আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই মনে করেন যে, তাঁর দেশে পশ্চিমের দেশ গুলির নীতি বদলের সময় হয়েছে. তাঁর মতে তালিবান আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসা দরকার. এক্ষেত্রে তিনি ভবিষ্যতের বৈঠকে তালিব নেতা মোল্লা ওমারের যোগ দেওয়াকেও সম্ভাব্য বলে মনে করেছেন. গত শনিবারে লন্ডনের সাপ্তাহিক পত্রিকা সানডে টাইমসের সাংবাদিক দের দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেছেন বলে প্রকাশিত হয়েছে.

আফগানিস্থানের রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণা, যারা আফগানিস্থানের অবস্থার দিকে চোখ রেখেছেন, সেই সমস্ত বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষণ কারী দের মধ্যে বলা যাক এক না বোঝার অবস্থা সৃষ্টি করেছে. তালিবান আন্দোলন বা তালিবেরা আসলে কারা এই প্রশ্নের উত্তর আজ সবার জানা. তালিবেরা গোপন করে না যে, তাদের নেতারা শরিয়তের শাসনাধীন এক অখণ্ড রাজ্যের স্বপ্ন দেখে, যেখানে আফগানিস্থান, পাকিস্থান ছাড়াও উজবেকিস্থান, তাজিকিস্থান এমনকি রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের রাজ্য গুলিকে এক সাথে করে ওয়াহাবী গোঁড়া মুসলিম সুন্নী রাষ্ট্রের সৃষ্টির. এই উন্মাদ ধারণা কখনো বাস্তবে যে পরিণত হতে পারে না সেটা অন্য বিষয়, কিন্তু এই তালিবান আন্দোলন, যা আজকের দুনিয়াতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াতে নানা রকম চরমপন্থী দলের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের প্রচার করছে ও বাইরে থেকে চরমপন্থী ধর্মীয় সংস্থার থেকে আসা অর্থ ও সামরিক অস্ত্রের সাহায্যে সন্ত্রাসের সৃষ্টি করছে, তা যে আফগানিস্থানের জন্যও ভয়ঙ্কর, তা কারও অজানা নেই.

তাহলে বিষয়টা এই রকম দাঁড়িয়েছে যে, কি বিষয়ে তালিবদের সঙ্গে আলোচনাতে বসা যেতে পারে, সেটার কোন ঠিক নেই, কারণ ওদের একমাত্র অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা যেতে পারে, কিন্তু ওরা কি তাতে রাজী হতে পারে বলে মনে হয়.

আফগান সরকারের সঙ্গে সহমতে এসে বহু দেশ আজ তালিবদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছে. রাশিয়া ও আরও কয়েকটি সা.স.স. দেশ এই কারণে অসামরিক পণ্য পরিবহনের জন্য নিজেদের বায়ু সীমা লঙ্ঘন করতে দিতে ও রাজী হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সাথী দেশ গুলিকে. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অনেক কিছু করা হচ্ছে, যাতে এই প্রচুর দুর্দশাগ্রস্থ দেশে শেষ অবধি একটু শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে. এই অবস্থায় তালিবদের সাথে আলোচনায় বসতে চাওয়া কি পিঠে আঘাত করার মতো হল না? এই বিষয়ে, পূর্ব দেশগুলির ও আফগানিস্থান সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেনঃ

"দেশের প্রাত্যহিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনে তালিব বিরোধী জোট আফগানিস্থানে কোন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারছে না. আর আলোচনার দরকার আছে এ কথা কারজাই এর আগেও অনেকবার বলেছেন. এটা ওর প্রাকনির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে. হতেই পারে যে, এই কথা বলে কারজাই চরমপন্থী ভোটার দের দলে টানতে চাইছেন. এটা তালিব বিরোধী জোটের পিঠে আঘাত বলতে আমি রাজী নই, কারণ আমেরিকার প্রশাসনের আফগানিস্থান সম্বন্ধে নেওয়া কূটনৈতিক ধারায় এর কোন প্রভাব নেই".

যোগ করা যেতে পারে যে, রাশিয়ার এই বিশেষজ্ঞের কথার সঙ্গে তাঁর বহু সহকর্মীই একমত হতে পারেন নি. এখানে আমেরিকার প্রশাসনের নীতির কথা হচ্ছে না, বরং তালিবেরা যাতে এই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় কোন বাধা সৃষ্টি না করতে পারে তার কথাই হচ্ছে. কিন্তু তালিবেরা কখনোই তাতে রাজী হতে পারে না, কারণ তাদের চাই ক্ষমতা ও ক্ষমতার থেকে উদ্ভূত যাবতীয় সম্ভাবনা.