ইস্রাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি ফল হল ইরান সম্পর্কে মার্কিন-ইস্রাইলী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সমঝোতা. সাধারণভাবে, এমন গ্রুপ গঠনের খাস অভিপ্রায়ই বিস্ময় জাগায়. জানা আচে যে, ইরান সম্পর্কে মার্কিনী ও ইস্রাইলী স্থিতির মিল আছে. এও জানা আছে যে, উভয় দেশের মাঝে অতি ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বিদ্যমান আছে. আর তারা নিকট প্রাচ্য সম্পর্কে নিজেদের নীতির সমন্বয় সাধন করে. তাহলে, আরও একটা মিলিত ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রয়োজন কেন দেখা দিল? রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এ বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিচিউটের সিনিয়ার বৈজ্ঞানিক কর্মী ভিক্তর নাদেইন-রায়েভস্কি:

    উভয় পক্ষ এ গ্রুপ গঠনের কথা বিশেষ করে প্রচার করে নি, কারণ, মনে হয়, তারা এতে আগ্রহী ছিল না. তবে যা জানা গেছে তা থেকে দাঁড়ায় এই য়ে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রপতির দ্বারা ঘোষিত নীতি  অনুযায়ী প্রক্রিয়াগুলির মূল্যায়নের জন্য এ গ্রুপ গঠিত হয়েছে. আর তাছাড়া তথ্য বিনিময়ের জন্য, সেই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য. মনে হয়, এটাই সত্যের কাছাকাছি. অবশ্য, মার্কিনী প্রচার মাধ্যমে এ নিশ্চয়োক্তিও দেখা দিয়েছে যে, গ্রুপটি নাকি গঠিত হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে ইস্রাইলের সম্ভাব্য একতরফা পদক্ষেপের প্রতিনজর রাখা ও তা নিবারণের জন্য. তবে, মার্কিনী-ইস্রাইলী সম্পর্কের চরিত্র বিবেচনায় রাখলে তা বিশ্বাস করা কঠিন. অনুমান করা যেতে পারে যে, গ্রুপটি গঠিত হয়েছে ইস্রাইলকে শান্তকরার জন্য, ইস্লামিক জগতের চোখে নিজের মর্যাদা সংশোধনে ওয়াশিংটনের বর্তমান চেষ্টা উপলক্ষ্যে, যা ভীষণভাবে খারাপ হয়ে পড়েছিল আগের প্রশাসনের আমলে. আরও একটা বিষয়, প্রাপ্ত সব তথ্য অনুযায়ী অনুমান করা যেতে পারে যে, গ্রুপটি গঠিত হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বল প্রয়োগের পরিকল্পনা ও সঙ্গতি সাধনের জন্য. ওয়াশিংটন এ সম্ভাবনা মূলনীতিগতভাবে অস্বীকার করে না, যার জন্য ইস্রাইলী প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদ জানান. ইরানের নীতি আগের মতোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ জাগায়. সম্প্রতি প্রকাশিত আরবী আশ্-শার্ক-আল্-আউসাতপত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে CIA  ডিরেক্টর লিওন পানেটা ইরানের বিরুদ্ধে গোটা একসারি অভিযোগ তুলেছেন. সাধারণভাবে, এমন ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র লাভে ইরানের অভিপ্রায়, যা কোনো তথ্য দ্বারা সমর্থিত নয়,- এহল ইরানের স্বাধীন নীতিতে ওয়াশিংটনের অসন্তোষ প্রকাশের আড়ালস্বরূপ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়োক্তি করছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেলে তা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে. তবে, বহু সংখ্যক পর্যবেক্ষকের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র এ অঞ্চলে ইতিমধ্যেই আছে. তবে, তা ইরানের নয়, ইস্রাইলের হাতে রয়েছে. অতএব, প্রশ্ন ওঠে- নিকট প্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে কে? আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি ভাবা উচিত নয় মার্কিনী-আরব, মার্কিনী-ইরাকী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার ইস্রাইল সম্পর্কে?