আজ জেনেভাতে ককেশীয় পর্ব্বতের পূর্ব্ব উপত্যকা অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় পঞ্চম রাউন্ডের বৈঠক বসতে চলেছে. গত বছরের আগষ্ট মাসে জর্জিয়ার দক্ষিণ অসেতিয়া আক্রমণ প্রতিহত করে তাদের নিজেদের সীমানার মধ্যে ফিরে যেতে বাধ্য করার পর ফ্রান্স ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিদের যৌথ সিদ্ধান্তের ফলে এই বৈঠকের শুরু হয়েছিল. জাতিসংঘের উদ্যোগে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করছে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ অসেতিয়া, আবখাজিয়া, জর্জিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগীতা পরিষদের প্রতিনিধিরা.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রক ঘোষণা করেছে যে, এই দেশের প্রতিনিধিদের জেনেভায় জর্জিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির উপর ভবিষ্যতে সামরিক হামলা বন্ধ করার শপথ নেওয়ানোর দলিল তৈরী করানোই হবে মূল উদ্দেশ্য. এর জন্য দরকার হবে আইনসিদ্ধ ভাবে জর্জিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া এবং জর্জিয়া ও আবখাজিয়ার মধ্যে সামরিক শক্তির প্রয়োগ বন্ধের জন্য চুক্তি. দক্ষিণ অসেতিয়ার প্রতিনিধিরা এই মর্মে একটি  স্মারকলিপি এর মধ্যেই তৈরী করে ফেলেছেন. এই সদ্য স্বীকৃত দেশটির রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি বরিস চোচিয়েভ সঙ্কট পরবর্তী নিরসন দপ্তরের তরফ থেকে এই ঘোষণা করেছেন. উনি আরও বলেছেন যে, আমাদের জর্জিয়ার তরফ থেকে শপথ মূলক আশ্বাস চাই যে, জর্জিয়া আমাদের দেশে আবার করে বিশ্বাস ঘাতকের মত হামলা করবে না. ক্রেমলিনের রাষ্ট্রপতি দপ্তরের প্রধান সের্গেই নারিশকিন রেডিও রাশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্কারে মনে করিয়ে দিয়েছেন জর্জিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলির উপর সামরিক হামলার পরিণাম কি হয়েছিলঃ

     সাকোয়াশভিলি শাসনের হিংস্র আগ্রাসনের ফলে দক্ষিণ অসেতিয়ার অপরিসীম ক্ষতি হয়েছিল. সামাজিক ও প্রকৌশল গত পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল. অনেক মানুষের প্রাণ গিয়েছিল বিনা অপরাধে.

     যাতে এই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, মস্কো জর্জিয়াতে হানাদারী অস্ত্র সরবরাহের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধ আরোপ করাতে চায়. মস্কোর এই অভিমতের সপক্ষে পূর্ণ ভিত্তি আছে. কারণ তিবিলিসিতে আবারও শোনা যাচ্ছে প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিকে শক্তি প্রয়োগ ও অস্ত্রের মাধ্যমে আয়ত্ব করার ঘোষণা. একই সঙ্গে দক্ষিণ অসেতিয়া ও আবখাজিয়ার সীমান্তে বানানো হচ্ছে নতুন দূর্গ প্রাকার, জমা করা হচ্ছে নতুন বাহিনী এবং চলছে সামরিক মহড়া. একই সঙ্গে এই অবস্থা আরও তাতিয়ে তোলা হচ্ছে ন্যাটো জোটের মহড়ার নামে.

     যদিও আবখাজিয়ার পঞ্চম রাউন্ডের বৈঠকে অংশগ্রহণে এখনও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে. আবখাজিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধাণ সের্গেই শাম্বা বলেছেন, সমস্যা জাতিসংঘের আবখাজিয়ার সম্বন্ধে অবস্থানের. এর আগে অন্য কোন দেশের স্বীকৃতি না পাওয়া অবস্থায় আবখাজিয়াকে জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হত জর্জিয়ার অংশ. বর্তমানে দুটি জাতিসংঘের সভ্য দেশের কাছ থেকে পৃথক দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার পর অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং গত ১৫ই মে র মধ্যে জাতিসংঘের প্রধান সম্পাদকের জর্জিয়া – আবখাজিয়া সমস্যা অঞ্চল সংক্রান্ত  রিপোর্টে এর উল্লেখ থাকা উচিত ছিল, কিন্তু এই রিপোর্ট এখনও অবধি প্রকাশ করা হয় নি. তাই যতক্ষণ পর্যন্ত আবখাজিয়ার রাজধানী সুখুমিতে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক মতের এই অঞ্চল সম্বন্ধে ধারণা সচেতন ভাবে বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে পাল্টেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের কোনো বৈঠকে বসতে আবখাজিয়ার প্রতিনিধিরা কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না.

     মস্কো, জর্জিয়ার প্রতিবেশী অঞ্চলগুলিতে শক্তি প্রয়োগ ও অস্ত্রের মাধ্যমে আয়ত্ব করার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে সামরিক হামলা বন্ধ করার আন্তর্জাতিক শপথ নেওয়ানোর দলিল তৈরীতে ও দক্ষিণ অসেতিয়া এবং আবখাজিয়ার নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে সাহায্য করছে. অংশতঃ, ককেশীয় পর্ব্বতের পূর্ব্ব উপত্যকা অঞ্চলের সদ্য স্বীকৃত দেশগুলির সঙ্গে একজোট হয়ে সীমান্ত সংরক্ষণ চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়েছে খুব বেশিদিন আগে নয়.