রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভায় যথেষ্ট কড়া মনোভাব নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় কোন স্বাধীন দেশে মানবতার অধিকার ভঙ্গের অপরাধে অনুপ্রবেশ কে কেন্দ্র করে. এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অনেক দেশ ই মত প্রকাশ করেছে এবং রাশিয়াও তাদের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছে. যদিও এই ধারণার পক্ষে যারা বক্তব্য রেখেছে, তারা মনে করিয়ে দিয়েছে গত বছরের আগষ্ট মাসে রাশিয়ার সৈন্য দল জর্জিয়ার সীমান্ত পার হয়ে ঢুকেছিল এই অজুহাতেই.

রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের পর্ষদের প্রধান মিখাইল মার্গেলভ বলেছেন যে, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নটি একান্ত ভাবেই স্থানীয় সরকারের বিচার্য বিষয় এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমাজের বিচারের জন্য এই বিষয় আলোচ্য হতে পারে না. তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে, যেখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় অথবা স্থানীয় সরকার সেই দেশের জনসাধারনকে গণহত্যা, প্রজাতি নিধন বা সামরিক অপরাধ থেকে বাঁচাতে সমর্থ নয়, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অনুপ্রবেশ হতে পারে.

যেভাবেই বলা হোক না কেন, বিশেষজ্ঞ দের মতে "মানবতার খাতিরে অনুপ্রবেশ" বিষয়টিতে সাবধান হয়ে থাকা ভাল. স্লাভনিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ পিওতর ইস্কানদেরভ বলেছেনঃ

"এই ধরনের জিগির খুব নির্দিষ্ট নয়, আমরা জানি যে, তথাকথিত মানবতার খাতিরে অনেক কিছুই করা হয়েছে. গত বছরের ককেশাসের ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়. রাশিয়ার অবস্থান প্রথম থেকেই একই ছিলঃ জর্জিয়ার শাসক দল দক্ষিণ অসেতিয়াতে অনুপ্রবেশ করে জাতি হত্যায় রত হয়েছিল, আর আন্তর্জাতিক প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত".

মানবতার অধিকার রক্ষা আজকের দিনে একটি রাজনৈতিক অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সহযোগীদের নিয়ে এই বিষয়ে দ্বৈবিধ্য নীতি নিয়েছে. সেই সমস্ত সরকারের বিরুদ্ধে তারা হাতিয়ার তুলছে, যে সব দেশের সরকার কোন একটি বা অন্য কিছু কারণে পশ্চিমের জন্য সুবিধা করে দিচ্ছে না. এই বিষয়ে পিওতর ইস্কানদেরভ বলেছেনঃ

"পশ্চিমের দেশগুলি একটি ধারণার বিস্তার করতে চাইছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ন্যাটো জোট যে কোন দেশের সরকারের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার পরোয়া না করেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তোয়াক্কা না করে অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারবে. যদি এই নীতিটি একবার রাষ্ট্রসংঘের দলিলে জায়গা করে নিতে পারে ও রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভার অধিকাংশের ভোটে সিদ্ধান্ত বলে গৃহীত হতে শুরু করে, তাহলে সারা বিশ্বেই অবস্থা হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক".

রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমতা সংক্রান্ত যে আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার উপর আজ বিশ্বের রাষ্ট্র ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে, তার সমূহ বিপদ যদি "মানবতার খাতিরে অনুপ্রবেশের" নাম করে যে কোন দেশে, তা সেখানে সত্যই মানবতার অধিকার খর্ব হোক অথবা না হোক, সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর স্বাধীনতা কাউকে দেওয়া হয়. বর্তমানেই এই নীতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে আকছার, তার ওপরে আইন শিথিল করলে শুধু আঞ্চলিক বিবাদে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সামরিক শক্তির অনুপ্রবেশই দেখতে পাওয়া যাবে.