের মত বাকী বিশ্বের জন্য ও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে. রাশিয়া বিনা কারণে তো আর নিজের সীমানার মধ্য দিয়ে এই জোটের জন্য সামরিক সরবরাহ চালু করার স্বীকৃতি দেয় নি. এক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধারণা সবারই রয়েছে, আফগানিস্থান যাতে সন্ত্রাসবাদের আখড়া বা মাদকদ্রব্যের চোরাচালানের ধূসর কেন্দ্রস্থল না থাকতে পারে. এই স্ট্র্যাটেজি কতটা ফল দেবে তা ভবিষ্যতই বলবে. আফগানিস্থানের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে আমার তো মনে হয় না যে, খুব তাড়াতাড়ি কোন ফল পাওয়া যাবে. কিন্তু আফগানিস্থানে শান্তি পূণর্বহাল করতে বা সেই দেশের সাধারন মানুষেরা যাতে স্বাভাবিক অবস্থায়, স্বাভাবিক রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে জীবন কাটাতে পারে, তার জন্য অন্য কোন পথও তো নেই".

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের আফগানিস্থানে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের জন্য নূতন অভিপ্রায়কে সব মিলিয়ে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও স্বাগত জানিয়েছেন. ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বেরনার কুশনের তাঁর "ফিগারো" খবরের কাগজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, আফগানিস্থানে শান্তি পূণর্বহাল করা যেতে পারে আফগানী মানুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে. আরও বেশী করে বলতে হলে তাদের দেশের নেতৃত্বেই তা সম্ভব. তাঁর মতে একমাত্র সেই ভাবেই কিছু করা সম্ভব, অন্যথায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে এই প্রয়াস পণ্ডশ্রমে পরিণত হবে.