পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে, পাকিস্থানে চুরি করে নিজেদের ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের কৌশল শিখিয়ে তালিবেরা শিশুদের তৈরী করেছিল আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী রূপে.

    সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ বিষয়টি সম্বন্ধে বিশদ করে লিখেছেন.

    তালিবেরা যে বাচ্চাদের আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীতে পরিণত করছে তা আগেও বলা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানের ঘটনাটি এই কুকর্মের পরিধি যে কত বড় তা সম্বন্ধে জানিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে. পাকিস্থানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের উত্তর পশ্চিমে তাদের দখল করা ঘাঁটিতে অন্ততঃ ২০০ বাচ্চাদের, যাদের চরমপন্থীরা জীবন্ত বোমা হিসাবে তৈরী করেছিল. সবচেয়ে ছোট বাচ্চাটির বয়স ছয় বছর, আর বাকীরা তার থেকে সামান্য বড়. এই প্রদেশের মন্ত্রী বশির আহমেদ বিলোউর এই খবর দিয়েছেন. তিনি জানিয়েছেন যে, শিশুদের এত বেশী করে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল যে, তারা দরকারে নিজেদের বাবা মা কেও অবিশ্বাসী ঘোষণা করলে মেরে ফেলতে তৈরী ছিল. এর আগে পাকিস্থানের সৈন্য বাহিনী চরমপন্থী ঘাঁটিতে অনেক কমবয়েসী যোদ্ধা খুঁজে পেয়েছিল এবং তাদের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে নতুন করে ট্রেনিং দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছে. এই প্রদেশে সন্ত্রাসবাদী নির্মূল করতে গিয়ে সৈন্যরা ২৫ জন যোদ্ধাকে বন্দী করেছে এবং আরও দুজন ভাড়া করা বিদেশী যোদ্ধাকেও ধরতে পেরেছে.

    শিশুদের জীবন্ত বোমা হিসাবে ব্যবহার নতুন নয়. শ্রীলঙ্কার তামিল টাইগার যোদ্ধারা তামিল ইলম দলের জন্য এই কাজ করেছিল, আজ তাদের ঘাঁটি শুদ্ধ গুঁড়িয়ে দেওয়া গেছে. নেপালের মাওবাদীরা রাজতন্ত্রের পতন ডেকে এনেছিল দেশ জুড়ে শিশুদের জীবন্ত বোমা বানিয়ে বিস্ফোরণ করিয়ে. বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য ঘাঁটি যখন রাষ্ট্রসংঘের শান্তি বাহিনী নেপালে খুঁজে পেয়েছিল, তখন দেখা গিয়েছিল যে, এই ঘাঁটিগুলিতে প্রায় দুই বছর ধরে বাচ্চাদের একসাথে বড়দের সাথে রেখে আত্মঘাতী হতে শেখানো হচ্ছিল.

    এই রকম ঘটনা পৃথিবীর বহু প্রান্তে ঘটছে, যেমন, নিকট প্রাচ্যে, লাতিন আমেরিকাতে. রাশিয়াতেও চিচনিয়ার যুদ্ধের সময় এই রকম শিশু বোমা বানিয়েছিল বিদ্রোহীরা. তাদের হাতও অনেক শিশুর রক্তে রক্তাক্ত.

    শিশু সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গে জনৈক ভারতীয় সাংবাদিক বলেছেনঃ

"আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ আজ নিজের চরমপন্থী লক্ষ্য পূর্ণ করার জন্য যে কোন রকম বেআইনি পথই নিচ্ছে. শিশুদের জীবন্ত বোমা হিসাবে ব্যবহার, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক অপরাধ. যারা এই সব করছে, তাদের মানুষ বলে মনে করা যায় না. তাদের কঠিনতম শাস্তি হওয়া উচিত্. তালিবদের হাতে আরও কত বাচ্চা আটকে আছে তা জানা নেই. এই বাচ্চাদের ভবিষ্যত আমাদের আতঙ্কিত করে. কারণ তালিবদের লক্ষ্য, নিজস্ব মত না থাকা এই বাচ্চাদের দিয়ে আরও সাধারন মানুষের অপঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানো. তাই পাকিস্থান ও আফগানিস্থানে তালিব নির্মূল না করা পর্যন্ত এই বাচ্চাদের জন্য তাদের জীবন মৃত্যুর সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই".

<sound>