আফগানিস্হানে আমেরিকান ও নাটো বাহিনীর প্রধান পদে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোধনের পর জেনারেল মাককৃস্টাল মার্কিন কংগ্রেসে এক বক্তব্যে বলেন যে আফগানিস্হানে সহজ বিজয় হবে না. মাত্র কয়েকদিন আগে অন্য এক আমেরিকান জেনারেল জেনারেল স্টাব অফ আরটিলারী আর্মি জেনারেল কেইসি জানিয়েছেন আমেরিকান ও নাটো বাহিনীর আরো ১০ বছর থাকতে হবে আফগানিস্হানে. তারা অলরেডি সেখানে ৮ বছর ধরে অবস্হান করছে. তালেবানদের উচ্ছেদের পর থেকেই তারা সেথানে. তাহলে এখন মার্কিনীরা কেন বলছে তালেবানদের বিরুদ্ধে অত সহজ হবে না? কেনইবা সেখানে আমেরিকান ও নাটো বাহিনীর ১৮ বছর অবস্হান করতে হবে? তাহলে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে আফগানিস্হানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাটেজি কি? এবং আফগানিস্হানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের উদ্দেশ্যই বা কি? রেডিও রাশিয়ার সাথে দেওয়া এক স্বাক্ষাত্কারে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ফ্রলভ এ বিষয়ে বলেনঃ আফগানিস্হানে আমেরিকান বাহিনীর নির্দিষ্ট কোন স্ট্রাটেজি নেই. আফগানিস্হানে ৩৮ হাজার আমেরিকান সৈন্য এবং নাটোর অন্যান্য দেশের ২৫ হাজার সৈন্য অবস্হান করছে. আমেরিকান সৈন্যরা বলছে যে এই সংখক সৈন্যবাহিনী দিয়ে আফগানিস্হানে নিয়ন্ত্রনে নেওয়া সম্ভব নয়. তারা বলেন কোন স্হান থেকে আমরা চলে আসলে সাথে সাথেই সেখানে তালেবানরা তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে যায়. সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারনা আফগানিস্হানে ৬০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রয়োজন. এ বিষয়ে বলতে হয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় এর চেয়ে অনেক বেশী কনটিংগেন্ট নিয়েও আফগানিস্হান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল. আমেরিকান ও তার মিত্রদের পক্ষ্যে সম্ভব হবে কি বেশির ভাগ আফগানির পক্ষ্যে সমর্থন জানিয়ে তালেবান ও তার মিত্র আল কায়দার বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়া. অন্যথায় সেখানে জয় পাওয়া সম্ভব নয়. অন্য দিকে কৌতুহলের সৃষ্টি হয় এ ধরনের বিজয় আফগানিস্হানে আমেরিকান মিশনের প্রধান লক্ষ্য নয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও আগ্রহ আফগানিস্হানে মার্কিন সৈন্যের দীর্ঘস্হায়ী অবস্হান. যদি তালেবান ও আল কায়দা যুদ্ধারা আমেরিকান ও নাটো বাহিনীর উপর প্রচন্ড আঘাত হানতে পারে তাহলেই মার্কিন সৈন্যবাহিনীর আশা ভংগ হবে আরো ১০ বছর অবস্হান আপগানিস্হানে. আর এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়. আফগানিস্হান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক ও রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন. আফগানিস্হানের কাছেই ইরান, পাকিস্হান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলি. এ দেশগুলির সাথে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি খুবই সক্রীয়. এজন্যই আমেরিকান জেনারেলরা আফগানিস্হানে শুধু সামরিক উপস্হিতিই দীর্ঘস্হায়ীর কথাই বলছেন না সেখানে এধরনের পরিস্হতিও সৃষ্টি করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন