রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আশাবাদী.অতিতের সম্পর্ককে আরও সুগঠিত করতে দুটি দেশের রাষ্ট্র প্রধানই ঐক্যমতে পৌছায়.আর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মস্কো সফরে মূলত এ বিষয়টিতেই দুই নেতা সম্মতিসূচক কথা বলেন.
দুই নেতার ঐ সাক্ষাত ছিল ত্রক যুগান্তকারী অধ্যায়.দ্বিপাক্ষীক সম্পর্ক উন্নয়নে এ সফরের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে.রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যকার ঐ বৈঠকে দুই নেতাই সম্পর্ক উন্নয়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন.সর্বশেষ বছর গুলোতে দুটি দেশের মধ্যেই যে বিরোধপূর্ন সম্পর্ক বজায় ছিল সে বিষয়ে তাদের আলোচনায় উঠে আসে.
আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেন,আমি বলতে চাই যে আমাদের ত্রই দুটি দেশেরই রয়েছে নিজস্ব চিন্তাধারা ও পরিক্লপনা .কিন্তু তারপরও ত্রকই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনেও ভূমিকা রাখা দরকার. বিশেষ করে বিশ্বায়নের এ সময় পৃথিবীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল রুপে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে ত্রই দুটি দেশের.আমার বিশ্বাষ যে আমাদের আলোচনা যথেষ্ট ফলপ্রসু হয়েছে ত্রবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে.মেদভেদেভ বলেন, বিশ্বে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি যদি ত্রই দুটি দেশই কাটিয়ে উঠতে পারে তাহলে তা শুধু রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না বরং অন্যান্য দেশও তার সুফল পাবে.বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ.
মস্কো সম্মেলনে দুই দেশের প্রসিডেন্টদ্বয় যে ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তাতে আগামী সময়ে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জার সংখ্যা কমানোর কথা নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে. বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলায় সহযোগিতা, আফগান পরিস্থিতি ও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনা ইত্যাদি যে সমস্ত বিষয় গুলি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সময় তোলা হয়েছে তার সব গুলিকেই জরুরীত্ব বিচারে ছাপিয়ে গেছে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জার সংখ্যা কমানোর ঘোষনাপত্র স্বাক্ষর.টানা সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে অনুষ্ঠিতব্য ঐ বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক ব্যাবসা-বানিজ্য উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেন .
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সফর সম্পর্কে বিশ্লেষন করেছেন রাজনীতিবিদ ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ. তিনি বলেন “এই সফরের ফল রাশিয়া ও আমেরিকার দুই পক্ষেরই সমস্ত অপেক্ষা কে ছাপিয়ে গেছে. শুধু কয়েক দিন আগেই নয়, এই কয়েক ঘন্টা আগেও যে বিষয় গুলি নিয়ে যত দূর ধারণা করা যেতে পারত তার থেকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. দেখাই যাচ্ছে যে, ওবামা এবং মেদভেদেভ ঠাণ্ডা যুদ্ধের পরবর্তী কালের রাজনীতিবিদ এবং এর আগের বহু প্রচলিত নিয়ম ও বাধা ভেঙে বেরোতে পেরেছেন. এই সফরে নিশ্চয়ই রাশিয়া ও আমেরিকার সমস্ত বিরোধের সমাধান করেনি, কিন্তু এটা অবশ্যই একটি অন্যতম পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পূণরুদ্ধার করার".
যদি ওবামার ত্রই মস্কো সফরের কার্য়ক্রমগুলি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় তবে তার এ সফর ঐতিহাসিক সফর হয়ে ইতিহাসে স্থান পাবে.  (sound)