রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ পেশোয়ারে পাকিস্থানের সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের সমালোচনা করেছেন ও পাকিস্থানী নেতৃত্বকে নাগরিকদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন. পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারীকে পাঠানো টেলিগ্রামে মেদভেদেভ আতঙ্কবাদীদের এই নতুন মাথা চাড়া দেওয়াকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন ও বলেছেন যে, এদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইসলামাবাদ মস্কোর তরফ থেকে সব রকমের সমর্থন আশা করতে পারে.

মঙ্গলবার রাত্রে বিস্ফোরণ হয় রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনের আঞ্চলিক দপ্তরের অবস্থান পাঁচতারা পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেলের কাছে. সন্ত্রাসবাদী আত্মঘাতীরা প্রথমে এই হোটেলের রক্ষী দের উপর গুলি বর্ষণ করে ও তারপর বোমা ভরা লরিতে বিস্ফোরণ ঘটায়. ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন. পাকিস্থানে জানা গেছে যে, নিহতদের মধ্যে দু জন রাষ্ট্রসংঘের বিভাগীয় বিদেশী কর্মী রয়েছেন, একজন সের্বিয়ার ও অন্য আরেকজন ফিলিপিনের. এর আগে সন্ত্রাসবাদীরা ঘোষণা করেছিল যে, সোয়াত উপত্যকায় সরকারি ফৌজের সন্ত্রাস দমনের প্রচেষ্টার জন্য তারা শোধ নেবে. সামরিক বাহিনীর অগ্রগতিতে সোয়াতের কেন্দ্রীয় শহর মিঙ্গোরায় দেশের শাসন পূণর্বহাল হতে পেরেছে এবং আরও কয়েকটি জনবহুল অঞ্চল মুক্তি পেয়েছে, বিদ্রোহীদের ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া গেছে পাহাড়ের গভীরে.

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘর্ষে না পেরে উঠে তালিবেরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, সরকারকে হুমকি দিয়েছে যে, দেশের নানা শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতেই থাকবে, যতদিন না সরকার সোয়াত উপত্যকা থেকে ফৌজ প্রত্যাহার না করছে. মে মাসের শুরু থেকে এবং সামরিক বাহিনীর দেশের উত্তর পশ্চিমে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের শুরুর পর থেকে পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেলের বিস্ফোরণ টিকে ধরে এই নিয়ে সাতটি বিস্ফোরণ হল.

তালিবদের এই সন্ত্রাসের প্রয়াস, পাকিস্থানের এমনিতেই যথেষ্ট জটিল অবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে, দেশের আণবিক অস্ত্রের ভবিষ্যত নিয়েও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে. এমন কি পাকিস্থানের সরকার ও স্বীকার করছে যে, যদি গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারের পতন হয়, তবে যতই আণবিক অস্ত্র সুরক্ষিত আছে বলা হোক না কেন, সত্যিকারের সম্ভাবনা দেখা দেবে এই অস্ত্র আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও ঐসলামিক চরমপন্থীদের হাতে পড়ার. এটা ঘটলে পাকিস্থান ও সারা বিশ্বের জন্য কি হতে পারে তা ধারণা করা কঠিন.

এই জন্যেই পাকিস্থানের ভেতরে ও বাইরের থেকে দেশের সরকার কে সমর্থন করে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবস্থা ও নতুন আতঙ্কবাদীদের মাথা চাড়া দেওয়া তে সতর্ক করার কারণ বোঝা যাচ্ছে. পাকিস্থানের সংবাদ পত্রে দেখা যাচ্ছে যে, এর মধ্যেই প্রায় ১৬০০ পুস্তুন উপজাতির প্রতিনিধি "উপর দীর" অঞ্চলে তালিবদের ঘাঁটি ধ্বংস করার কাজে লেগেছে. গত রবিবারেই এমনই একটি খন্ড যুদ্ধে দুটি গ্রামকে ঘিরে ফেলে সেখানের ঘাঁটিতে জমা হওয়া ১৩ জন তালিবকে হত্যা করেছে. মস্কোর পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন যে, "উপর দীর" অঞ্চলে পুস্তুনদের এই জোট বেঁধে আক্রমণ তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের "দ্বিতীয় ফ্রন্ট" খোলার সমান.

রাশিয়ার পাকিস্থান বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই বিষয়ে বলেছেনঃ

"উপর দীর উপত্যকার পুস্তুনেরা বা পাকিস্থানের সাধারন মানুষদের তালিব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার খবর এটা একটি মাত্র খবর নয়, এই রকম খবর আগেও পাওয়া গেছে. এর মানে হল পাকিস্থানের ভিতরের রাজনৈতিক চালচিত্র সম্পূর্ণ ভাবে পাল্টে যেতে পারে এবং সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিতে পারে. এর মানে হল সাধারন মানুষ এই তালিবদের সন্ত্রাসে ধৈর্য্য হারিয়েছে এবং এবারে সরকারের সঙ্গে একত্র হয়ে তৈরী তালিবান আন্দোলনের বিদ্রোহীদের উপযুক্ত জবাব দিতে. মস্কো এই রকম সংবাদের সমর্থন করে ও ঘোষণা করেছে যে, ইসলামাবাদকে তালিব দমনের জন্য সব রকম সাহায্য করতে প্রস্তুত".