ভারত পাকিস্থানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি চালনা পাকিস্থান অব্যাহত রেখেছে. ভারতীয় পার্লামেন্টের প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া আজকের প্রকাশিত বক্তব্যে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরাক্কাপারামবিল এন্টনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০০৮ সালে এই রকম ঘটনা ঘটেছে ৭৭ বার, ২০০৭ সালে ২১ বার, ২০০৬ সালে মাত্র তিন বার আর এই বছরে এর মধ্যেই নয় বার.

এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

জানা আছে যে, কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রয়েছে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্থান অধিকৃত আজাদ কাশ্মীর বা স্বাধীন কাশ্মীর. বহু বছর ধরেই এই লক্ষণ রেখা দুটি দেশের মধ্যে সীমান্তের সমস্ত রকম ব্যবস্থা নিয়ে কার্যত বাস্তব সীমান্তের ভূমিকা পালন করে চলেছে.

সময় প্রমাণ করেছে যে, সীমান্ত অঞ্চলের শান্তি বজায় থাকলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে থাকে. আর নিয়মিত সীমান্তে গণ্ডগোল হতে থাকলে তা এই সম্পর্ক কে জটিল ও সমস্যা গুলিকে সমাধান অযোগ্য করে তোলে. ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আরাক্কাপারামবিল এন্টনি যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন তার সঙ্গে ভারত পাকিস্থানের সম্পর্কের হাল মিলিয়ে নিলে এই যুক্তির সততা প্রমাণিত হয়. ভারত ও পাকিস্থানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রথম প্রচেষ্টা হিসাবে ২০০৩ সালে প্রথমেই কাশ্মীরের এই নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি চালনা বন্ধের চুক্তি করা হয়েছিল.

শান্তির প্রয়াসের প্রথম কয়েক বছর দেখা গিয়েছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পরিবহন, সংস্কৃতির আদান প্রদান শুরু হতে এবং একই সাথে কাশ্মীরের সীমান্তে গুলি চালনা কম হতে. ভারত পাকিস্থান সম্পর্কের অবনয়ন, যা এর আগে বহু বছর ধরে ধীরে হলেও উন্নতির পথে চলেছিল, তা গত বছরের মুম্বাই হামলার পর এক অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে. ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বর্তমানের সীমান্তে এই গুলি চালনার কারণ পাকিস্থানের সেনাধ্যক্ষরা বুঝতে চাইছে ভারতের সহ্য সীমা কতখানি. আর একই সঙ্গে এই ঘটনার আড়ালে পাচার করা হচ্ছে পাকিস্থানে তৈরী হওয়া সন্ত্রাস বাদী. এই ঘটনায় মস্কো অবশ্যই উদ্বিগ্ন এবং দুঃখিত হয়েছিল. সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ভারত পাকিস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়. রাশিয়া নিজের দিক থেকে এই সম্পর্কের উন্নতির ধারা বজায় রাখার জন্য সব রকমের প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে মুম্বাই হামলার পর ভারতের প্রধান মন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ও পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারীর প্রথম সামনা সামনি দেখা হয়েছিল রাশিয়ার ইকাতেরিনবুর্গ শহরে সা.স.স. সম্মেলনে যোগ দিতে এসে. বলা যেতে পারে, এর পরে ইজিপ্টের শারম-এল-শেখ শহরের নির্জোট আন্দোলনের শীর্ষ বৈঠকের পটভূমিতে দুই দেশের প্রধান মন্ত্রীদের বৈঠকও হতে পেরেছিল এই রাশিয়ার বৈঠকের সূত্র ধরেই এবং এখানে দুই দেশই ভবিষ্যতের সাক্ষাত্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সহমতে আসতে পেরেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি অবশ্য এই বিষয় টিকে ভাল লক্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন. রাশিয়া আরও ভাল ভাবে নিয়েছে পাকিস্থান সরকারের মুম্বাই হামলার বিষয়ে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও আদালতে তোলার বিষয় টিকে. এই বিষয়টি ভারত বিশেষ করে চেয়েছিল এবং পাকিস্থানের এই ক্ষেত্রে সহমত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্থান নিজের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে. নেস্তেরেঙ্কো বলেছেন, লস্কর এ তৈবা দলের চরম পন্থীরা পাকিস্থানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের মুম্বাইতে পাঠিয়েছিল এবং এরকম আরও অনেক ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী পাকিস্থানের ভিতরে তৈরী হয়েছে. কাশ্মীরের চরমপন্থীরাও পাকিস্থানে ঘাঁটি বানিয়েছে, যেমন বানিয়েছে তালিবেরা. ভারত পাকিস্থানের কাছে এই সব রকম সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে আর এই বিষয় টাই দুই দেশের সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে.

    পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো বলেছেনঃ

    "রাশিয়া ভারত- পাকিস্থান সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত রকম বিতর্কিত বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সহমতে পৌঁছনোর পক্ষে. বর্তমানে পাকিস্থানের মাটিতে যে সব সন্ত্রাসবাদীরা তৈরী হচ্ছে তাদের অন্যতম লক্ষ্যই ভারত. আমরা আশা করি এই সমস্যার মোকাবিলায় পাকিস্থানের নেতৃত্ব কঠোর ও নিশ্চিত ভূমিকা নেবে".

<audio>