রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন  বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক বান কি মুন এর বক্তৃতার আলোচনা করতে গিয়ে এই ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া ইরাকে হিংসার বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন, বিভিন্ন ধারা ও প্রজাতির মধ্যে বিরোধ ইরাকে আরও প্রকট হয়েছে.

ইরাকের সরকারের নিয়মিত নিরাপত্তা বিষয়ক সাফল্যের ঘোষণা সত্ত্বেও শুধুমাত্র এপ্রিলেই এই দেশে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণে মার্চ মাসের তুলনায় একের তিন ভাগ বেশী লোক নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চুরকিন. উনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বিতর্কিত অঞ্চল গুলিতে অবস্থা অশান্ত, যেখানে ইরাকের কুর্দ প্রজাতি একদিকে ও অন্যদিকে আরব ও ইরাকের তুর্কমেনিয় প্রজাতির মধ্যে উত্তেজনা বজায় রয়েছে. কুর্দিস্থানের জুলাই মাসের আঞ্চলিক নির্বাচন ও আগামী বছরের পার্লামেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ইরাকে বিভিন্ন ধারা ও প্রজাতির মধ্যে বিরোধ ততই বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রতিনিধি. এই কারণেই ভিতালি চুরকিন রাষ্ট্রসংঘকে ইরাকের অবস্থা স্থিতি শীল করার জন্য কার্যকরী যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় খালি অংশটি এখনই দখল করতে বলেছেন. বিশেষত ইরাকের নেতৃবর্গের মধ্যে আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক মতের মিল খোঁজার উদ্যোগ কে প্রশংসা ও সহায়তা দিতে বলেছেন, যা না হলে, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা উদ্ধারের যাবতীয় প্রচেষ্টা বিফল হবে এবং ইরাকের ভৌগলিক অখন্ডতা, প্রাকৃতিক সম্পদের আহরণ ও সেই সম্পদের বিনিময়ে অর্জিত অর্থের সম বন্টনের সকল প্রয়াস নিষ্ফল থেকে যাবে. ইরাকের এই জটিল সমস্যার কারণ সম্বন্ধে পূর্বের দেশগুলির বিষয়ে বিদগ্ধ ভ্লাদিমির আখমেদভ আমাদের রেডিওকে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেনঃ

"অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইরাকে এই হিংসার বৃদ্ধি আমার মতে ইরাক থেকে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের সঙ্গে জড়িত. আমেরিকার এই দেশ অধিগ্রহণের পর থেকে যে সব রাজনৈতিক শক্তি ও দল গুলি এই দেশে গত কয়েক বছরে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিল, তারাই ইরাকে নিজেদের প্রভাব অক্ষুন্ন রাখতে চাইছে. যেহেতু ইরাকে আজ যুদ্ধাস্ত্র অফুরন্ত তাই এই বিরোধ রূপ নিয়েছে রক্তাক্ত হিংসার, রাজনৈতিক কথার লড়াই এর আর কোন জায়গা নেই. ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থা শান্ত করার প্রচেষ্টার তাই কোন ফল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, এই দেশে জাতিগত ঐক্য ও সহমতে ফেরা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে".

পূর্বের দেশগুলির বিষয়ে বিদগ্ধ ভ্লাদিমির আখমেদভ মনে করেন যে, ইরাকে দেশের ভিতরের সমস্যা ছাড়াও বাইরের দেশের প্রভাব ও পড়েছে যেমন ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর অশান্ত অবস্থা. সুতরাং রাশিয়ার রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিনের মত অনুযায়ী ইরাকের জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি দেখাই যাচ্ছে যে একই জায়গায় আজ আটকা পড়েছে. পথ একটাই – সারা পৃথিবী ও প্রতিবেশী দেশ গুলির সার্বজনীন প্রচেষ্টায় ঐক্য মতে আনা সম্ভব ইরাককে.