ন্যাটো জোটে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দমিত্রি রগোজিন ইতার-তাস সংবাদ সংস্থাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এ কথা সমর্থন করেছেন যে, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনায় রাশিয়া উত্তর আটলান্টিক জোটকে সহায়তা করে যাবে. তবে সেই সঙ্গে দমিত্রি রগোজিন এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, ন্যাটো জোট নিজে যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থার সাথে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে. এই যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থায় রয়েছে রাশিয়া, চারটি মধ্য এশীয় দেশ, যার মধ্যে দুটি দেশের সীমানা আছে আফগানিস্তানের সাথে, এবং আরও কয়েকটি সোভিয়েত-পরবর্তী প্রজাতন্ত্র. এর কয়েক দিন আগে ন্যাটোর প্রধান সচিব ইয়াপ দে হুপ স্খেফ্ফার কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানাতে বলেছেন যে, জোটের সশস্ত্র বাহিনীর চাপে তালিবরা এবং অন্যান্য চরমপন্থীরা আফগানিস্তান থেকে মধ্য এশিয়ায় সরে আসতে পারে. আর তারপর তিনি বলেন যে, ন্যাটো এ ব্যাপারে কিছু করতে পারবে না. তাহলে, এমন ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থার সাথে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করছে কেন, যখন এ সংস্থা আফগানিস্তানের তরফ থেকে আসা বিপদ, সেই সঙ্গে মধ্য এশিয়ার জন্য বিপদ নিবারণের উদ্দেশ্যে গোটা একসারি ফলপ্রসূ উপায় প্রস্তাব করছে? রেডিও রাশিয়ার জন্য প্রদত্ত ইন্টারভিউতে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেন:

   -সত্যিই, ন্যাটো জোট সর্বশক্তিতে যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থার সাথে শরিকানা এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করছে. আমার মতে, এ নীতি সচেতন ও সুপরীক্ষিত চরিত্র ধারণ করে. উপরন্তু, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদী বিপদ নিবারণের জন্য প্রচেষ্টা সমাবেশের প্রত্যক্ষ প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও. আর এমন প্রচেষ্টা সমাবেশে বাস্তবিকপক্ষে ন্যাটো জোটের আগ্রহ থাকা উচিত, তা সত্ত্বেও এটা ঘটছে. ন্যাটো জোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করা যায় সর্বপ্রথমে এর দ্বারা যে, যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থায় যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে রাশিয়া. আর সবকিছু বিচার করে মনে হয়, ন্যাটো জোটের তা পছন্দসই নয়. সাধারণভাবে, এ গোটা অঞ্চলে রাশিয়ার ভূমিকা বৃদ্ধিও তার পছন্দ মতো নয়. সেইজন্য ন্যাটো জোট যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থার সাথে শুধু সহযোগিতা করতেই অস্বীকার করছে না, এ সংস্থাকে অস্থিতিশীল করতেও চেষ্টা করছে. উত্তর আটলান্টিক জোট প্রত্যেকটি মধ্য এশীয় রাষ্ট্রের সাথে নিজের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিকাশের উপর জোর দিচ্ছে. আর ন্যাটোর জন্য যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থার যেন অস্তিত্বই নেই. কার্যক্ষেত্রে তা তালিবদের এবং তাদের মিত্র সন্ত্রাসবাদী সংস্থাগুলির, যেমন, উজবেকিস্তানের ইস্লামিক আন্দোলনের বিরোধিতা করা শক্তিগুলিকে বিভাজিত করে. এমন অবস্থান গঠনমূলক নয়. জোট যদি ভবিষ্যতেও এ নীতি চালিয়ে যায়, তাহলে সদর্থক কোনো ফল পাওয়া যাবে না. ন্যাটো জোট ইতিমধ্যেই নিজের অক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, শুধু নিজস্ব সুযোগ-সম্ভাবনায় তালিবদের সন্ত্রাসবাদী বিপদের উচ্ছেদের ক্ষেত্রে.

   সবশেষে, উদ্ধৃত করতে চাই ন্যাটো জোটে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দমিত্রি রগোজিনের বক্তব্য. তিনি বলেছেন, ন্যাটো জোটে যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থাকে বিবেচনা করা হয় মস্কোর প্রভাবের ক্ষেত্রের মূর্ত রূপ হিসেবে. ন্যাটো এতে একেবারেই অসম্মত, আর তা আরও আশ্চর্য লাগে এ জন্য যে, ন্যাটো জোট সারা পৃথিবীকেই নিজের প্রভাবের ক্ষেত্র বলে  বিবেচনা করে.