ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ তাঁর শারম-এল-শেখ এর নির্জোট আন্দোলনের শীর্ষ বৈঠকের বক্তৃতায় সমস্ত অংশগ্রহণ কারী দের সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে আহ্বান করেছেন. "সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিতে হবে, সন্ত্রাসবাদীদের জন্য কোন নিরাপদ জায়গা যেন না থাকে"- বলেছেন তিনি.

এই বিষয়ে বিশদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

অনেকেই ভারতের প্রধান মন্ত্রীর এই আহ্বানকে বিশেষত পাকিস্থানের উদ্দেশ্য করা বলে ধরে নিয়েছেন. সম্ভবতঃ এই কারণে যে, ঘোষণাটি করা হয়েছে দুই দেশের প্রধান মন্ত্রী দের শারম-এল-শেখ এর বৈঠকের অব্যবহিত পূর্বে. মুম্বাই হামলার পর, দুই দেশের সম্পর্কের অবনয়ন হয়েছে এবং ডঃ মনমোহন সিংহ ও ইউসুফ রাজা গিলানি এই সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন.

কিন্তু সন্ত্রাস বাদের সমস্যা আজ বিশ্বের সব দেশেই. ভারত, পাকিস্থানের এটা সমস্যা ঠিকই কারণ দুটি দেশই সন্ত্রাস বাদী দের তাড়নায় অস্থির. তার ওপর মুম্বাই এর সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্থানের সরকারের নাকের ডগায় লস্কর-এ-তৈবার ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হামলা করেছে এবং সেটা আজ প্রমাণিত. ভারতে মনে করা হয় পাকিস্থান সরকার সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ে চিন্তা করাই ছেড়ে দিয়েছিল. পাকিস্থান অবশ্যই তা মানতে রাজী হচ্ছে না তাই দুই প্রধান মন্ত্রীকে শারম-এল-শেখের সাক্ষাত্কারে এই বিষয়ে একটা রফা করতেই হবে.

দুটি দেশই যেহেতু সন্ত্রাসবাদের শিকার তাই এর প্রতিকারও করতে হবে একসাথে. পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিমের বিশাল পুস্তুন প্রজাতির অধিকৃত অঞ্চলে কেন্দ্রীয় শাসনের কোন চিহ্নই চোখে পড়ে না আর এখানেই ঘাঁটি গেড়েছে আল কায়দা, তালিবেরা. তারা এখানে অবাধে সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির বানাচ্ছে, সামরিক ঘাঁটি তৈরী করছে আর তাদের কাজকর্মে দেশের আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অবস্থা অশান্ত হয়ে উঠেছে, দেশের ঐক্য নষ্ট হচ্ছে.

ভারতেও ঐসলামিক চরম পন্থীরা পাকিস্থান থেকে ঢুকে পড়ে এই দেশের সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে. মাওবাদীরা পূর্বাঞ্চলে মাথা চাড়া দিয়েছে. নেপালের সীমান্ত থেকে শুরু করে দক্ষিণের রাজ্য গুলি পর্যন্ত থাবা বিস্তার করেছে তারা.

ডঃ মনমোহন সিংহ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদীদের কোন বিশেষ লক্ষ্য নেই, তারা কোন সামাজিক দল বা ধর্মীয় সংস্থার লোকও নয়. চরম পন্থার এটা শেষ ধাপ আর তার সঙ্গেই করতে হবে যুদ্ধ.

মস্কোতে ভারতের প্রধান মন্ত্রীর আহ্বানকে সমর্থন করা হয়েছে কারণ ইজিপ্টের নির্জোট আন্দোলনের শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে পাঠানো বার্তায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও সকল সদস্য দেশকে একসাথে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে আহ্বান করেছিলেন.