পাকিস্তানের নেতৃত্ব সন্ত্রাসের মোকাবিলায় কঠোর ও নিশ্চিত পদক্ষেপ নেবে এই আশাই করে মস্কো. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য বিভাগের প্রতিনিধি আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো এই ঘোষণা করেছেন. উনি রাশিয়ার রাজধানীতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই বক্তব্য প্রকাশ করেছেন.

    এই বিষয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    মস্কোতে পাকিস্থানের পরিস্থিতি ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় টিকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে. এই দুই দেশের সঙ্গেই রাশিয়া নিকট সম্পর্ক রেখে চলে. বিশেষত ভারত রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগী দেশ. এছাড়াও রাশিয়ার উদ্যোগে গঠিত আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষকের পদেও এই দুই দেশ রয়েছে.

    ভারত পাকিস্থান সম্পর্কের অবনয়ন, যা এর আগে বহু বছর ধরে ধীরে হলেও উন্নতির পথে চলেছিল, তা গত বছরের মুম্বাই হামলার পর এক অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে. এই ঘটনায় মস্কো অবশ্যই উদ্বিগ্ন এবং দুঃখিত হয়েছিল. সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ভারত পাকিস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়. রাশিয়া নিজের দিক থেকে এই সম্পর্কের উন্নতির ধারা বজায় রাখার জন্য সব রকমের প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে মুম্বাই হামলার পর ভারতের প্রধান মন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ও পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারীর প্রথম সামনা সামনি দেখা হয়েছিল রাশিয়ার ইকাতেরিনবুর্গ শহরে সা.স.স. সম্মেলনে যোগ দিতে এসে. বলা যেতে পারে, এর পরে ইজিপ্টের শারম-এল-শেখ শহরের নির্জোট আন্দোলনের শীর্ষ বৈঠকের পটভূমিতে দুই দেশের প্রধান মন্ত্রীদের বৈঠকও হতে পেরেছিল এই রাশিয়ার বৈঠকের সূত্র ধরেই এবং এখানে দুই দেশই ভবিষ্যতের সাক্ষাত্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে সহমতে আসতে পেরেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি অবশ্য এই বিষয় টিকে ভাল লক্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন. রাশিয়া আরও ভাল ভাবে নিয়েছে পাকিস্থান সরকারের মুম্বাই হামলার বিষয়ে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও আদালতে তোলার বিষয় টিকে. এই বিষয়টি ভারত বিশেষ করে চেয়েছিল এবং পাকিস্থানের এই ক্ষেত্রে সহমত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্থান নিজের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে. নেস্তেরেঙ্কো বলেছেন, লস্কর এ তৈবা দলের চরম পন্থীরা পাকিস্থানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের মুম্বাইতে পাঠিয়েছিল এবং এরকম আরও অনেক ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী পাকিস্থানের ভিতরে তৈরী হয়েছে. কাশ্মীরের চরমপন্থীরাও পাকিস্থানে ঘাঁটি বানিয়েছে, যেমন বানিয়েছে তালিবেরা. ভারত পাকিস্থানের কাছে এই সব রকম সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছে আর এই বিষয় টাই দুই দেশের সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে.

    পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো বলেছেনঃ

    "রাশিয়া ভারত- পাকিস্থান সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত রকম বিতর্কিত বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সহমতে পৌঁছনোর পক্ষে. বর্তমানে পাকিস্থানের মাটিতে যে সব সন্ত্রাসবাদীরা তৈরী হচ্ছে তাদের অন্যতম লক্ষ্যই ভারত. আমরা আশা করি এই সমস্যার মোকাবিলায় পাকিস্থানের নেতৃত্ব কঠোর ও নিশ্চিত ভূমিকা নেবে". (sound)