মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার আশা করা হচ্ছে. মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এই বিষয়ে গত রবিবারে হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি রবার্ট গিবসের ঘোষণায় বলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে.

    আমেরিকার ও রাশিয়ার জনসাধারনের নিরাপত্তা এবং উন্নতির জন্য সম্মিলিত কার্যক্রম আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন রবার্ট গিবস, তিনি এই ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কে দেওয়া মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জোসেফ বাইডেনের সাক্ষাত্কারে দেওয়া বক্তব্যের পর, যেখানে জোসেফ বাইডেন বলেছেন যে, রাশিয়া অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলে দুর্বল হয়ে পশ্চিমকে ছাড় দিতে বাধ্য হবে. জোসেফ বাইডেন ঘোষণা করেছেন, বর্তমানের অর্থনৈতিক সঙ্কট, দেশের লোকসংখ্যার দ্রুত অবনয়ন এবং ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্বল উন্নতি রাশিয়াকে বাধ্য করবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে.

    কিন্তু হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি রবার্ট গিবস ঘোষণা করেছেন যে, অনুমান করা যায় যে, রাশিয়া আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চাইবে দুর্বল বলে নয় বরং জাতীয় স্বার্থে. রবিবারে জোসেফ বাইডেনের সাক্ষাত্কার সম্বন্ধে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র প্রধান হিলারি ক্লিন্টন. উনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, উপরাষ্ট্রপতি যা বলেছেন তা আসলে মনে করেন নি. এই সম্বন্ধে আরও বলেছেন যে, জোসেফ বাইডেন ই নূতন প্রশাসনের প্রথম লোক, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের কথা বলেছিলেন. আর সবমিলিয়ে আমরা চাই রাশিয়া যেন শান্তিপূর্ণ, শক্তিশালী ও উন্নত দেশে পরিণত হয়, বলেছেন হিলারি ক্লিন্টন. বহু রাজনীতি বিশারদই মনে করেন যে, জোসেফ বাইডেন আমেরিকার রাজনীতির সেই সব উচ্চপদস্থ ও ক্ষমতাশালী লোকেদের মতই বলে থাকেন যারা বারাক ওবামার রাজনীতির সাথে একমত নয়. এই বিষয়ে বলেছেন স্ট্র্যাটেজির মান নির্ধারণ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কনোভালভঃ

    "বাইডেন আমেরিকার যে কোন ক্ষমতাশালী দলের মতাদর্শেই বিশ্বাস করতে পারেন, কিন্তু তিনি বারাক ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে রাজী হয়েছেন এবং যতক্ষণ সরকারে আছেন ও ক্ষমতার হিসেবে দ্বিতীয় স্থানটিতে আছেন, ততক্ষণ উনি তাঁর বসের মত বিরুদ্ধ কাজ করতে পারেন না, অন্ততঃ আমেরিকাতে এরকম হয় না. আমেরিকাতে যদি কারও রাষ্ট্রপতির মতের সঙ্গে সহমত না থাকে, তাহলে সে প্রশাসনের কাজে যোগ দিতে যায় না. অন্য কোথাও চলে যায়, এক্ষেত্রে অনেক রকম ব্যবস্থা আছে. আর যদি প্রশাসনের কাজে যোগ দিতে যাও, তবে নিজের মত অনেক দূরে কোথাও নজরের বাইরে পুঁতে রাখো. আর তার ওপর কাজ কর্ম কোন ভাবেই রাষ্ট্রপতির রাজনীতির বিরুদ্ধে যেন না যায়. এটা সম্পূর্ণ ভাবেই অচিন্ত্যনীয় ব্যাপার".

         নিজেদের তরফ থেকে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী সের্গেই প্রিখোদকো আশা প্রকাশ করেছেন যে, জোসেফ বাইডেনের বক্তব্য সমস্ত হোয়াইট হাউসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাধনের কূটনীতির প্রতিফলন নয়, এটা শুধুমাত্র বিশিষ্ট পদাধীকারীর নিজস্ব মত মাত্র.