যৌথ প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগের পরিমান বাড়ানো রাশিয়ান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের বর্তমান মঙ্গোলিয়া সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে. কেন্দ্রীয় বিষয় হিসাবে পরিবহণ, কৃষি ও খনিজ সম্পদ আহরণের যৌথ প্রকল্প সম্পর্কিত আলোচনা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হয়েছে.

     বিশেষতঃ বর্তমান রেল পরিবহণ পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়া যৌথ উদ্যোগে একটি পৃথক প্রকল্প সৃষ্টি করতে চলেছে. দক্ষিণ মঙ্গোলিয়ার প্রয়োজনীয় বৃহত্খনিজ সম্পদে ভর্তি অঞ্চলের সাথে পরিবহণের সুবিধা সৃষ্টি হবে এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য. পূর্ব মঙ্গোলিয়ার ইউরেনিয়াম আকরিক নিষ্কাশণের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার যৌথ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগের বিষয়েও মত বিনিময় চালু থাকবে. খনিজ সম্পদ আহরণের দিক থেকে দেখলে, মঙ্গোলিয়া এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বিদেশী কোম্পানীদের জন্য বিনিয়োগের একটি খুব লোভনীয় দেশ. ব্যাংক পরিষেবা ও গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি মূলক.

      কিন্তু রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে. দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ১ বিলিয়ন ৩০০ মিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে মঙ্গোলিয়ার ঋণ ১ বিলিয়ন ও এই অসাম্য আলোচনার ক্ষেত্রে মঙ্গোলিয়ার ক্ষোভের কারণ হলে তা যৌথ উদ্যোগের প্রধান অন্তরায় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে. এই অসাম্য দূর করতে মঙ্গোলিয়ার তরফ থেকে নিকটবর্তী সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্রাণিজ দ্রব্যের চালান বাড়াতে দেওয়ার প্রস্তাব আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে. বিশেষ ভাবে দুই পক্ষই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যের যৌথভাবে উন্নয়ন ও প্রসারে আগ্রহী. শুধুমাত্র ইরকুত্সক অঞ্চলেই দুই দেশের চালানি কারবারের শতকরা ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়ে থাকে. দুই দেশের মোট চালানি কারবারের শতকরা ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়ে থাকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের রাশিয়ান প্রদেশগুলিতেই. সুতরাং এক কথায় বলা যায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যত্প্রসার সম্ভাব্য ও যথেষ্ট সুদূরপ্রসারী.