রাশিয়া বিশ্ব শস্য বাজারে নিজের স্থিতি সুদৃঢ় করতে চায় এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কৃষি শাখার সমর্থনে সামঞ্জস্য অর্জনের চেষ্টা করছে, তাদের সার্বভৌম স্বার্থ বিবেচনা করে. রস্সিইস্কায়া গাজেতা পত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এ মত প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর জুবকোভ.

   আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গোটা ইতিহাসে এই প্রথম ৬৫টি দেশের কৃষিমন্ত্রীরা ৬-৭ই জুলাই সমবেত হবেন সাঙ্কত-পিতারবুর্গে বিশ্ব শস্য সম্মেলনে. গত বছরের গ্রীষ্মকালে জাপানে G-8 শীর্ষ সম্মেলনে তা আয়োজনের উদ্যোগ প্রকাশ করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ. জুবকোভের মতে, এ সম্মেলন সারা পৃথিবীতে খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য এক অনন্য সুযোগ হবে. একই সঙ্গে তিনি এ মত খন্ডন করেন যে, আসন্ন সম্মেলনে এক ধরণের শস্য-ওপেক গঠিত হতে পারে, অন্য কথায় বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠিত হতে পারে যা স্বকীয় ধরণের বিশ্ব শস্য সরকারহয়ে উঠবে. তবে কৃষ্ণসাগরীয় দেশগুলির শস্য পুল-এর মতো সংস্থা গঠন খুবই সম্ভব, যাতে অন্তর্ভুক্ত হবে এ অঞ্চলের দেশগুলি, যারা ইতিমধ্যেই বিশ্ব শস্য বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে.

   এ শতকে রাশিয়া বৃহত্তম শস্য ক্রেতা থেকে বিক্রেতায় পরিণত হয়েছে, বিশ্ব বাজারে সরবরাহের পরিমাণের দিক থেকে সে চতুর্থ স্থানে রয়েছে. সেই সঙ্গে, উত্পাদন বৃদ্ধির যথেষ্ট ক্ষমতাও দেখা দিযেছে, যা সারা পৃথিবীতে রাশিয়ার শস্য ভাণ্ডারের প্রতি বিশেষ আগ্রহ জাগিয়েছে.

   গত বছরে রাশিয়ায় বিগত ১৫ বছরে রেকর্ড পরিমাণ শস্য সংগ্রহ করা হয়. এর দরুণ শস্য রপ্তানির দেশের সংখ্যাও যথেষ্ট বাড়ানো সম্ভব হয়েছে. বহু মাত্রায় এরই কল্যাণে ক্রেতা দেশগুলিতে খাদ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত হয়েছে, বলেন রাশিয়ার শস্য সঙ্ঘের সভাপতি আর্কাদি জ্লোচেভস্কি.

   এটা নিঃসন্দেহে আধুনিক রাশিয়ার পুরো সময়ে ঐতিহাসিক রেকর্ড. এত পরিমাণ শস্য আগে কখনও রপ্তানি করা হয়নি, তবে এটা ন্যায্য ফল, বিগত বছরগুলিতে দেশের শস্য বাজার কিভাবে বিকশিত হয়েছে তা বিবেচনায় রাখলে. অতএব এ ফল আপতিক নয়. প্রসঙ্গত, বিশ্ব শস্য বাজারে

রাশিয়া বিশ্ব পরিসরের কর্তব্য স্থাপন করেছে, বলেন আর্কাদি জ্লোচেভস্কি.

   ভিক্তর জুবকোভের কথায়, রাশিয়া নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য দেখে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে শস্য সরবরাহ বৃদ্ধিতে. এজন্য সমস্ত বাস্তব পূর্বশর্ত আছে. তিনি বলেন, পয়লা জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন শস্য বছরে রাশিয়া প্রবেশ করবে যথেষ্ট পরিমাণ অন্তর্বর্তী সঞ্চয় নিয়ে. তাছাড়া প্রয়োজনে ব্যবহারের সঞ্চয় তহবিলও আছে, যা বিশ্বাসভরে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সুযোগ দেয়. এখন কৃষি মন্ত্রক নতুন ফসল সংরক্ষণের কৌশলিক কর্তব্য সমাধান করছে. ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে ঐক্যবদ্ধ শস্য কোম্পানি, যা এসব সমস্যার মীমাংসায় যোগ দেবে.