নেপালে বিগত কিছু কাল ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে রাজ তন্ত্রের সপক্ষে জনগণের মানসিকতার পরিবর্তন. কয়েকদিন আগে কাঠমান্ডুতে রাজ তন্ত্রের স্বপক্ষে প্রচার রত রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টীর মিটিং হযেছে, যেখানে এই পার্টীর নেতা কমল থাপা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর পার্টী দেশে রাজ তন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ও নেপাল কে হিন্দু রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকার করার জন্য সার্বজনিক রেফারেন্ডামের আয়োজন করার স্বপক্ষে দাবী আদায় করবে.

    এই বিষয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    নেপালের ২৮০ বছরের রাজ তন্ত্রের পতন হওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই দেশটি যেন পথ হারিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে. পার্লামেন্টের এক তৃতীয়াংশের ও বেশী সদস্য সমেত মাওবাদীদের সংযুক্ত সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে দেশে অন্তর্রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে. বর্তমানের প্রধান মন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের মতে বিগত দশ বছরের যুদ্ধের শেষে যে শান্তির প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, তা পথ হারিয়েছে. মাওবাদীরা পার্লামেন্টের কাজ বন্ধ করিয়ে দিচ্ছে এবং একই সাথে দেশের রাস্তাতে মানুষের ঢল নামিয়ে জন বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে. অতিবামেরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের প্রয়োজনীয় দাবী ও সিদ্ধান্ত আদায় করছে. কয়েক দিন আগে মাওবাদীরা দেশে রাষ্ট্রপতি শাসন ঘোষণা করার কথা বলেছিল. তাদের প্রস্তাবিত দেশের রাজনৈতিক গঠন অনুযায়ী, যে পার্টী দেশে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তাদের নেতা সরাসরি দেশের সরকারের প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হবে. বোঝাই যাচ্ছে এই পার্টী হবে মাওবাদী পার্টী. সরকারের মন্ত্রী পদ গুলি পার্লামেন্টে নির্বাচিত দল গুলির আসন সংখ্যার অনুপাতে বিলি করা হবে. এখানেও বেশী হবে অতিবাম মাওবাদী মন্ত্রীর সংখ্যা. অর্থাত্ তারা চাইছে দেশের সব ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে. আর তা একবার হলেই অন্যান্য দের ভয় যে, নেপাল একটি স্বৈর তন্ত্রী দেশে পরিণত হবে, যেখানে অন্য ধারণা ও দল গুলিকে নিষ্ঠুর ভাবে দমন ও ধ্বংস করে ফেলা হবে.

    এরকম ভবিষ্যত বিশেষত ভয় ধরিয়ে দিয়েছে পুরনো শাসন ব্যবস্থার সমর্থকদের মনে. একই সঙ্গে তাদের মত অনুযায়ী বর্তমান অবস্থায় রাজ তন্ত্রের প্রত্যাবর্তন সম্ভব. কমল থাপা প্রজাতন্ত্র পার্টীর মিটিংয়ে এই কথাই বলেছেন. রাজ তন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের জন্য এই পার্টীর দেড় হাজার সমর্থক সারা দেশে জনগনের স্বাক্ষর জোগাড় করতে বেরিয়েছেন সার্বজনিক রেফারেন্ডামের আয়োজনের সমর্থনে.

    নেপালের অবস্থা মনোযোগের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলি সমীক্ষা করছে, বিশেষত ভারতে ও চীনে. ভারতীয় এক সাংবাদিক এই বিষয়ে বলেছেনঃ

    "নেপালের অবস্থার দ্রুত অবনয়ন ঘটছে. কিন্তু এখনো সময় আছে এই দেশকে নতুন গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করার. নতুন ট্র্যাজেডি হতে দেওয়া যায় না. পরস্পর বিরোধী দলগুলির মধ্যে একটা সহমতে আসা খুব প্রয়োজন. নেপালের সরকারের গঠন ঠিক করার দায়ভাগ অবশ্যই এই দেশের জনগনের. কিন্তু তা হওয়া উচিত্ শান্তি মতে, রেফারেন্ডামের মধ্য দিয়ে. ভারতের এবং আমার মতে চীনেরও প্রয়োজন প্রতিবেশী এই দেশ টিতে শান্তি ও গণ তন্ত্রের পথে উন্নতি আসুক. এদের কারোরই নেপালে নতুন গৃহযুদ্ধের প্রয়োজন নেই. নেপালে স্থিতিশীলতা ও বহু বছরের পুরনো প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি নির্জোট মনোভাব, ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ হিমালয় পর্বতমালা অঞ্চলের দেশগুলির স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের আবহাওয়া তৈরী করতে পারে. ভারত ও চীনে এটি খুব ভালই বুঝতে পারে".

<audio>