রাশিয়া সফরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা আফগান মাদক দ্রব্য সম্বন্ধে সমস্যার কথা তুলেছেন. অংশতঃ দুই রাষ্ট্রপতিই একমত যে, এই সমস্যা রাশিয়ার জন্য বিপজ্জনক. রাশিয়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান ভিক্তর ইভানভের কথা মত সত্যিই রাশিয়ার নেশা গ্রস্থ লোকেরা সাধারণত আফগানী মাদক দ্রব্যই ব্যবহার করে থাকে. রাশিয়াতে প্রতি বছর নেশার কারণে মারা যায় প্রায় তিরিশ হাজারেরও বেশী লোক. কিন্তু আফগানী মাদক দ্রব্য – এটা শুধু রাশিয়ার জন্যই বিপজ্জনক নয়, ইউরোপ ও এর একটি বিরাট ঠিকানা. আফগানী মাদক দ্রব্য পাচার হয় চীনে, পাচার কারীরা ইরান, ইরাক, তুরস্ক ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলি কে ব্যবহার করে রপ্তানিতে. আফগানী কৃষকেরা যারা এই আফিমের চাষ করে তারা এর দাম পায় নাম মাত্র. আর ভিক্তর ইভানভের কথায় বড় টাকা পয়সা সব পায় পাচার কারীরা, যারা বসে আছে সৌদি আরবে বা সম্ভবতঃ সংযুক্ত আরব শাহী তে. এই ভাবেই আফগানিস্থানের মাদক পাচারে অনেক বেশী করে দেশ ঢুকে পড়েছে. তার মধ্যে নিশ্চিত করে বলা যায় না যে, এদের জন্য কোন কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপের সহযোগী দের পক্ষ থেকে, যারা আফগানিস্থানে সৈন্য বাহিনী পাঠিয়েছে. কেন, তার কারণ সম্বন্ধে রেডিও রাশিয়ার সাক্ষাত্কারে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেনঃ

"আমরা দেখতে পাচ্ছি পশ্চিমের বিশ্ব আফগানী মাদক দ্রব্য পাচার থেকে নিজেদের আলাদা করে দেখতে চাইছে. শুধু নিজেদের আড়াল করাই নয়, চাইছে এটাকে সরিয়ে পুঞ্জীভূত করতে সেই ওখানে, যেটাকে মধ্য ইউরোপ ও এশিয়ার প্রান্তর মনে করা যেতে পারে, ইউরোপের সীমানা থেকে দূরে, বিশেষত রাশিয়া, চীন ও ইরানে. অর্থাত্ সেই দেশ গুলিতে যাদের পশ্চিমে মনে করা হয় তাদের ভূ রাজনৈতিক প্রতিযোগী. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তে আফগানী মাদক পাচার হয় না, তাই ওদের মাথাব্যথা কম. যখন কলম্বিয়ার মাদক পাচারে আমেরিকার সর্বনাশ হতে চলেছিল তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমতা ও অর্থ দুটিই খুঁজে পেয়েছিল কলম্বিয়ার ধনী দের সত্পথে আনতে. তারা সৈন্য বাহিনী পাঠিয়ে দিয়েছিল আর তাতে কলম্বিয়ার মাদক পাচারের মাফিয়া পুরো ধ্বংস না হলেও রীতিমত জব্দ হয়েছিল. আফগানী মাদক সম্বন্ধে বলতে গেলে, স্বাধীন কোসভা রাষ্ট্রের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না. এই কৃত্রিম রাষ্ট্রটি তৈরী হয়েছে পশ্চিমের সহায়তায়, আর আজকের ইউরোপে তা পরিণত হয়েছে ট্রয়ের ঘোড়াতে. কোসভার পাচার কারীরা তুরস্কের চোরাচালান কারী দের হাত থেকে এই ব্যবসা কেড়ে নিয়েছে, ইউরোপে মাদকদ্রব্যের হাত ধরে ঢুকছে মোটা টাকা ওলা চোরাচালান কারী দের প্রভাব. আমি এটা এই জন্যই বলছি যাতে মানে বোঝাতে পারি যে, আফগানিস্থানের মাদক দ্রব্য ও তার চোরাচালান কারী দের সঙ্গে সংগ্রামে অনীহা আর এই বিষয় টাকে নিজেদের ভূ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাওয়া রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার পরিচয়. অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে, আজকের দিনে অস্ত্রের বেআইনী বিক্রয় বা বেআইনী সীমান্ত পার হয়ে যাওয়া ভিনদেশী নাগরিক দের চেয়ে আফগানী মাদকদ্রব্যের চোরাচালান কারী দের সমস্যা বেশী ভয়ঙ্কর. যদি এটা চলতে দেওয়া হয়, তবে খুব শীঘ্রই সারা বিশ্বে এই ব্যবসা ছড়িয়ে যাবে. বোঝাই যাচ্ছে একা আফগানিস্থান এর সঙ্গে লড়তে পারবে না, সব দেশেরই সাহায্য চাই, আর সবার আগে তাদের যারা আফগানিস্থানে যুদ্ধে ব্যস্ত".