নেপালের সরকারের অনুরোধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই দেশে তার মিশনের সৈন্য বাহিনীর উপস্থিতির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দিয়েছে. একই সঙ্গে পরিষদ জানিয়েছে যে, মিশনের উপস্থিতি কোন দেশেই অনন্ত কাল ধরে চলতে পারে না.

    এই বিষয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    গত বৃহস্পতিবারের (২৩ শে জুলাই) রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নেপালে মিশনের উপস্থিতির সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সব মিলিয়ে দেখলে মনে হয় এটাই শেষ বারের মত মেয়াদ বৃদ্ধি. এই সম্বন্ধে পরিষদের বক্তব্যে প্রকাশ করা হয়েছে. দলিলের বক্তব্যে লেখা আছে, "রাষ্ট্রসংঘের সৈন্য বাহিনীর মিশনের নেপালে উপস্থিতি একটি সাময়িক প্রচেষ্টা এবং কোন দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত নয় আর তা অনন্তকাল ধরে চলতেও পারেনা". সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পরিষদের নেপাল সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সম্পাদকের বিশেষ প্রতিনিধি কারিন লান্ডগ্রেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, নেপালের সরকার ও পার্টী গুলি শান্তির প্রয়াসে রাজনৈতিক অবস্থার উন্নতি করে মিশনের কাজ যাতে সময়ে শেষ হয় সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন. উনি বিশেষ করে বলেছেন যে, "এর জন্য মাওবাদীদের দলের কত জন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে গঠিত দলে যোগ দেবেন, তার সম্বন্ধে নেপালে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে". কিন্তু মাওবাদী দলের নেতৃত্বের বর্তমানের ধ্বংসাত্মক মনোভাব নিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন.

    মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, রাষ্ট্রসংঘের মিশন নেপালে শান্তি বহাল রাখবার জন্য ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে এসেছিল. হিমালয়ের এই দেশটিতে মিশনের উপস্থিতি এরপর বহু বার বাড়াতে হয়েছে অবস্থা দেখে. শেষ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে দেশের সৈন্য বাহিনীতে মাওবাদী যোদ্ধা দের যোগদানে প্রতিবাদ নিয়ে. এর উত্তরে দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড নেপালের সামরিক দপ্তরের মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেন, যদিও দেশের রাষ্ট্রপতি এই বরখাস্তের প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর পরে প্রচণ্ড তাঁর দল নিয়ে সরকার থেকে সমস্ত মন্ত্রী সমেত বেরিয়ে যাওয়ায় দেশে আবার অশান্তির শুরু হয়. বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল এই ঘটনাকেই দশ বছরের গৃহযুদ্ধের পর শান্তির প্রয়াসের "পথ হারানো" বলে ব্যাখ্যা করেছেন. মাওবাদীরা পার্লামেন্টের কাজ বন্ধ করিয়ে দিচ্ছে এবং একই সাথে দেশের রাস্তাতে মানুষের ঢল নামিয়ে জন বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে. অতিবামেরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের প্রয়োজনীয় দাবী ও সিদ্ধান্ত আদায় করছে.

    নেপালে বিগত কিছু কাল ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজ তন্ত্রের সপক্ষে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন. কয়েকদিন আগে কাঠমান্ডুতে রাজ তন্ত্রের স্বপক্ষে প্রচার রত রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টীর মিটিং হযেছে, যেখানে এই পার্টীর নেতা কমল থাপা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর পার্টী দেশে জন রাজ তন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ও নেপাল কে হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকার করার জন্য সার্বজনিক রেফারেন্ডামের আয়োজন করার স্বপক্ষে দাবী আদায় করবে. বর্তমানের জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কয়েকদিন আগে নেপাল সফরের সময় রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সম্পাদক বান গী মুন নিজে দেখে, নতুন গৃহযুদ্ধের আশংকায় রাষ্ট্রসংঘের শান্তি বাহিনীর এই দেশে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন.

জনৈক ভারতীয় সাংবাদিক এই বিষয়ে বলেছেনঃ

"নেপালের অবস্থার দ্রুত অবনয়ন ঘটছে. কিন্তু এখনো সময় আছে এই দেশকে নতুন গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করার. নতুন ট্র্যাজেডি হতে দেওয়া যায় না. পরস্পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে একটা সহমতে আসা খুব প্রয়োজন. নেপালের সরকারের গঠন ঠিক করার দায়ভাগ অবশ্যই এই দেশের জনগনের. কিন্তু তা হওয়া উচিত্ শান্তি মতে, রেফারেন্ডামের মধ্য দিয়ে. আশা করা যাক রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত মতে পাঠানো মিশন এই দেশে বিপজ্জনক অবস্থাকে আর বাড়তে দেবে না এবং নেপালের সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে প্রথমত শান্তির প্রয়াস সফল করবে এবং এই হিমালয়ের দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে". (

0sound

)