0 

   সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ ভীষণ নার্কোটিক নির্ভরশীলতায় ভুগছে. নার্কোটিকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সংক্রান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের দপ্তরের রিপোর্টে এ তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে. নার্কোটিকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এ দলিলটি প্রকাশ করা হয়েছে.

   এ রিপোর্টে খুবই অপ্রত্যাশিত একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে – নার্কোটিকের উত্পাদন ও চাহিদা কমছে. ব্যতিক্রম হল শুধু সিন্থেটিক নার্কোটিকের ক্ষেত্রে, যার জনপ্রিয়তা, উল্টে, বেড়েছে. পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রচলিত নার্কোটিক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে গাঁজাকে, যা বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৯ কোটি লোক ব্যবহার করে. নার্কোটিক নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর সমস্যায় ভুগছে উত্তর, কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান এলাকার দেশগুলি. আর চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ব্রেজিল হল এমন সব দেশ, যেখানে নার্কোটিক-আসক্তদের মধ্যে সিরিঞ্জ ব্যবহারকারীদের হার সবচেয়ে বেশি- তার অর্থ, তারা আফিং থেকে উত্পাদিত নার্কোটিক ব্যবহার করে.

   আজ, নার্কোটিকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দিবসে, মস্কোয় আয়োজিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় নার্কোটিকবিরোধী কমিটির বৈঠক. এটি পঞ্চম বৈঠক এবং এতে পেশ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় নার্কোটিকবিরোধী নীতি সংক্রান্ত ধারণার খসড়া. বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা উদ্বিগ্ন এ ব্যাপারে- কিভাবে রাশিয়ার আইনবিধি উন্নত করা যায়, যাতে আফগানিস্তান থেকে হেরোইনের প্রসারের ফলপ্রসূ বিরোধ হতে পারে. রাশিয়ার নার্কোটিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ রসনার্কোকনত্রোলের তথ্য অনুযায়ী, আফগান আফিং ও ভাঙ-জাত নার্কোটিক রাশিয়ায় আসে প্রধানত কৃষ্ণসাগর, কাস্পিয়ান সাগর ও আজোভ সাগরের বন্দর মারফত  এবং মোটর ও রেল-পথে সীমান্ত চৌকি মারফত.

   ২০০১ সাল থেকে, যখন ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়, ঐ দেশ থেকে আসা নার্কোটিক বিপদের পরিসর যথেষ্ট বেড়ে যায়, রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে বলেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ.   

   আফিংয়ের চাষ ক্রমেই বাড়ছে. তালিবান আন্দোলনের জন্য অস্ত্র কেনার অর্থের প্রায় ৯৬ শতাংশ আসে এই আফিং বিক্রি থেকে. রাষ্ট্রপতি ওবামার নতুন রণনীতিতে আফগানিস্তানের নার্কোটিক সমস্যার উল্লেখ আছে, কিন্তু মার্কিনীরা এই আফিং ক্ষেতগুলি কিভাবে ধ্বংস করে উঠতে পারবে সে পথ আমি দেখতে পাচ্ছি না. ব্যাপারটি হল এই যে, আফগানিস্তানে লোকে নার্কোটিককে আল্লার অবাঞ্ছিত শস্য হিসেবে বিচার করে না, তারা তা ফলায় জন-সাধারণের জীবনধারনের সর্বনিম্ন মান সুনিশ্চিত করার জন্য. আর এটাই হল প্রধান সমস্যা, যার সম্মুখীন হয় সমস্ত আন্তর্জাতিক শক্তি, যারা নার্কোটিক ব্যবসা বন্ধ করতে চায়. প্রসঙ্গত, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রক এ সমস্যাকে তুলতে চায় নতুন মানে- মিলিতভাবে নার্কোটিক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার.

   আফগান নার্কোটিকের মালিকরা পৃথিবীর মোট আফিং উত্পাদনের ৯৪ শতাংশ উত্পাদন করে. আর তা থেকে পাওয়া হেরোইনের ১৫ হাজার কোটি ডোজ তৈরী হতে পারে, যা পৃথিবীর জনসংখ্যার ২৫ গুণ বেশি. মস্কো এ সমস্যা  মীমাংসার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করছ বিশ্ব জনসমাজের আলোচনার জন্য. বিশেষ করে, যৌথ নিরাপত্তার চুক্তি সংস্থা আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীকেও এ জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে. স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গের এই শক্তিই আফগানিস্তানের উত্তরী সীমানা রক্ষা করছে নার্কোটিক পাচার থেকে, এ প্রস্তাব ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরে অষ্টদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে.