জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সু্প্রিম কমিসার আন্তনীয় গুতেরিস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্থানের আভ্যন্তরীন শরনার্থীদের সাহায্যের আহবান জানিয়েছেন. তিনি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্থানে বিশ্বেব় সবচেয়ে নাটকিয় পরিস্থিতি হিসাবে নাম করন করেন. আন্তনীয় গুতেরিস সতর্কবানী উল্লেখ করে বলেন পাকিস্থানে সময় মত সাহায্য করা না গেলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে. আমাদের পর্জবেক্ষক জর্জ বানেসভ এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানাচ্ছেন যে পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিম অন্চল তালেবানদের দ্বারা অবৈধ দখলের পর পাকিস্থান সেনাবাহীনি সেখানে সামরিক অভিযান চালাতে শুরু করলে স্থানীয় সাধারন লোকজন পার্শ্ববর্তী অন্চলে যেতে বাধ্য হয়. প্রাপ্ত তথ্য মতে এ অন্চলে শরনার্থীর সংখ্যা ২ মিলিয়ন এর মত. এর মধ্য ১০ শতাংশ শরনার্থীকে সরকারের তৈরী বিশেষ ঘাটিতে জায়গা দিয়েছে. অন্যান্য শরনার্থীরা তাদের আত্বীয় স্বজনদের কাছে ও অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে. অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে. পাকিস্থানের আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শরনার্থীদের প্রয়োজনায় সাহায্য করতে অক্ষম. তাছাড়া দিন দিন শরনার্থীদের সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে যে তা সকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে. এই পরিস্থিতিতে শুধু পাকিস্থানেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না বরং অন্যান্য অন্চলেও ছড়িয়ে পড়বে. পরিস্থিতি এই জন্যই ভয়াবহ যে পাকিস্থান পারমানবিক আর্সেনালের অধিকারি. যা তালেবানরা তাতে খুবই আগ্রহী. অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্রের কাছাকাছি অবস্থানে তালেবানরা চলে যেতে পারে. বলার প্রয়োজন নেই যে আন্তর্জাতিক সমাজ তা বোঝেনা. তাই বৃটেন শরনার্থীদের সাহায্যে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড ও চায়না জরুরী ভিত্তিতে ১ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে. ফ্রান্সও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে. গতকাল হিলারী ক্লিনটন শরনার্থীদের সাহায্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষনা দিয়েছেন. মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে বিগত ৩০ বছর যাবত পাকিস্থান বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ছিল অনুকরনীয়. তাই এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদকে ততটুকু সাহায্য করবে যতটুকু পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হবে.

পাকিস্থান সরকার তালেবানদের উপর সামরিক অভিযান চালানোর ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সাথে অবশ্যই আলোচনা করেছিল. তারা জানত এ সামরিক অভিযানে স্থানীয় জনগনের দুর্দশার কথা. সরকারে প্রয়োজনীয় সাহায্যের অক্ষমতা জনগনকে তাদের ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছে. তাতে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে এমনকি সরকারেরও পতন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে. এ বিষয়ে ভারতীয় সাংবাদিক কাশ্মীর সিং বলেনঃ পাকিস্থান সরকার সম্ভবত তালেবানদের পরাজিত করবে. কিন্তু তার চেযেও বেশি গুরুত্বপুর্ন লক্ষ লক্ষ শরনার্থীদের সাহায্যে সমর্থন জানান. কিছুদিন আগে পাকিস্থান পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা জিলানী বলেছেন সরকার জনগনের সমর্থন হারাবেন যদি লক্ষ লক্ষ সাধারন জনগনকে সাহায্যে এগিয়ে না আসেন যারা জংগী দমনে সামরিক অভিযানে নিজেদের বাড়ঘর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন. যদি তাই হয় তাহলে পাকিস্থান সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন. এমতাবস্থায় পাকিস্থানের সেনাবাহিনী আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে. তবে এ বিষয়ে ভবিষ্যতবানী করা খুবই কঠিন.