রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ ২০২০ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার রণনীতি” প্রবর্তন সংক্রান্ত নির্দেশনামা স্বাক্ষর করেছেন. তার মর্ম ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে আমাদের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ভিক্তর ইয়েনিকেয়েভ লিথছেন :

     এ নতুন দলিল জাতীয় নিরাপত্তার ধারণার স্থান নেবে, যা গৃহীত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে. জাতীয় নিরাপত্তার রণনীতিতে আগের দলিলের ধারাগুলি বিকাশ করা হয়েছে, তবে বাস্তবিকপক্ষে, এটি নতুন দলিল. এ সম্পর্কে ইজভেস্তিয়া পত্রিকাকে বলেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাতরুশেভ. তিনি উল্লেথ করেছেন যে এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে রণনৈতিক জাতীয় স্বার্থ পুরণের দ্বারা.

     সর্বোচ্চ ও মর্যাদাসম্পন্ন মহলে বুনিয়াদী ভিত্তিতে আলোচিত এ নতুন দলিলের বৈশিষ্ট্য হল এই যে, তা ২০২০ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার সামাজিক-অর্থনৈতিক বিকাশের দীর্ঘমেয়াদী ধারণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত. রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভের দ্বারা অনুমোদিত রণনীতি অনুযায়ী শিল্পক্ষেত্র, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উচ্চ-প্রাকৌশলিক বিকাশ করার কথা, দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ও দেশের জীবনী স্বার্থ সুনিশ্চিত করার কথা. মূলনীতিগত গুরুত্ব ধারণ করে পূর্বে ঘোষিত অর্থনীতির কাঁচামাল রপ্তানির মডেল ত্যাগ করা এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীলতা ত্যাগ করার ধারণা. এই প্রথম রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার রণনীতিতে দেখা দিয়েছে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যরক্ষা এবং এমনকি প্রকৃতি ব্যবহার সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ. এ দলিলের উচ্চ লক্ষ্য হল এই যে, তা রাশিয়ার নাগরিকদের জীবনের যোগ্য মান সুনিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিত. আর এতেই রয়েছে দেশের নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার মুখ্য চাবিকাঠি.

     রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে বলব যে গৃহীত রণনীতি অনুযায়ী তা হবে বাস্তববাদী, বহু দিক সম্বলিত এবং মোকাবিলা ও ব্যয়বহুল অস্ত্র প্রতিযোগিতা রহিত . তা অনুযায়ী, ন্যাটো জোটের সঙ্গে সম্পর্কে সমান যৌথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা এবং এ জোটের সমরযন্ত্রের রাশিয়ার সীমানার দিকে অগ্রগতি ঘটতে দেওয়া উচিত নয়. এ প্রসঙ্গে প্রধান গুরুত্ব ধারণ করে ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি শেষ বিধানের বদলে ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন চুক্তি প্রণয়ন ও সম্পাদন সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভের প্রস্তাব.

     দলিলে উল্লেখ করা হচ্ছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে রাশিয়া সমানাধিকারী, পারস্পরিক লাভজনক রণনৈতিক শরিকানার সম্পর্ক গড়ে তোলায় সচেষ্ট থাকবে. দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে রণনৈতিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা, রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আস্থার ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং ব্যাপক নরহত্যার অস্ত্র প্রসার নিরোধের মতো সমস্যার প্রতি. মস্কো আগের মতোই বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিক সঙ্ঘর্ষ ও যুদ্ধ নিবারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে. জাতীয় নিরাপত্তার রণনীতির আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল, এ দলিলে স্বীকার করা হয়েছে যে এ দলিলের বাস্তবায়ন সম্ভব শুধু রাশিয়ার জনসমাজের ব্যাপক স্তরের সক্রিয় সমর্থনের ভিত্তিতেই.