প্রতি বছর মে মাসে মস্কোর হিন্দুস্থানী সমাজ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন পালন করে আর তাতে রাশিয়াবাসীরাও সাগ্রহে অংশগ্রহণ করে. এ বছরে হিন্দুস্থানী সমাজ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে. তাতে বহু ভারতীয় ও রাশিয়াবাসী উপস্থিত ছিল. এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে হিন্দুস্থানী সমাজের সভাপতি সকলকে অভ্যর্থনা জানান. তারপর প্রধান অতিথি, ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শ্রী সতবীর সিং বক্তৃতা দেন.

   শ্রী সতবীর সিং মনে করিয়ে দেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিপুল আগ্রহ ছিল রাশিয়ার প্রতি. ১৯৩০ সালে তিনি রাশিয়ায় এসেছিলেন. পরে তাঁর রচনাবলি এ দেশে প্রকাশিত হয় লক্ষ লক্ষ কপিতে. এ দেশের বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালকদের কল্যাণে ব্যাপক পাঠকবর্গ এবং দর্শকবৃন্দ পরিচিত হন রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী রচনার সাথে. তাঁর রচনাবলি, তাঁর কবিতা পড়ে রাশিয়ার তরুণ প্রজন্ম, সেইসঙ্গে মস্কোর একসারি স্কুলের ছেলেমেয়েরাও.

    এই অনুষ্ঠানে এসেছিল বহু স্কুলশিক্ষার্থী, রাশিয়া ও ভারতের ছাত্রছাত্রী. তারা রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করে বাংলায়, রুশ ভাষায়, হিন্দিতে এবং ইংরেজীতে. রবীন্দ্রসঙ্গীতও শোনানো হয়.

   রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী রচনার বিভিন্ন দিক গভীরভাবে অধ্যয়ন করা হয় রাশিয়াতে. বহুকাল ধরে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে চর্চা করছেন শিল্পকলাবিদ ডঃ তাতিয়ানা মরোজোভা. তিনি বলেন যে রবীন্দ্রনাথ রচনা করে গেছেন দু হাজারেরও বেশি গান, যার কথা ও সুর তাঁরই রচিত. জীবনকালে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও নাট্যকার, তবুও তিনি নিজে একাধিকবার বলেছেন যে তিনি উত্তরপুরুষের মনে বেশি করে স্থান পেতে চান গানের রচয়িতা হিসেবে. পৃথিবীর বহু দেশে লোকে তাঁর গান জানে এবং তা গেয়েও থাকে.

   তাতিয়ানা মরোজোভা এবং মায়ার বাঁশি নামে স্টুডিওতে তাঁর ছাত্রছাত্রীরা রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চা করে. তারা এ সন্ধ্যায় একটি নৃত্যনাট্য প্রদর্শন করে রবীন্দ্রনাথের রচনা অবলম্বনে.

   অনুষ্ঠানের শেষদদিকে একটি তথ্য চলচ্চিত্রও দেখানো হয় ঠাকুর ও সোভিয়েত রাশিয়া নামে, যা তুলেছিলেন ভেরা ফেদোরচেনকো আশির দশকের মাঝামাঝি. এতে রবীন্দ্রনাথের মস্কো সফরের সময় তোলা কিছু কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন সোভিয়েত স্কুলশিক্ষার্থী, যৌথখামারের কর্মী, সংস্কৃতিসেবীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত্কার ইত্যাদি.

   ভেরা ফেদোরচেনকো স্মরণ করে বলেন, এ চলচ্চিত্রটি যখন তুলি, তখন আমাদের দেশের বহু বিশিষ্ট লোকের সংস্পর্শে এসেছিলাম আমি, যাঁরা অতি উদ্যমের সাথে এই মহান সাহিত্যিক, সঙ্গীতরচয়িতা, দার্শনিক ও শিল্পীর রচনা অধ্যয়ন করে. অনেকে তাঁকে বলতেন ভারতীয় তলস্তয়, যিনি বিশ্বাস ও আশাভরে দৃষ্টিপাত করতেন রাশিয়ার দিকে. তিনি ভারতীয় ও রাশিয়াবাসীদের আধ্যাত্মিক আত্মীয়তার কথা উল্লেখ করেন, আমাদের দু দেশের মাঝে মৈত্রী ও সহযোগিতার পক্ষে মত প্রকাশ করেন. আনন্দের বিষয় যে, রাশিযাবাসীদের নতুন প্রজন্ম ভারত উপমহাদেশকে জানার আকাঙ্ক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সমৃদ্ধ রচনাবলির প্রতি.

   এখন এ দেশে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালনের সাথে সাথে রাশিয়ায় ভারতের বর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হচ্ছে. মস্কোয় রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালনের বর্ণনা শেষ করতে চাই এ সন্ধ্যায় ধ্বনিত হিন্দিতে  একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে.

<audio>