শুধুমাত্র সৈন্যদলের সংখ্যা বাড়িয়ে যে আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব নয় এ কথা তাঁর বিশ্বাস বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কিছুদিন আগে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে বলতে বাধ্য হয়েছেন. সোভিয়েত দেশ ও ইংল্যান্ড এই পথ নিয়েছিল কিন্তু তাতে সফল হতে পারেনি, পরে যোগ করেছেন বারাক ওবামা. রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য প্রকাশের পরেই মাকির্ন সৈন্য বাহিনীর প্রধানদের অধ্যক্ষ (নৌ সেনাপতি) অ্যাডমিরাল মাইকেল মাল্লেন এক সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেছেন যে, যতদিন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সাধারন জনতা আফগানিস্থানে যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব নয়. আফগানিস্থানে মার্কিন রাজনীতির পূণর্মূল্যায়ন বলে এই বক্তব্য গুলিকে ধরা উচিত্ হবে কি? যদি তাই হয় তবে, এর পরে কোন বিশেষ কাজ কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে দেখতে পাওয়া যেতে পারে? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ভিক্তর নাদেইন– রায়েভস্কি তাঁর রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া ইন্টারভিউতে এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেনঃ

         শুধুমাত্র তালিবদের সৈন্যবাহিনী দিয়ে দমন করে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করার চেষ্টাটাই আফগান সমস্যার সমাধানের একমাত্র সূত্র নয়, মূল বিষয় হল এই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনের সংস্থা গুলির উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উন্নতির প্রচেষ্টা করা. আমার মতে আফগানিস্থানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুল কি হয়েছিল? তারা যুদ্ধের দিকে বেশী মনোযোগ দিতে গিয়ে সামরিক বাহিনীর সংখ্যাই খালি বাড়িয়ে গেছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির সমস্যা গুলিকে রাখা হয়েছে মনোযোগের বাইরে. নজরে আনতে চাইব যে, বারাক ওবামা সোভিয়েত দেশ সম্পর্কে যা বলেছেন তাতে বলতে ভুলেছেন যে, সোভিয়েত দেশ আফগানিস্থানে শুধুমাত্র সৈন্য পাঠিয়েই থেমে থাকেনি, এই দেশের জাতীয় অর্থনীতির উন্নতির জন্য সাহায্যও করেছিল. আফগানী পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী এই রকম বড় কার্য ক্ষেত্রের সংখ্যা ছিল ১৫০ টি. কিন্তু সোভিয়েত উপস্থিতির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র মুজাহেদীরাই ছিল না, বরং কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরুদ্ধতা করেছিল পাকিস্থান ও আরও অনেক দেশ. সোভিয়েত দেশ আফগানিস্থান ছেড়ে ফিরে এসেছিল. বর্তমানে তালিবান ও সন্ত্রাসবাদীদের, যাদের বিরুদ্ধে লড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোনও দেশই সাহায্য করছে না. আমেরিকার বরং সোভিয়েত দেশের চেয়ে বেশী সুযোগ আছে আফগানিস্থানকে অর্থনৈতিক সাহায্য করার. কিন্তু তারা এর পূর্ণ ব্যবহার করছে না. আরও একটি ভুল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, তালিবানের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে সাধারন মানুষের মৃত্যুর কারণ ঘটানো. ভাল যে, অ্যাডমিরাল মাইকেল মাল্লেন এই ভুল স্বীকার করেছেন, কিন্তু একই সঙ্গে ঘোষনা করতে ছাড়েন নি যে, আকাশ পথে হানা এর পরও চালু থাকবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভুলের আরও একটি বিষয় হল পূর্ববর্তী সরকার আফগানদের জোর করে তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মের পরিপন্থী মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল. আরও একটি ভুল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হল আফগানিস্থানের মাদকদ্রব্যের ব্যবসার এত বাড় বাড়তে দেওয়া, যে আজ তা তালিবদের মূল অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পারছে. আমি কোন হিংসুকের মত আনন্দে এই ভুলগুলির কথা বলছি না. রাশিয়া আফগানিস্থানের মানুষের দুঃখে দুঃখিত এবং চায় যে, যত শীঘ্র সম্ভব এই দেশে শান্তি ফিরে আসুক. রাশিয়া, চীন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলি ও ইরান নিজেদের সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও চায় যে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক. সেই জন্যই তারা তালিবান ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধতে সাহায্য করে চলেছে. কিন্তু এই সংগ্রামে যারা ভুল করেছে তারাই তা শুদ্ধ করতে বাধ্য. আমার মতে বোঝা যাচ্ছে যে, বারাক ওবামা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আমেরিকানদের ঘোষণা ভুল বুঝবার প্রক্রিয়ার শুরুর নির্দেশ করছে. ইচ্ছে হয় যে, এই বোধ কে কার্যে পরিণত হতে দেখতে. কিন্তু আমি আপাতত তা দেখতে পাচ্ছি না.