আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানে তালিবান আন্দোলনের প্রভাব বিস্তারে রাশিয়া গুরুতরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সে বিশ্ব জনসমাজকে আহ্বান জানাচ্ছে ইস্লামিক চরমপন্থী নেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা ত্যাগ না করার. মঙ্গলবার রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন এ বিবৃতি দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রশ্ন আলোচনার সময়.

   রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কূটনীতিজ্ঞ এ অঞ্চলে ঘটমান প্রক্রিয়াতে মস্কোর উদ্বেগ সম্বন্ধে বলেন. এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক সামরিক কোয়ালিশন এই অষ্টম বছর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ভার বহন করছে. দুঃখের বিষয়, ঘোষিত লক্ষ্য এখনও অর্জন করা যায় নি. নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে শুধু বড় বড় শহর. দেশের বাকি ভূভাগ ইস্লামিক জঙ্গীদের অধীনেই রয়েছে. এ বিফলতার দরুণ আফগানিস্তান পৃথিবীতে হেরোইনের বৃহত্তম উত্পাদকে পরিণত হয়েছে. তবে এটাই সব নয়. তালিবরা পাকিস্তানে নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে এ দেশে শাসনক্ষমতা দখলের উপর বাজি রেখেছে. পাকিস্তান ভাঙনের বিপদে বিপন্ন হয়েছে. রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ভিক্তর কোর্গুন বলেন:

   পাকিস্তানের তালিব আন্দোলনবিগত আড়াই বছরে শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং শুধু আফগান তালিবদেরই নয়, আল-কাইদারও বিপুল সমর্থন পেয়েছে – এটা বাস্তবতা এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সত্ত্বার জন্য, তার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য প্রত্যক্ষ বিপদ. কারণ তারা পাকিস্তানের ভূভাগে নিজেদের শারিয়াত রাষ্ট্র, ইস্লামিক এমিরেট গঠনের সুনির্দিষ্ট কর্তব্য উথ্থাপন করেছে. আর সাধারণভাবে,তারা পরিকল্পিত অনেক কিছুই করতে পেরেছে, কারণ দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল  মুশরফ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি, বর্তমান রাষ্ট্রপতি জার্দারি ইস্লামপন্থীদের দ্বারা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য লাভের চেষ্টাও থামান নি.

   পাকিস্তানে বাস্তবিকপক্ষে গৃহযুদ্ধ চলছে. সশস্ত্র বাহিনী তালিবদের পৃথক পৃথক কেন্দ্র দমন করার চেষ্টা করছে. তবে এতে বেশি করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ জনগণ. আর এদের সহানুভুতি রয়েছে জঙ্গীদের প্রতি. এসব কিছু ঘটছে পুস্তু উপজাতিগুলির বাসের এলাকায়, আর তারা রাষ্ট্রীয় সীমানা মানে না এবং যাযাবরী জীবন যাপন করে. এদের সম্পর্কেই ১৯ শতাব্দীর গোড়ায় বলা হয়েছিল যে, এদের প্রকৃতপক্ষে জয় করা সম্ভব নয়.

   মস্কোর উদ্বেগ জাগায় এ ঘটনাও যে, ইস্লামাবাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আছে. তা সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়ার বাস্তব বিপদও আছে. তালিবরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী আল-কাইদার জালের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত. আর তার নেতা উসামা বেন লাদেন, যাকে মার্কিনীরা এখনও ধরতে পারে নি, নিজের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার কথা গোপন করে না. সেইজন্য,ব্যাপক নরহত্যার অস্ত্রের কালো বাজারের বিরোধিতার ব্যবস্থা গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গতি সাধন সম্পর্কে ভিতালি চুরকিনের আহ্বান বিশেষ করে জরুরী. সেইসঙ্গে এ অস্ত্র চরমপন্থীদের হাতে পড়া নিবারণের জন্যও.