মস্কোতে আশা করা হচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়ার কাজের কারণে এই অঞ্চলে সামরিক যুদ্ধাস্ত্র বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু করানো হবে না. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারী মুখপাত্র আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো এই বিষয়ে আজ ঘোষণা করেছেনঃ

    "উত্তর কোরিয়ার কাজের পরিণতিতে, এই অঞ্চলের চারপাশের অবস্থা উদ্বিগ্ন হওয়ার মত ভাবে খারাপের দিকে চলেছে, বলে জানাতে বাধ্য হতে হচ্ছে — বলেছেন নেস্তেরেঙ্কো. ধীরে ধীরে সমগ্র উত্তর পূর্ব এশিয়াতে এই ঘটনা স্থিতিশীলতার হানি করছে. আমরা মনে করি যে, এমন অবস্থায় সমস্ত সমাধানে উত্সুক দেশেরই উচিত হচ্ছে সর্বাধিক স্থৈর্য্যের প্রদর্শন. একটু সময় নিয়ে, সব পক্ষের জন্য গ্রহণ যোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই ঠিক হবে আর তা উত্তেজনার প্রশমণে সাহায্য করবে, জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারী মুখপাত্র. আমরা ধরেছি যে, উত্তর কোরিয়া বুঝতে পারবে যে, সামরিক শক্তি ও পারমানবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করার রাজনীতির কোনো ভবিষ্যত নেই. একই সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, সারা বিশ্ব থেকে কোরিয়াকে আলাদা করার ফল ভালো হবে না" – উল্লেখ করেছেন নেস্তেরেঙ্কো.

         রাশিয়ান বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ কোরিয়া ও মঙ্গোলিয়া সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ভরোন্তসভের মতে, দক্ষিণ কোরিয়াকে একঘরে করে ফেলার চেষ্টা ওদের তৃতীয় আণবিক বোমা পরীক্ষাকেই খালি এগিয়ে আনবে. দ্বিতীয় পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে যেন এমন ব্যবস্থা করা হয় যাতে এই সমস্যার সমাধান শুভ দিকে ও লাভ জনক হয়.

    ওয়াশিংটনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের বৈঠকে পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার বন্ধের জন্য আলোচনাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উইলিয়াম পেরী একই রকম ধারায় বলেছেন, "আমি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তির প্রয়োগ করতে বলব না, আমার মতে, উচিত হবে ভারসাম্য বজায় রেখে রাজনৈতিক কাজ করতে, কূটনীতির পথে শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করতে হবে, আলোচনা চালাতে হবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে, প্রয়োজনে ছয় দেশের আলোচনাতে ও ফিরে যেতে হবে". বুশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত বিশেষ মার্কিন প্রতিনিধি চার্লস প্রিচার্ডও মনে করেন যে, এই পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এক মাত্র বহু পাক্ষিক কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগেই সম্ভব. তাঁর মতে এই প্রশ্নের সমাধানে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ও ছয় দেশীয় আলোচনা, যা, জাপান, রাশিয়া, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দুই কোরিয়ার উপস্থিতিতেই করা যুক্তিযুক্ত হবে.

    উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরীক্ষার বিষয়ে যথেষ্ট বেদনা দায়ক পরিস্থিতিতে আছে তার নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশ গুলি. এ সম্বন্ধে উল্লেখযোগ্য হল চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অধিকতর সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি. চীনের উপ রাষ্ট্রপতি সি সীজিনপিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লি সান হি র আলোচনার পরে পিকিং এই বিষয়ে জানিয়েছে. রাশিয়ান পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান কনস্তানতিন কোসাচেভ এই সম্বন্ধে বলেছেনঃ

    "ছয় দেশের মধ্যে চীন একমাত্র দেশ যার সাথে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতার চুক্তি আছে, ওরা সামরিক ক্ষেত্রে জোট বদ্ধ. রাশিয়ার সেরকম কোনো চুক্তি নেই, অন্য প্রতিবেশী দেশ গুলিরও সেরকম কোনো চুক্তি নেই. সুতরাং চীনের ভূমিকা এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ. আর চীনের পিয়ংইয়ং এর সাথে বিশেষ যোগাযোগও রয়েছে. রাশিয়ার সঙ্গেও এরকম যোগাযোগ ছিল এবং আছে, কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সত্যই বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী. সেই কারণেই চীনই হল একমাত্র দেশ, যার পিয়ং ইয়ং এর সাথে আলোচনার রাস্তা বাস্তবে খোলা আছে এখনও. তাই আমাদেরও এখন চীনের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত নিয়মিত ভাবে গভীর ও সিরিয়াস আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে".