ভারত গত রবিবারে তার ইতিহাসে প্রথম আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজ জলে ভাসিয়েছে. রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স এবং গ্রেট ব্রিটেনের পর ভারত ষষ্ঠ দেশ যারা নিজেরা আণবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ তৈরী করতে পেরেছে.

    বিষয়টিকে নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    অবশ্যই এটা বিশাল সাফল্য. এর মানে হল দেশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নতির সর্ব্বোচ্চ মানে পৌঁছেছে. আমাদেরও নিজেদের খুশী মনে হয়েছে, কারণ এই সাফল্যের পিছনে আমাদের দেশেরও অবদান রয়েছে. ভারতের ভারী শিল্পের উন্নয়নের প্রাথমিক পদক্ষেপের দিন গুলিতে যেমন আমাদের দেশ সাথী ছিল, তেমনই আজ ভারতের জাহাজ নির্মাতাদের সাফল্যে তাদের রুশী বন্ধুরাও খুশী.

    ভারতের প্রথম আণবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজের প্রথম নিমজ্জনের দিনে বিশাখাপত্তনমের জাহাজঘাটায় নিমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সরকারী অনন্য উত্পাদক সংস্থা "রসআবারোনএক্সপোর্ট" এর প্রধান পরিচালক আনাতোলি ইসাকিন, ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ ত্রুবনিকভ ও অন্যান্য রাশিয়ার প্রতিনিধিরা, যারা এই প্রকল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত. এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়াকে প্রথম আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজ তৈরী করায় সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, "এটি দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার চাক্ষুষ প্রমাণ".

    প্রধানমন্ত্রীর কথামত "ভারতের এই প্রথম আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজ "আরিহন্ত" ভারতকে আস্থার সঙ্গে উদীয়মান সমস্যার মোকাবিলায় সাহায্য করবে". "আমরা কোন আগ্রাসনের নীতি নিতে যাচ্ছি না এবং কাউকে ভয় দেখাতে চাই না, কিন্তু ভারত পরিবর্তমান বর্তমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্ভাবনাও পাল্টাতে বাধ্য", বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী.

ভারত বহু আগে থেকেই নিজেকে শান্তিপ্রিয় এবং দায়িত্বশীল দেশ হিসাবে প্রমাণ করতে পেরেছে. আর এটাই ভারতের সঙ্গে আমাদের সামরিক সহযোগিতার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়. যদিও "আরিহন্ত" সমুদ্রের তলদেশে কাজ করতে যাবে দুই বছর পর, তবুও এরই মধ্যে ভারতের নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজের সেনারা আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজে কাজ করতে শিখে গেছে. ১৯৮৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য ভারতে ভাড়া করা অবস্থায় ছিল সোভিয়েত "৬৭০ – এ" প্রকল্পের ডুবোজাহাজ (ন্যাটো জোটের শ্রেনী বিন্যাসে "চার্লি" নামের প্রকল্পের মতো).

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী আগামী বছর থেকে বহু কাল ধরে ভারতে ভাড়া করা অবস্থায় কাজ করবে রাশিয়ার ডুবোজাহাজ "নেরপা". এই জাহাজে কাজ করে ভারতে নৌ সেনা আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং পরবর্তী কালে নিজেদের বহু ভাবে কর্মক্ষম ডুবোজাহাজ চালাতে পারবে. বর্তমানে ভারতের নিজস্ব ডুবোজাহাজের সংখ্যা ১৬ টি ডিজেল চালিত জাহাজ. যার মধ্যে ১২ টিই সোভিয়েত দেশে তৈরী হয়েছিল. বিগত কয়েক বছরে রাশিয়ার জাহাজ তৈরীর ডকে ভারতের জন্য অনেক গুলি আধুনিক সামরিক অস্ত্র সজ্জিত যুদ্ধ জাহাজ তৈরী হয়েছে.

রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা শুধুমাত্র নৌ বাহিনীর ক্ষেত্রেই হয় নি, বরং অন্যান্য সামরিক ক্ষেত্র, যেমন যুদ্ধ বিমান নির্মাণ, পদাতিক বাহিনীর জন্য সাঁজোয়া গাড়ী ও ট্যাঙ্ক তৈরী ইত্যাদি হয়েছে. কারও জন্য এটা প্রায় গোপন অযোগ্য ঈর্ষা বা অন্য কারো জন্য এটা ক্ষোভের কারণ. কেউ চেষ্টা করেছে ভারত ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাকে দুর্নাম করতে. কিন্তু যেমন কথায় আছে, হাতি চলে নিজের চালে আর কুত্তায় করে ঘেউ ঘেউ. গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকভ যখন ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত বহু দিনের সামরিক সহযোগিতা চুক্তির মেয়াদ আরও দশ বছর বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়েছিল. নিজের প্রথম ভারত সফরে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও সাংবাদিক সম্মেলনে প্রস্তাব জানিয়েছিলেন সামরিক- প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে. "যদিও আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর ও সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতা রয়েছে, তাও আমরা চাইব এই সহযোগিতা শুধুমাত্র "কেনা বেচার" না হয়ে আরও কোন গভীর প্রসারিত সহযোগিতায় যেন পরিণত হয়, যেমন, যৌথ ভাবে উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক অস্ত্রের উত্পাদন", বলেছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. জানা আছে যে, এই রকম একটি প্রকল্প ভারত ও রাশিয়ার যৌথ প্রযুক্তিতে নির্মিত শব্দের চেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন পাখা ওয়ালা রকেট "ব্রামোস". আমরা আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের মতোই বিশ্বাস করি যে, এই রকম উদাহরণ খুব তাড়াতাড়িই অনেক হবে.

ভারতের প্রথম আণবিক শক্তি পরিচালিত ডুবোজাহাজের নিমজ্জন সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে "রসআবারোনএক্সপোর্ট" এর তথ্য দপ্তরের প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো বলেছেনঃ

"আমাদের কর্তারা ভারতের ডুবোজাহাজ বাহিনীর গঠনে অনেক সাহায্য করে থাকেন. আমরা জানি এই সব কাজ অনেক কষ্টসাধ্য, খুবই দামী, কিন্তু এটা এমন কাজ, যা ভারতকে মহান সামুদ্রিক নৌবাহিনীর অধিকারী করে তুলতে পারে ও তার প্রতিরক্ষা আরও সুরক্ষিত করতে পারে. রাশিয়া নিশ্চিত ভাবেই ডুবোজাহাজ তৈরীর ক্ষেত্রে ভারতকে সর্বতোভাবে সাহায্য করবে অভিজ্ঞতা, বিজ্ঞান ও সময় মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জিনিসের সরবরাহ করে. আমাদের সহযোগিতা শুধুমাত্র নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেই হচ্ছে না, আরও বিমান বাহিনী এবং পদাতিক বাহিনীর ক্ষেত্রে ও অব্যাহত রয়েছে. এই কাজ চলছে খুবই ফলদায়ক ভাবে এবং ভবিষ্যতে এর মূল্য অনেক হবে".

<sound>