মস্কো ইউরোপকে উপহার দিয়েছে রুপকথা. গতরাতে ইউরোপের লক্ষ লক্ষ টেলিদর্শক দেখেছেন এক অপরুপ শো ইউরোভিশন ২০০৯ গানের প্রতিযোগিতার ফাইনাল. এ সংগীত প্রতিযোগিতার পন্চাশ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এমন পরিসর ও সৌন্দর্জ, গতিশীলতা ও শিল্পশৈলী দৃশ্যমান ও প্রযুক্তিগত কৌশল আগে কখনও দেখা যায়নি. সমস্ত বিশেষজ্ঞ এ কথা স্বীকার করে বলেন ভবিষ্যতে এমনটা আবার হবে বলে সন্দেহ আছে. ব্যাপারটা হল এই যে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা গানটি যা গেয়েছিলেন নরওয়ের আলেকজান্দর রীবাক, নাম ছিল রুপকথা.

আলেকজান্দর রীবাক রেকর্ড সংখ্যক পয়েন্ট ৩৮৭ পেয়ে ইউরোভিশন ২০০৯ প্রতিযোগিতায় নিসন্দেহে বিজয়ী হন. পুর ইউরোপ নরওয়ের এই গায়কের পক্ষে ভোট দিয়ে নিসন্দেহে প্রাধান্য দিয়েছেন গায়কের তারুন্য. আন্তরিকতা, সুরের তারুন্য, প্রকৃত লোক সংগীতের মত ভাবাবেগের প্রতি এবং গায়ক নিজেই নিজের সংগত করেছেন ভায়োলিক বাজিয়ে. এ গানটিতে আভাস ছিল. অবশ্য এতে আশ্চর্জের কিছু নেই কারন ২৩ বছর বয়সী আলেকজান্দর জন্ম গ্রহন করেন বেলোরুশিয়ায়, সোভিয়েত আমলে. তিনি সুন্দর রুশী বলেন এবং প্রথম ধন্যবাদ জ্ঞাপনের কথাগুলি মন্চ থেকে উচ্চারন করেন রুশ ভাষাতেই. আর এ গানটি রচনার ইতিহাসও তিনি বর্ননা করেন রুশ ভাষাতেই.
আলেকজান্দর রীবাক বলেন যে গত গ্রীষ্ম আমি কাটিয়েছিলাম সমুদ্রের তীরে একটি গ্রামে. অপরুপ পারিপার্শিকতা আমার প্রেরনা জোগায়. সবচেয়ে উচু পাহাড়ে উঠে আমি ভায়োলিমায় বার করে একটা সুর বাজাতে থাকি. তারপর গানের কথাগুলি রচনা করি. গানটি একটি মেয়ে সম্পর্কে যাকে আমার ভাল লাগত.
সারা রাত মস্কোয় লোকে ইউরোভিশন প্রতিযোগিতার ফলাফল আলোচনা করে আনন্দ প্রকাশ করে সেসব শিল্পীর গানে যারা লিডারদের মধ্যে ছিল. আলেকজান্দর ছাড়া এদের মধ্যে ছিল আইসল্যন্ডের গায়িকা ইউহানা, আজারবাইজানের জুটি আইসেল ও আরাশ. অনেক রাত পর্জন্ত ইউরোভিশনের বিশেষ কেন্দ্র ইউরোভবন লোকে ভরা ছিল তারা বিশাল পর্দায় প্রতিযোগিতার ফাইনাল দেখেন রাশিয়ার টেলিভিশনের প্রথম চ্যানেলে তাদের আলোচনা সোজাসুজি দেখান হয়. ইউরোভিশনের টেলিচিত্র বহু পেশাদার লোকদেরও অভিভপত করেছিল. এমন ফলপ্রসু শো আয়োজনের জন্য আন্তর্জাতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছে,বলেন প্রথম চ্যানেলের অধিকর্তা কন্সতানতিন এর্নস্ট. তিনি বলেন আমরা নিজেদের পেশার শ্রেষ্ঠ লোকদের আন্তর্জাতিক দলকে একত্রিত করেছি. আলোকসজ্জা করেছে গ্রেট বৃটেনের বিশেষজ্ঞরা, শব্দ জার্মানির বিশেষজ্ঞরা. আর যারা প্রযুক্তি সজ্জিত করেছিল এবং ঝুলন্ত কাঠামো ও গঠনবিন্যাস লাগিয়েছিল তারা এসেছিল কয়েকটি ইউরোপিয় দেশ থেকে. আর গোটা ধারনা ও বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রন ছিল রাশিয়ার হাতে. অতএব এটি আমাদের মিলিত কাজ. বল্লেন কন্সতানতিন এর্নস্ট.
এখন মস্কো ইউরোভিশন ২০০৯ প্রতিযোগিতার প্রতিযোগি ও অতিথিদের বিদায় জানাচ্ছে এবং পরের প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব অর্পন করছে ওসনোকে.