আবারও, এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পারমানবিক শক্তি পরীক্ষার খবরে সারা পৃথিবী আজ উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ভীষণ ভাবে উদ্বিগ্ন. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ সন্ধ্যায় এই বিষয়টি নিয়ে জরুরী বৈঠকে বসবে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, এই বৈঠকের আগে সব পক্ষেরই সঠিক অবস্থা সম্পর্কে জানা দরকার.

আমরা অবশ্যই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার খবরে ভীষণ ভাবে উদ্বিগ্ন. এই সংবাদ এসেছে পিয়ং ইয়ং থেকে. আমরা এই খবর আরও বিশদভাবে জানার চেষ্টা করছি এবং এর জন্য রাষ্ট্রীয় ভূকম্পণ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য পরীক্ষা করছি. এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, — বলেছেন সের্গেই লাভরভ.

উত্তর কোরিয়ার উত্তরপূর্বে যেখানে এই পরীক্ষা হয়েছে, সেই অঞ্চলের ভূকম্পণ ধরা পড়েছে রাশিয়ান, দক্ষিন কোরিয়ান ও জাপানী ভূকম্পণ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলিতে. রাশিয়ার সামরিক মন্ত্রণালয় ও এই পরীক্ষার সংবাদ ঠিক বলে জানিয়েছে. দক্ষিন কোরিয়ান ও জাপানী সামরিক মন্ত্রণালয়েরাও জানিয়েছে যে, এ বারের বিস্ফোরণ বিগত আড়াই বছর আগের বিস্ফোরণের চেয়ে বেশী শক্তিশালী.

খুবই দুঃখের বিষয় হল যে, গত বছরেও মনে হয়েছিল উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধানের পথে, যা আজ এক খারাপ দিকে মোড় নিল. অর্থনৈতিক ও জ্বালানি শক্তির সাহায্যের বিনিময়ে ছয় দেশের (জাপান, রাশিয়া, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দুই কোরিয়া) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে উত্তর কোরিয়াকে তার পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে বিরত করতে সম্ভব হয়েছিল. বৈঠকের সিদ্ধান্ত কাজে পরিণতও করা হয়েছিল, ইয়নবেনের আণবিক রিয়্যাক্টর থামিয়ে তার ভিতর থেকে আণবিক জ্বালানি খালাসের কাজ ও শুরু হয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া এই কাজের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বিষয়ে সহমত হতে না পারায় এবং উত্তর কোরিয়াকে সাহায্যের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সমস্যা আবারও জটিল হতে থাকে. এই সময়ে রাষ্ট্রসংঘের প্রধান এপ্রিল মাসে উত্তর কোরিয়ার উপগ্রহ উত্ক্ষেপণের কঠোর সমালোচনা করায় বিষয়টি একে বারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়. এপ্রিলের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়া, কোরিয়ার উপদ্বীপ অঞ্চলের আণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির বৈঠক থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে ও পারমাণবিক পরীক্ষা আবার চালু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে. পরে উত্তর কোরিয়া বুঝিয়ে দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু ভাবাপন্ন রাজনীতির বিরুদ্ধে পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করবে.

বর্তমান পরীক্ষা, উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে নিয়ন্ত্রণহীণ রাজনীতির ফল বলেই মনে করা যেতে পারে. সারা বিশ্বের কাছে এখন একমাত্র সমস্যা যা একই সঙ্গে অত্যন্ত সহজ ও ভীষণ জটিল, তা হল পিয়ং ইয়ং কে আণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির বৈঠকে ফিরিয়ে আনা.