উত্তর কোরিয়ার সব কাজ কারবারই খুব অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি কারী আর বিশ্ব সমাজের পক্ষে হজম করে যাওয়ার মতন নয়. উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক বোমা পরীক্ষার সমালোচনা করে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রসংঘের নিয়মিত প্রতিনিধি এই রকমই ঘোষণা করেছেন. এর সঙ্গেই পর্যবেক্ষকেরা লক্ষ্য করেছেন যে, উত্তর কোরিয়ার এই সব কাজের পেছনে রয়েছে অতি সাধারণ চেষ্টা, যে করে হোক, বর্তমান আদেশ ও তার বিনা বিচারে পালনের যে শাসন ব্যবস্থা চালু আছে তাকে বজায় রাখা.

    রাশিয়া চায় কোরিয়ান উপদ্বীপ অঞ্চল কে একেবারে আণবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে. বিশ্ব সমাজের কাজ এই সময়ে উত্তর কোরিয়াকে ছয় দেশের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা. কঠিন হলেও এ কাজ সম্ভব, যদি মুহুর্তের আবেগের বদলে এ সময়ে সহজ বোধ কে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয়. পশ্চিমে বিশ্বাস করে বসে আছে যে, উত্তর কোরিয়ার শাসক পক্ষের সঙ্গে একমাত্র 'চাবুক আর চিনির' রাজনীতিই চলতে পারে. গত বিশ বছর ধরে এই পদ্ধতিই চলে আসছে. আর পিয়ংইয়ং এর থেকে খুব ভালভাবেই নিজের লাভ আদায় করতে শিখে বসে আছে. উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের অভিসন্ধি খুব পরিস্কার – হুকুম আর পালনের সর্বাগ্রাসী রাজনীতির সংরক্ষণ এবং আদেশ এর মাধ্যমে ভাগ করে দেওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থা. এই রকমই ভাবছেন কোরিয়ান সমস্যার বিষয়ে, রাশিয়ান কোরিয়া বিশারদ ভাসিলি মিখিয়েভ.

    "৯০ এর শুরুতে যখন একই সঙ্গে চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, উত্তর কোরিয়াকে সাহায্য করা বন্ধ করে, তখন এই দেশ সঙ্কটের সম্মুখীন হয়. একমাত্র পথ ছিল বিদেশী মুদ্রার ব্যবস্থা করা. তবে আর সমস্যা কোথায়? কে টাকা দিতে পারে? ওরা হিসেব করে দেখেছিল যে, একমাত্র ও দের প্রধান শত্রুরাই — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া. যাই হোক, তা এই টাকা কি করে পাওয়া যাবে? সমাজের সংস্কারের মাধ্যমে? কিন্তু সংস্কার করতে গেলে যে, নিজেদের রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা পাল্টাতে হবে. তাই ওরা নিজেদের দিকে নজর কাড়ার সেই পথই বেছে নিয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সব চেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন করে. আর তা হল এই আণবিক বোমার পরিকল্পনা. এর থেকেই ওদের ভাবভঙ্গীর কৌশল. প্রতি তিন চার বছরে ওরা একবার করে সমস্যার সৃষ্টি করে. তারপর সুযোগ হয় কিছু সাহায্য পাওয়ার ও ছয় দেশের আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা তে বসার সুযোগ পাওয়া, যা আসলে পিয়ং ইয়ং এরই খুব দরকার. তারপর ওরা ভাব করবে যে, নিজেদের আণবিক পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে. আর যেই দেখবে সাহায্য আর পাওয়া যাচ্ছে না, তখনই শুরু করবে আলোচনার টেবিলে বসার নতুন দাম কসতে."

         আজ যা পিয়ং ইয়ং করছে তাকে ভয় দেখানো ছাড়া আর কিছু বলতে নারাজ আমাদের কোরিয়া বিশারদ ভাসিলি মিখিয়েভ. যদি না একটা "কিন্তু" থাকত, এই ভয় দেখানো টা পারমানবিক. আর উত্তর কোরিয়ার সরকার ২৭ শে মে যে ঘোষনা করেছে, ১৯৫৩ সালের শান্তি চুক্তি তারা আর মানে না, দুই কোরিয়ার যুদ্ধ এই চুক্তির ফলেই শেষ হয়েছিল, তার মানে হল কোরিয়ান উপদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থা আরও ঘোরালো করার মত রসদ পত্রের প্রায় শেষ দশা. এই অবস্থায় পৃথিবীর বাকি দেশ গুলোকে আরও ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে. 'চাবুক আর চিনির' রাজনীতি আর নয় তার বদলে উত্তর কোরিয়ার শাসন ব্যবস্থাকে আরও খোলা মেলা করে তুলতে হবে এবং এই উপদ্বীপ অঞ্চলে সব পক্ষের মিলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পাকা করতে হবে.