মস্কোতে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্হা সাংহাই সহযোগি সংস্হা ও ব্রিক সদস্য রাষ্ট্র সমুহের যুব শীর্ষসম্মেলন আয়োজনের ঘোষনা দিয়েছে. সম্প্রতি এ দুটি সংস্হার রাষ্ট্র প্রধানদের শীর্ষ স্বাক্ষাত হয়ে গেল রাশিয়ার একেত্রিন বার্গে. সংস্হা সাংহাই সহযোগি সংস্হা ও ব্রিক সংস্হায় বর্তমানে সদস্য ও মনিটারিং সদস্য মিলে এশিয়া, ইউরোপ ও লেটিন আমেরিকার ১৩ রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত. পৃথিবীর মোট জনসংখার অর্দেকেরও বেশী মানুষ এ দুটি সংস্হার সদস্য রাষ্ট্রসমুহে বসবাস করে. পৃথিবীর স্হলভাগের অর্দেকেরও বেশী ভুমি সংস্হা দুটিতে. সংখা বা পরিমান দিয়েই শুধু বিচার না করে সদস্য রাষ্ট্রগুলির পারস্পারিক সম্পর্কের দিকেও তাকাতে হবে, আর এটাই সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপুর্ন বিষয় আধুনিক বিশ্বে. পশ্চিমাদের কাছ থেকে আমরা প্রায় শুনে থাকি সিভিলাইজেশান সংঘর্ষ ও তার সমাধানে সংলাপ. সেখানে কিসের সংলাপ যেখানে নবী ও রাসুলের কার্টুন প্রকাশ করে যাচ্ছে, মুসলমানদের অপমান স্বরুপ চলচিত্র তৈরী করছে ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক সংস্হার তথ্য মতে সেখানে ইসলাম বিরুধী প্রচারনা বেশীর ভাগ জনগনকে ইসলাম সম্পর্কে ভয় ও ঘৃনা জন্ম দিচ্ছে. এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিঘ্নিত হচ্ছে. এর বিকল্প আছে কি?
রেডিও রাশিয়ার সাথে দেওয়া এক স্বাক্ষাত্কারে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভিকটর নাদেইন রাইস্কি এ বিষয়ে বলেনঃ
অবশ্যই এর বিকল্প আছে. দুটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্হাকে এ বিষয়ে মুল্যায়ন করতে হয়. এই দটি সংস্হা প্রমান করেছে তাদের ডায়নামিক বিকাশ বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিক ক্ষেত্রে. এ সংস্হাটি হলো ব্রিক – ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া ও চীন. এ সংস্হার বৈশিষ্ট্য কি? প্রথমত বিভিন্ন সংস্হার প্রতিনিধি বিশেষ করে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের মধ্য সমন্যয় ও সম্পর্কের বিকাশ. রাশিয়া ও বেলোরাশিয়ার বেশীর ভাগ জনগনই অর্থডক্স খ্রীষ্টান, রাশিয়াতে মোট জনসংখার প্রায় ২০ শতাংশ মুসুলমান. চীনে ও ইন্ডায়ায় ধর্মীয় দিক থেকে খুব জটিল. বিভিন্ন ধর্মের লোক দেশ দুটিতে বাস করে. সা.স.স সংস্হায় অন্তর্ভুক্ত মধ্য এশিয়ার দেশগুলিতে ইসলাম ধর্মের সুন্নি অনুসারিরাই বাস করে. আর ইরান, প্রযবেক্ষন সদস্য, এ দেশের বেশীর ভাগ জনগন ইসলাম ধর্মের সিয়া অনুসারিরা বাস করে. এবং ব্রাজিলে বেশীর ভাগ জনগন ক্যাথোলিক খ্রীষ্টান. তাই সংস্হার এ দেশগুলি একক মনোভাব পোষনের মাধ্যমে সিদান্ত নিয়েছে যে শুধু নিজেদের মধ্যে সংলাপই নয় সিভিলাইজেশান, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়ে আন্তরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে. কেন? কারন সা.স.স ও ব্রিক সদস্য দেশগলির পারস্পারিক সহযোগিতা হয়ে থাকে সম অধিকারের ভিত্তিতে. সংস্হার সবচেয়ে ছোট দেশ কিরগিজস্হান, সে ততটুকু অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে যতটুকু অধিকার রয়েছে চীন অথবা রাশিয়ার. এ সংস্হার সদস্যরা কেউ কারো মুরুব্বি নয়. সা.স.স ও ব্রিক সংস্হার যুব সামিট আয়োজনের পরিকল্পনা এটা অত্যন্ত গভীর সংকেত ও গুরুত্ব বহন করে. যুবক বা যুব সম্প্রদায়- তারাই পৃথিবীর ভবিষ্যত কর্নধার. সা.স.স ও ব্রিক সংস্হা বিকল্প ধারার মাধ্যমে সিভিলাইজেশান, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে একটি নতুন মডেল তৈরী করেছে ভবিষ্যত অঙ্গনের দিকে তাকিয়ে.
বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভিকটর নাদেইন রাইস্কি রেডিও রাশিয়ার সাথে দেওয়া স্বাক্ষাত্কারটি শুনলেন