রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপুর্ন অবস্হানে রয়েছে, তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও. তা জানিয়েছেন ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমানাহেল্লী মালাইয়া কৃষ্না দিল্লিতে বৈদেশিক কুটনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে তার প্রথম স্বাক্ষাতে. এ বিষয়ে আমাদের প্রযবেক্ষক জর্জ বানেসভের বর্ননায়ঃ
প্রথমেই বলছি যে ভারতও রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির প্রিয়রিটেট বা অগ্রগন্য অবস্হানে আছে. তা রাশিয়ার নেতৃবৃন্ধ অনেক বারই বলেছেন. বলা যায় শুধু রাশিয়াই নয় বরং মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সাথেও ভারতের পরস্পর সমপর্ক সে ধরনেরই. পরস্পর স্বার্থে সম্পর্ক উন্নয়ন আমাদের দেশগুলির সহযোগিতার গুরুত্বপুর্ন উপাদান.
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতীক সময়ে এ সব দেশগুলির সাথে বিদ্যুতও জ্বালানী, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও মহাকাশ গভেষনায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সফলতা বয়ে এনেছে.
প্রকৃতপক্ষ্যেই তা সত্য. রাশিয়া তার বিশাল প্রকৃতিক সম্পদের মাধ্যমে ভারত ও অন্যান্য দেশগুলির সাথে তথা মধ্য এশিয়ার দেশগুলি সহযোগিতার মাধ্যমে তা ভাগাভাগিও করে থাকেন. এবং এ সব রাষ্ট্রগুলিও তাদের নিজেস্ব সম্পদ অথবা রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে রাশিয়ার সাথেও পরস্পর সহযোগিতায় লিপ্ত হয়. যেমন ভারত গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিকাশের জন্য আমাদের দেশের সাথে সক্রীয় সহযোগিতায় আগ্রহী. ভারত রাশিয়ার জ্বালানী তেল প্রজেক্ট “ সাখালিন ১” এ ২.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে. ভারতের এত বিশাল বিনিয়োগ অন্য কোন দেশে এখনো করতে পারেনি. এই প্রজেক্ট থেকে ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানী তেল পাচ্ছে যা দিয়ে ভারতের শিল্প কারখানাগুলি খুব তারাতারি বিকাশিত হচ্ছে. এবং এই জ্বালানী তেল তারা খুব সস্তায় পাচ্ছে আরব দেশের তেলের দামের তুলনায়. আরো বলা যায় জনকল্যানে পারমানবিক শক্তি ও মহাকাশ গভেষনার ক্ষেত্রেও. সম্প্রতি রাশিয়া ও ভারত কুদানকোলানে এটোমিক বৈদ্যুতিক কেন্দ্র নির্মানে দুটি নতুন এনার্জি ব্লক তৈরীর দলিল পত্র স্বাক্ষর করেছে. মহাকাশ গভেষনা ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে. অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুদেশের সহযোগিতার সাফল্যের উদাহরন রয়েছে. তবে কিছু সমস্যাও আছে, যেমন দুদেশের পারস্পরিক বানিজ্যের সফলতা হচ্ছে খুবই ধীর গতিতে. বর্তমানে দুদেশের আমদানি-রপ্তানীর পরিমান পাঁচ বিলিয়ন ডলার মাত্র. বৃহত এ দুদেশের জন্য এটা খুবই সামান্য. তা নিয়ে গত বছরের ডিসেম্ভরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বারতের প্রধান মন্ত্রী মনমোহন সিংহের সাথে আলোচনা করেন. তখন দুই নেতার আলোচনায় এমন ধরনের পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন যাতে ২০১২ সালে বানিজ্যিক আমদানি-রপ্তানীর পরিমান দিগুনে দাড়াবে. এ বিষয়ে ভারতে সাংবাদিক কাশমির সিং বলেনঃ সমস্যা আছে তবে এ ধরনের সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব. এ সমস্যাগুলি হলো আমাদের দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও বিকাশের, রাশিয়ার সাথে পরস্পারিক সহযোগিতায় ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সাথেও. আমি মনে করি সকল পক্ষ্যের স্বার্থের জন্যই সমস্যার সমাধান হবে অবশ্যই. আমি আরো বলতে চাই রাশিয়া, ভারত ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলি সামগ্রিক হুমকির মধ্যে রয়েছে. আর এ হুমকি হচ্ছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও আন্চলিক জঙ্গীবাদ. এই হুমকীর বিরুদ্ধে লড়তে হলে দরকার এ অন্চলের দেশগুলির সম্মেলিত শক্তি.