পাকিস্তানের সামরিক অধিনায়কমণ্ডলী ঘোষণা করেছে যে, উদ্বাস্তুরা সোয়াত উপত্যকায় নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারে. এ সম্পর্কে বিশেষ করে বলেছেন পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অধিনায়ক আশফাক কিয়ানি. আমাদের ভাষ্যকার গেওর্গি ভানেত্সোভ এ প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন:

   আশফাক কিয়ানির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, তালিবদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পরিসরের সামরিক অভিযানের ফলে সোয়াত উপত্যকায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে প্রধান প্রধান বসতি কেন্দ্র ও মোটর-পথ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে. তালিবদের পরিবহণ পরিকাঠামো, তাদের তলিমের শিবির ধ্বংস করা হয়েছে, তালিবদের নেতাদেরও ধ্বংস করা হয়েছে. প্রধান অধিনায়ক তাছাড়া উল্লেখ করেন যে, কর্তৃপক্ষ গ্যাস ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার বেশির ভাগ অংশ ইতিমধ্যেই মেরামত করেছে, এবং ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাও কাজ করছে.

   বর্তমানে পাকিস্তানের জন্য উদ্বাস্তুদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা অতি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য. প্রায় ৩০ লক্ষ লোক নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে গেছে. জনসাধারণের এমন অবস্থা বৃটিশ ভারতের বিভাজনের সময় থেকে আর ঘটে নি. তাদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, যা পাকিস্তানের নেই. দেশকে, সর্বপ্রথমে, আন্তর্জাতিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে. তাছাড়া, তালিবদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর সাফল্য সত্ত্বেও লড়াই শেষ হয় নি. প্রস্তুতি চলছে অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ের,দক্ষিণ ও উত্তর ওয়াজিরিস্তান আক্রমণের, যা তালিবদের নেতা বৈতুল্লা মেহসুদের রক্ষিত-কেন্দ্র. বৈতুল্লা মেহসুদ কর্তৃপক্ষকে প্রত্যুত্তরী ক্রিয়ার হুমকি দিচ্ছে. পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মঘাতী জঙ্গীদের দ্বারা আয়োজিত সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়া ঘন ঘন ঘটছে. মার্কিনী বৈমানিকহীন বিমানের উড়ানও চলছে, যার ফলে নিহত হচ্ছে, সর্বপ্রথমে, শান্তিপূর্ণ অধিবাসীরা, তালিবরা নয়, নিশ্চয়োক্তি করা হচ্ছে ওয়াশিংটনে. তা জনসাধারণের অসন্তোষ জাগাচ্ছে, কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা বিফল করছে, অথচ এ প্রচেষ্টা তালিবদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য নির্দেশিত.

   তবুও, পাকিস্তানে অবস্থার উন্নতি হওয়ার আশা আছে. সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এ সম্পর্কে বলেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জার্দারি. পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি বলেন যে, দেশের কর্তৃপক্ষ আগের নীতি পুনর্বিবেচনা করেছে এবং দেশের ভূভাগে অবস্থিত জঙ্গীদের প্রতিবেশী ভারতের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সহকারী শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা বর্জন করেছে. জার্দারির কথায়, মুখ্য বিপদের স্থিতি ভারত থেকে সরে এসেছে আভ্যন্তরীন শত্রুর উপর, যার প্রতিনিধিত্ব করছে রাডিক্যাল মুসলমান দলগুলি. লোকে এখন চরমপন্থীদের, আগের মতো, সমর্থন করছে না, মনে করেন রাষ্ট্রপতি. আর পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রত্যেক কুকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত. আমি চাই, লোকে যেন আমাকে মনে রাখে এমন ব্যক্তি হিসেবে, যিনি নতুন পাকিস্তান গঠন করেছেন, যেখানে জঙ্গীদের স্থান নেই, যদিও আমি বুঝি যে তাদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়া সম্ভব হবে না, জোর দিয়ে বলেন আসিফ আলি জার্দারি.