নির্বাচনের পরে ইরানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে. বিরোধীপক্ষের প্রতিবাদ আন্দোলন পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়েছে. সাত জন নিহত হয়েছে, বহু লোক আহত হয়েছে, শত শত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে.

   রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজিত মীর হোসেইন মুসাওই, যিনি গোড়ায় নিজের পক্ষসমর্থকদের শান্ত থাকার ও সভার শান্তিপূর্ণ চরিত্র বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন, ঘোষণা করেন যে, ভোটদানের ফলাফল স্বীকার করতে চান না. ফলে রাস্তায় রাস্তায় বিশৃঙ্খলা আরও ব্যাপক চরিত্র ধারণ করে. প্রথম মৃত্যু, পরিস্থিতিকে আরও বেশি তীব্র করে তোলে. জন সাধারণকে শান্ত করার চেষ্টায় দেশের ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি হামেনেই বিরোধীপক্ষকে আহ্বান জানান প্ররোচনামূলক ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকার এবং আইনসঙ্গতভাবে ইস্লামিক পরিষদ সভায় (পার্লামেন্টে) ভোটদানের ফলাফল সম্পর্কে প্রতিবাদ জানানোর. মনে হয়েছিল, এমন মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির মত ইরানে লোকে অবশ্যই শুনবে. রাজনীতি-বিশারদ গেওর্গি মীরস্কি আমাদের সংবাদদাতাকে মনে করিয়ে দেন যে, বিধানিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে ধর্মীয় মহল.

   ভোলা উচিত নয় যে, যদিও ইরান হল এমন দেশ, যার পরিচালনা করছে ধর্মীয় উপর-মহল, তবুও এটি একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র নয়. এ দেশে লোকে  অবাধে কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করতে পারে, পত্র-পত্রিকা অবাধে মত প্রকাশ করতে পারে.

   অবশ্য, বাক্-স্বাধীনতা – এ হল এক ব্যাপার, আর জন সাধারণের মত স্বীকার না করা – একেবারেই অন্য ব্যাপার. মীর হোসেইন মুসাওই যোগ্যভাবে পরাজয় স্বীকার করে নিতে পারেন নি. আর যদিও তিনি ইরানের সংবিধান রক্ষা পরিষদে অভিযোগ পেশ করেছেন, তবুও সর্বসমক্ষে ঘোষণা করেছেন যে, ন্যায়সঙ্গত মীমাংসার আশা তিনি করেন না. এইভাবে, নতুন বিশৃঙ্খলা প্ররোচিত করেছেন.

   প্রকৃতপক্ষে বলা কঠিন, নির্বাচনে নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না. স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিল না, আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এমনকি ভোটদান শুরু হওয়ার আগেই পরস্পরের বিরুদ্ধে সব রকমের অভিযোগ তোলেন, এমনকি ফলাফলে কারসাজি করারও. আর এখন ইরানে যা ঘটছে, তা খুবই প্রত্যাশিত ব্যাপার. তবে, অন্য ব্যাপার যে, খুব কম লোকেই ভেবেছিল যে, আন্দোলন এ রকম বিপুল আকার ধারণ করবে.

   এদিকে, ভোটের ফলাফল- ৬২ শতাংশের উপর বর্তমান রাষ্ট্রপতির পক্ষে এবং প্রায় ৩৩ শতাংশ মুসাওইর পক্ষে- মোটামুটিভাবে প্রতিফলিত করে বাস্তব শক্তির বিভাজন. আহমাদিনেজাদ সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন, গরীবদের সমস্যা তিনি ভালোভাবে জানেন, তাই, তাঁকে সমর্থন করছে গ্রামবাসীরা আর শ্রমিক শ্রেণী, আর মুসাওইকে- সমাজের শিক্ষিত অংশ. ইরানে কাদের সংখ্যা বেশি তা সহজেই বোধগম্য. বিরোধীপক্ষের সমর্থকরা যাই বলুক না কেন, এমনকি প্রারম্ভিক জনমত সংগ্রহের ফলাফল অনুযায়ীও, মুসাওই লীডার ছিলেন না.

   এখন মত প্রকাশ করতে হবে সংবিধান রক্ষার পরিষদকে. তাকে ১০ দিনের মধ্যে মুসাওইর আপীল বিচার করতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নির্বাচনের ফলাফল বজায় থাকবে অথবা বাতিল করা হবে. আর সেই সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নিজেদের মত আঁকড়ে ধরে রাখতে চান.