রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে সক্রিয়ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতায় আহ্বান করেছে. শান্তি বজায় রাখা সম্বন্ধে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আয়োজিত বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী উপ প্রতিনিধি কনস্তানতিন দোলগভ এই ঘোষণা করেছেন. এই বিষয়ে কিছুটা বিষদ করে বলেছেন আমাদের সমীক্ষক রেদচেঙ্কো.

    স্মরণ করা যেতে পারে রাশিয়া ও চীনের মত এই দুই সংগঠনে আছে আরও ছয়টি দেশ – কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, আর্মেনিয়া, বেলোরাশিয়া ও উজবেকিস্থান. রাশিয়ার প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী এই দুই সংস্থার শান্তি পূর্ণ ভাবে বিবাদ মীমাংসা ও যথেষ্ট জটিল সংঘর্ষ প্রবণ অবস্থার শান্তিপূর্ণ নিরসনের অভিজ্ঞতা খুব কম জমা হয় নি. রাষ্ট্র সংঘের শান্তির প্রয়াসের ব্যবস্থার কথা প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেছেন যে, সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শান্তি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আরও ত্রুটি বিহীণ প্রয়াসের প্রয়োজন. বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার মাত্রা সংক্রান্ত বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যা আগের মতই সন্তোষ জনক নয়. এই বিষয়ে কনস্তানতিন দোলগভ মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের সম্পূর্ণ ১৫ সদস্যের সামরিক বাহিনীর কমিটির সক্রিয়তা বৃদ্ধি সম্বন্ধে রাশিয়ার এর আগে রাষ্ট্রসংঘকে প্রস্তাব টির কথা. উনি আরও বলেছেন যে, রাশিয়া শান্তি রক্ষার প্রয়াসে নিজের উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা সংক্রান্ত উদ্যোগ বজায় রাখবে. বর্তমানে রাশিয়ার শান্তি বাহিনী নিকট প্রাচ্যে, আফ্রিকার নানা অঞ্চলে, হাইতি তে ও কোসভা তে নানা রকম কাজে অংশ নিচ্ছে. সুদানে রাশিয়ার হেলিকপ্টার বাহিনী রাষ্ট্রসংঘের হয়ে কাজ করছে, আরও একটি বিমান বাহিনী চাদে ও মধ্য আফ্রিকা রিপাব্লিকে রাষ্ট্রসংঘের হয়ে মিশনে রয়েছে. রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সারা রাশিয়া ইনস্টিটিউটের পারদর্শিতার উন্নয়নের ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আফ্রিকার বিশেষজ্ঞরা.

    "বর্তমানে আমাদের শান্তি বাহিনী পৃথিবীর ৮ টি উত্তপ্ত অঞ্চলে শান্তি রক্ষার কাজে নিযুক্ত রয়েছে", বলেছেন প্রাক্তন উপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমানের রাশিয়ান পার্লামেন্টের উচ্চ প্রজাতন্ত্র পরিষদের সদস্য আলেকসান্দার চেকালিন, "আমাদের কর্মীদের শান্তি বাহিনীতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. বর্তমানে আরও অন্য কয়েকটি উত্তপ্ত অঞ্চলে শান্তি বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে".

    এর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে যে, নিকট অতীতে সংঘাতের রূপ বদল হয়েছে. যদি আগে রাষ্ট্র সংঘের শান্তি বাহিনীর কাজ ছিল বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষের প্রতিরোধ করা তো বর্তমানে এই কাজ দাঁড়িয়েছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে দেশের ভিতরে উদ্ভূত সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে. সামরিক বাহিনীই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে আগের মত শান্তি রক্ষার কাজে নিযুক্ত. তা হলেও রাষ্ট্রসংঘের শান্তি রক্ষার কাজে বর্তমানে নিয়ামক, অর্থনীতি বিদ, পুলিশ বাহিনীর কর্মী, আইনজ্ঞ, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং আরও নানা রকমের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে থাকেন.