আন্তর্জাতিক মিউজিয়াম দিবস ১৮ই মে পর্যটকরা প্রথম মস্কো ক্রেমলিনে নতুন যাত্রাপথে যাত্রা করবে. সরু ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে তারা উঠবে ক্রেমলিনের সবচেয়ে উঁচু – ৮০ মিটার উঁচু ইভান ভেলিকিঘন্টামিনারের দর্শন-চত্বরে, যাতে ঈগল পাখীর চোখের উচ্চতা থেকে গোটা ক্রেমলিনের ভূভাগের  প্রতি দৃষ্টিপাত করা যায়.

নতুন এই পর্যটন-পথটি সত্যিই চাঞ্চল্যকর, কারণ ৯০ বছর এই ঘন্টামিনারটি আগন্তুকদের জন্য বন্ধ ছিল. মানুষের জীবনের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, আর খাস ঘন্টামিনারের বয়সের দিক থেকে এটা কম নয়, কারণ সম্প্রতি তার ৫০০ বছর পূর্ণ হয়েছে.

বিগত কয়েক বছর ধরে এই ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক-স্থাপত্য স্মরণিকের পুঙ্খানপুঙ্খ পুনর্নবীকরণ করা হয়. এর নিচের ধাপে এখন রয়েছে অপরূপ প্রদর্শনী, যাতে মস্কো ক্রেমলিনের আটশো বছরের ইতিহাস প্রতিফলিত. তাই, দর্শন-চত্বরে ওঠার আগে দর্শকরা চতুর্দশ শতকে প্রথম পাথরের গীর্জা নির্মাণের সময় থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্রেমলিনের ভূভাগে তৈরি ভবনগুলির স্থাপত্য ও আলঙ্কারিক অংশ দেখতে পাবেন. নতুন মিউজিয়ামটিতে পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ব্যবস্থার সুযোগ-সম্ভাবনা, যার সাহায্যে দেয়াল না থাকার এফেক্টসৃষ্টি করা হয়. দর্শকরা যেন গিয়ে পড়েন অন্য ঐতিহাসিক যুগে এবং ক্রেমলিনের বিভিন্ন যুগের দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, বলেন মস্কো ক্রেমলিন মিউজিয়ামে বৈজ্ঞানিক কাজ সংক্রান্ত নেতা আলেক্সেই লেভিকিন:

আমরা দর্শকদের ঊনবিংশ শতকের সংরক্ষিত অনুপম দৃশ্য দেখার সুযোগ দেব. আর, রড় কথা হল,- এটি ১৮৯৫ সালের বিখ্যাত প্যানোরামা, ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে, তার অর্থ সে যুগের গোটা মস্কোর দৃশ্য. এই প্যানোরামাটি তৈরি করা হয়েছিল ইভান ভেলিকি ঘন্টামিনার থেকেই. এইভাবে, দর্শকরা শেষ পর্যায়ে, ঘন্টামিনারের দর্শন-চত্বরে যা দেখতে পাবেন তার জন্য প্রস্তুত থাকবেন. আর দর্শন-চত্বর থেকে তাঁরা দেখতে পাবেন মস্কো ক্রেমলিনের আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন.”

নতুন পর্যটন-পথটি অপরূপ. ঘন্টামিনারের গায়ের সরু পথ দিয়ে ৬-৭ জনের ছোট ছোট দলই যেতে পারে. পর্যটকদের সাথী হল কয়েকটি ভাষা জানা ইলেকট্রোনিক গাইড, যাতে জায়গা বাঁচানো যায়. মিউজয়াম কর্মীরা মনে করেন, শিগগিরই ইভান ভেলিকি ঘন্টামিনার দর্শন মস্কো ক্রেমলিনে পর্যটনের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পথ হয়ে উঠবে.