বর্তমানের আমেরিকার প্রশাসন অবশেষে তাদের পররাষ্ট্র নীতির মুখ্য বিষয় গুলি সম্বন্ধে খোলসা করে বলেছে. ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপদেষ্টা পর্ষদের অধিবেশনে প্রশাসনের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন এই বক্তব্য পেশ করেছেন.

    বিগত আট বছরের জর্জ বুশের প্রশাসনিক দলের পরিচালিত পররাষ্ট্র নীতির থেকে পরিষ্কার আলাদা করে যে নীতির কথা তিনি বলেছেন তাতে আমেরিকার রাজনীতির মুখ্য বিষয় গুলিতে পার্থক্য চোখে পড়ার মত. এই বিশিষ্টতার কারণে বহু সংবাদ মাধ্যমের এই নীতিকে "ক্লিন্টনবাদ" বলে অভিহিত করার ভিত্তি আছে.

         প্রথমেই বলে নেওয়া যাক যে, আমেরিকার বর্তমানের বিশ্বে তাদের অবস্থান বা লক্ষ্যের পূণর্মূল্যায়নের কোন কথা এতে নেই. বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও চায় বিশ্বের নেতৃত্বে আসীন থাকতে. কিন্তু তারা তাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে মাধ্যম ও ধরনের পরিবর্তনে তৈরী. আমেরিকার কূটনৈতিক নেত্রী নির্দিষ্ট করে এই বিষয়েই আলাদা করে বলেছেন যে, প্রশ্ন এক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব সমাজকে নেতৃত্ব দেবে কি না তা নয়, প্রশ্ন হল কিভাবে এটা করবে.

    যদি শ্রীমতী ক্লিন্টনকে বিশ্বাস করতে হয়, বারাক ওবামার প্রশাসনের কোন ইচ্ছে নেই "ঠাণ্ডা লড়াই" এর যুগে টিকে থাকার. উনি পৃথিবীর বর্তমান সমস্যা গুলির মোকাবিলায় বহু প্রসারিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত, নতুন সহযোগীদের অন্তর্ভুক্তি ও পুরনো সহযোগীদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করে. আর প্রথমতঃ এক্ষেত্রে যে বিষয় গুলিকে মুখ্য ভাবে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধ, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যবস্থা, আবহাওয়ার পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যার নিরসনের প্রয়াস ও অন্য কয়েকটি বিশিষ্ট সমস্যার. বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন রাশিয়া, ভারত, চীন ও ব্রাজিলের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিকে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের মহা সচিবের কথায়, এই দেশ গুলি বর্তমানের বিশ্ব রাজনীতিতে বিশ্বের সমস্যার নিরসনের তালিকায় আমেরিকার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগী দেশ হওয়া উচিত্.

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ নাদেঝদা আরবাতোভা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বারাক ওবামা তাঁর কয়েক দিন আগের মস্কো সফরের সময় রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্ক সম্বন্ধে এরকমই কথা বলেছিলেন.

    "এটার আমেরিকায় দেওয়া নাম সম্পর্কের পুনরুদ্ধার. আরও বাড়িয়ে বলতে গেলে এটা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবস্থার পূণর্মূল্যায়ন. সংযোগের বিন্দুর খোঁজ এবং সেই সব অবস্থা থেকে বেরোনোর পথ দেখা যেখানে আমাদের অবস্থান গত দূরত্ব রয়েছে".

    বাস্তবের দিকে নজর রেখেই এই সব কথা বলা হয়েছে আর এই পথে চলার প্রথম ফল এখনই দেখা যাচ্ছে. শুধু একটা উদাহরণ দেওয়া যাক. পারমানবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ, যদি রিপাব্লিকান দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকত তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে এই চুক্তি হওয়ার আশার সমাধি হত. আর বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া এর মধ্যেই নূতন চুক্তির কাঠামোতে সংখ্যা নিয়ে মীমাংসায় পৌঁছেছে এবং নূতন চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়েছে.

    হিলারি ক্লিন্টন হেমন্ত কালে মস্কো আসছেন. তিনি দুই দেশের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও দিমিত্রি মেদভেদেভের মস্কোর সাক্ষাত্কারের সময় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত দ্বিপাক্ষিক পর্ষদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন.