মস্কোতে বিশ্বে বিখ্যাত রাশিয়ার গায়িকা যাকে "রাশিয়ার প্রতীক", "মানুষের হৃদয়""গানের আত্মা" নামে সবাই চিনত সেই ল্যুদমিলা জীকিনা তাঁর জীবনের ৮১ তম বছরে পরলোকে চলে গেলেন. (sound)

এই কয়েক দিন আগেই ঘটা করে তাঁর ৮০ তম জন্মদিনের আয়োজন করা হয়েছিল. তাঁর অবিশ্বাস্য রকমের ক্ষমতার ভক্ত ছিলেন অসংখ্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের কর্ণধার থেকে গ্রামের সাধারণ লোক. এক সময়ে ল্যুদমিলা জীকিনার গান উচ্ছাসের সঙ্গে মন দিয়ে শুনেছেন চার্লি চ্যাপলিন, জর্জ পম্পিদু, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা, বীটলসের চার মহান সঙ্গীতকার, মার্ক শাগাল ও ইন্দিরা গান্ধী… আর তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাঁর জন্মদিনের জয়ন্তী উপলক্ষে জীবনের শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেনঃ

"খ্যাতি নিয়ে আমি ভাবি নি, কারণ একমাত্র বোকা লোকেরাই তার স্বপ্ন দেখে. কাজ করে যেতে হবে, ভাল লোকেদের সাথে মিশতে হবে আর তাদের কাছ থেকে শিখতে হবে".

 ল্যুদমিলা জীকিনার প্রচারিত গানের সংখ্যা দুই হাজারের উপর ও তাঁর গানের রেকর্ড বিক্রী হয়েছে ৬০ লক্ষেরও বেশী! বহু বছর ধরে লোক সঙ্গীত ও সঙ্গীতকার দের গানের সমষ্টিতে তৈরী হয়েছে এই শিল্পীর বিশাল তহবিল. কোন সঙ্গীতকার বা গীতিকারই এই অনন্য কন্ঠের অধিকারী বিখ্যাত শিল্পীর জন্য গান লেখার সুযোগ ছাড়েন নি. রাশিয়ার লোকেরা আশা করেছিল যে, ওনার গান আবার সরাসরি শুনতে পাওয়া যাবে, কারণ শিল্পী জানিয়ে ছিলেন যে, জন্মদিনের পালা শেষ হলে উনি আবার সারা দেশে গান গেয়ে বিশাল পর্যটনে বের হবেন. কিন্তু হৃদয় তার কথা রাখতে দিল না…

সারা বিশ্ব জয়ের মনোরঞ্জক উপন্যাসের মত জীবনের সমাপ্তি ঘটল. কঠিন বিশ্বযুদ্ধের সময়ের ক্ষুধার্ত শৈশব, কৈশোরে কারখানা ও হাসপাতালে কঠোর পরিশ্রম আর বান্ধবীদের সাথে বাজী ধরে পিয়াতনিতস্কির নামে রাশিয়ার বিখ্যাত লোক সঙ্গীতের কোরাস দলে যোগ দিয়ে ল্যুদমিলা জীকিনার সামনে গানের পথ খুলে গিয়েছিল. আর হঠাত্ই মায়ের মৃত্যু হওয়ার পর ২ বছরের জন্য গানের গলা হারিয়ে ফেলেছিলেন. ধীরে ধীরে পরিশ্রম করে সেই গলা আবার ফিরেছিল আর তারপর কয়েক দশক ধরে সঙ্গীত ও সুর কে জীবনের এক মাত্র সঙ্গী করে তিনি খ্যাতির শিখরে উঠেছিলেন, সংসার করার বা ছেলেমেয়ের মা হওয়ার সময় পান নি. যদিও এই শিল্পীর জীবনে কয়েক বার সুন্দর ও গুণী পুরুষেরা স্বামী হিসাবে এসে ছিলেন ও অনেক সুন্দর ভালবাসার সাক্ষী হয়ে আছে তাঁর জীবন কাহিনী.  

      জয়ন্তী উত্সবের দিন গুলিতে ল্যুদমিলা জীকিনার অনেক সময় মনে হয়েছে যে, তিনি শুধু মাত্র আরও পাঁচটা লোকের মত বেঁচে থাকেন নি বরং জীবনে দাগ রেখে যেতে পেরেছেন. তিনি তাঁর ভক্ত দের তাঁকে লেখা চিঠির সংকলন "আমি আপনাকে ভালবাসি" বই টি পড়েছেন ও সাংবাদিক দের বলেছেনঃ

    "সত্যি বলতে গেলে যখন আমি এই চিঠি গুলি পড়েছি তখন আবেগে আমার চোখে জল এসেছে, কারণ এই চিঠির সংকলনে বলা হয়েছে, আমার গান, আমার শিল্প কর্ম আমার জীবন ও বন্ধুদের কথা. আর আমি তা পড়তে গিয়ে নতুন করে সেই মুহূর্ত গুলিকে আবারও অনুভব করেছি".