পাকিস্থান সরকার তালেবানদের পরাজিত করে ছাড়বে, গতকাল পাকিস্থান জাতীয় সংসদে দেয়া এক ভাষনে পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা জিলানী এ কথা বলেন. তিনি এও স্বীকার করেন যে যদি কয়েকশত হাজার সাধারন শান্তিপ্রিয় জনগনকে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য না করা যায়, যারা জংগীবাদ দমনে জংগীদের উপর সেনা বাহিনীর আঘাতে ঘর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সাধারন জনগন তাতে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে পারে.
পাকিস্থান সরকার এসব বাস্তুহারাদের জন্য স্বাত ও অন্যন্য শহরে পুনবাসন কেন্দ্র খুলেছেন যেখানে পাকিস্থান সেনা বাহিনী তালেবানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে. শরনার্থীরা এসব পুনবাসন কেন্দ্রে প্রায় ৫ লক্ষ সাধারন জনগন এসে হাজির হয়েছেন. কিছুদিন পর হয়ত সেখানে মিলিয়নের উপর দাড়াবে. তাদের বাসস্থানের ব্যাবস্থা ও খাইয়ে বেচে থাকার জন্য এবং যারা নিজেস্ব বাড়িঘর হারিয়েছেন তাদের ক্ষতিপুরনের জন্য বিশাল বাজেটের প্রয়োজন. পাকিস্থান সরকার আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন. এর চেয়েও বেশি সাহায্যের প্রয়োজন জংগীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া. তাহলে কি পরিমান টাকায় তালেবানরা তাদের জংগী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে. কি পরিমান ব্যায়ে তারা টেরোরিস্ট-খামিকাদজে তৈরী করছে. আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ, যা দিয়ে সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু এগিয়েই যাচ্ছে. এসব বিবেচনা করলে দেখা যায় তালেবানরা শুধু সন্ত্রাসবাদী নয় বরং কমেরসান্ত বা ব্যাবসায়ীও. তারাই পাকিস্থানে বিভিন্ন, উপদলে অবৈধ শুধু নিয়ন্ত্রন করছে. শুধু শুধুই নয়, পাকিস্থানের উত্তর-পশ্চিমে জংগীরা প্রাকৃতিক সম্পদ ও বনজ সম্পদ ব্যাবহার করছে, যা তারা অবৈধভাবে বহু সম্পদের মালিক হচ্ছে নিজেরা. নিউজ পত্রিকার তথ্যমতে তালেবানদের বাতসরিক ৮০০ মিলিয়ন ডলার বানিজ্যক আদান প্রদান হচ্ছে. তাছাড়া মমান্ড অন্চলের জিরাতে তারা খুব সহজেই অবৈধভাবে আয় করছে চিনামাটি ও সিরামিক বালি বিক্রি করে যে অন্চলটি তারা ২০০৮ সালে দখল করেছিল.
বলা প্রয়োজন যে তালেবানরা সেসব অন্চলই তারা নিয়ন্ত্রন করে বা করতে চায়- যেখান থেকে সহজেই মূল্যবান জিনিষ পত্র পাওয়া যায়. মিংগরা অন্চলের স্বাত নদীর অববাহিকা দখলের বা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে তারা শুধু সেখানে সরিয়া আইনই চালু করেনি বরং সেখানকার মূল্যবান পাথরও সংগ্রহ করে যাচ্ছে যা বিদেশে আমদানির মাধ্যমে বিরাট অংশ তাদের নিজেস্ব পকেটে যাচ্ছে. তাছাড়া সেখানকার মূল্যবান বনজ সম্পদ তারা অবৈধভাবে বিক্রি করছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে যাচ্ছে.
তাহলে কারা ক্রয় করছে তালেবানদের কাছ থেকে এসব মূল্যবান পাথর ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিষ পত্র. এসব প্রশ্নের উত্তর নেই. এমনকি নিউইয়র্ক,লন্ডন ও অন্যান্য পশ্চিমা স্বর্নের দোকানগুলিতে খুজে পাওয়া যাবে এসব মূল্যবান পাথরের গহনা সামগ্রী যা তৈরী করা হয়েছে পাকিস্থানি মূল্যবান পাথর দিয়ে. তাই যেসব ব্যবসায়ী এসব মূল্যবান পাথর তালেবানদের কাছ থেকে ক্রয় করে তালেবানদের শক্তিশালী করেছেন বলা প্রয়োজন তারা ও পরোক্ষভাবে জংগীদের উত্সাহিত করে যাচ্ছেন.
এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ছতনিকভ বলেন এখন পাকিস্থান আর্মি স্বাতে বুনের ও অন্যান্য জনবসতী অন্চলে সক্রিয়ভাবে অভিজান চালিয়ে যাচ্ছে যে অন্চলগুলি তালেবান কয়েকমাস আগে নিয়ন্ত্রন করেছিল আমাদের একথাই বিশ্বাস করতে হবে যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি দৃড়তার সাথে বলেছেন পাকিস্থানের সেনাবাহিনী তালেবান যোদ্ধাদের পরাজিত করবেই. এটাও অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন যে পাকিস্থানের জাতীয় সম্পদ অবৈধ ব্যাবসা থেকেও তালেবানদের দুরে রাখতে হবে তাহলেই তারা অর্থনৈতিকভাবে পংগু হয়ে পড়বে.