ইরানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে ইরান হতে পাকিস্থান পর্জন্ত গ্যাস পাইপ লাইন নির্মানের চুক্তি জুন মাসে সাক্ষরিত হবে. গ্যাস পাইপ লাইন নির্মান সমন্ধে অনেক আগে থেকে চিন্তা ভাবনা চলছিল. আগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তা ভারত পৌছাবে. এই পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট এতদিন স্থগীত ছিল ওয়াশিংটনের বিরোধীতার কারনে. ভারতকে প্রবল চাপের মধ্যে রাখে যাতে এই প্রজেক্ট অংশ গ্রহন না করে. তাই আপাতত গ্যাস পাইপ লাইন নির্মান করা হবে ইরান থেকে পাকিস্থান পর্জন্ত. তবে ভারত পরেও এই প্রজেক্টে অংশ গ্রহন করতে পারবে. ইরান থেকে পাকিস্থান পর্জন্ত পাইপ লাইন নির্মান তাত্পর্জ সমন্ধে রেডিও রাশিয়ার সাথে দেয়া এক ইন্টারভিউতে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইন্সটিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভিক্টর নাজেইন রাইবস্কি বলেনঃ
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ ই হচ্ছে কোন দেশের জাতীয় স্বার্থ. রাজনৈতিক ইস্যু না বানিয়ে এই ধরনের জাতীয় স্বার্থ খবর শুনে সবাই আনন্দিত. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতদিন গ্যাস পাইপ লাইন নির্মান বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে. বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে. তেহরানের মুক্ত রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দের প্রধান কারন. এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোন স্বার্থ নেই এই প্রজেক্টের বিরুদ্ধে. আমি একটি বিষয়ে সবার মনযোগ আনতে চাই তাহলো পাকিস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ. তারপরও নিজেদের স্বার্থের দিকে লক্ষ্যরেখে এই প্রজেক্টের নিরামান কাজ শুরু করতে চান, আর তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন ক্ষেত্রে পাকিস্থানের বিরুদ্ধে কাজ করছে. ওয়াশিংটনের বিষয়ে এটা প্রথম বার নয় রাজনৈতিক দৃষ্টি ভংগিতে অর্থনৈতিক প্রকল্প ও স্থগিত রাখার চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন অন্চলে. এর উজ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে ব্লু শ্টিম নামক প্রজেক্টে গ্যাস পাইপ লাইন নির্মান রাশিয়া হতে কৃষ্ন সাগরের মধ্যে দিয়ে তুরস্ক পর্জন্ত. যখন এই গ্যাস পাইপ লাইন নির্মানের মাত্র চিন্তা ভাবনা করা হয় তখনই ওয়াশিংটন তুরস্ককে ভয় দেখাত এই প্রজেক্টের মাধ্যমে রাশিয়া তুরস্ককে নিয়ন্ত্রন করতে চেষ্টা করবে. কিন্তু তুরস্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শুনে এই প্রজেক্টে অংশ গ্রহন করে প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছে. বরং এই প্রজেক্টের মাধ্যমে তুরস্ক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করেছে. আর তুরস্ককে নিয়ন্ত্রন করার প্রশ্নই আসেনা. অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাবুক প্রজেক্টের গ্যাস পাইপ লাইন নির্মান সমন্ধে সাহায্যের জন্য রাজনৈতিক খেলা খেলে যাচ্ছে. নাবুক প্রজেক্টের মাধ্যমে আজারবাইজান ও অন্যান্য দেশ গ্যাস সরবরাহের ইউরোপে নিয়ে আসা হবে. ওয়াশিংটন গ্যাস পাইপ লাইন নির্মানের মাধ্যমে রাশিয়াকে অতিক্রম করে নিজেদের রাজনৈতিক গুরু হিসাবে ইউরোপে উপস্থাপনা করতে সচেষ্ট. তবে রাশিয়া এই নাবুক প্রজেক্টের বিরুদ্ধে নয়. কিন্তু তারপরও এই প্রজেক্টের মাধ্যমে এন্টি রাশিয়া সুর শুনতে তাদের ভাল লাগে. এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন অর্থনৈতিক স্বার্থ নেই.