নিকট প্রাচ্যে দ্বন্দে জড়িয়ে পড়া সব কটি দেশের একত্রিত হয়ে সমস্যার সমাধান সূত্র খূঁজে বার করতে পারলে তবেই এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা যেতে পারে বলে নিউইয়র্কে ইউ এন ও র নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত অধিবেশনে রাশিয়ার এই বিষয়ে অবস্থান সম্বন্ধে সারার্থ ব্যক্ত করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের প্রধান – সের্গেই লাভরভ. তাঁর বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল মস্কো কনফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিত, আলোচ্য বিষয় ও বর্ত্তমানের মতামত বিনিময়ের শূন্যস্থান পূরণ করতেই যে এই উদ্দ্যোগ তার উপস্থাপনা করা.

নিরাপত্তা পরিষদের বর্ত্তমানের সভাপতিত্বকারী দেশ হিসাবে রাশিয়া মে মাসে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার জন্য উন্মুক্ত অধিবেশনের আয়োজন করতে চেয়েছে. এই অঞ্চলের মূল দুটি বিবদমান দেশ ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন কে সরাসরি আলোচনায় আবার বসানোই মস্কোর মূল উদ্দেশ্য. এই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সূত্রপাত যত দ্রুত হবে ততই আরব – ইজরায়েলীয় সংঘর্ষের উপর ভিত্তিতে উদ্ভূত অন্যান্য সমস্যাগুলির উপর ও নিয়ন্ত্রণ ফেরানো যাবে. এর মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য সিরিয়ার ও লেবাননের সম্পর্কিত দিক গুলি.

অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, ইজরায়েলের নূতন সরকার গঠনে দেরী ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিপূর্ণ অনুপস্থিতিতে এই গাজা অঞ্চলে সন্ত্রাসের পূণর্বহাল, মস্কোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে. বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, মূল উদ্দেশ্য হল পরবর্ত্তী আলোচনার সূত্রপাত যেন পূর্বর বিশ্ব পরিষদের গৃহীত ও দুই বিবদমান পক্ষের দ্বারা স্বীকৃত মীমাংসার পর থেকেই হয়, কিছুতেই তা যেন আবার প্রথম থেকে আলোচনায় পরিণত না হয়.

 পূর্ববর্তী কোনো সিদ্ধান্তই পাল্টানো যাবেনা, প্রথমতঃ, দুটি পৃথক দেশ হিসাবে স্বীকৃতি. এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য ও বিশ্ব জনমত. আমাদের মূল অবস্থান হল এই আলোচনা শুরু হবে এর আগে গৃহীত আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে স্বীকৃত সব কটি সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে, কোনো নতুন করে শূন্য অবস্থান থেকে আলোচনা নয়. ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন দুটি দেশের ক্ষেত্রেই এটা সমান ভাবে প্রযোজ্য. ইজরায়েলের পক্ষ থেকে শক্তি প্রয়োগ, সন্ত্রাস ও গুলিবষর্ণ রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের পথ হতে পারেনা. ইজরায়েলের জোর করে জমি অধিগ্রহণও এই আলোচনার অংশ.

চতুর্দলীয় মধ্যস্থ কারী পরিষদ মস্কো অধিবেশনের শীঘ্রই মস্কো কনফারেন্সের সময় নির্ধারণ করবেন. এক্ষেত্রে সবটাই নির্ভর করছে ইজরায়েলের তার প্রতিবেশী দেশগুলির প্রতি অবস্থান. প্রতিনিধিত্ব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন বিশেষ করে বিবদমান পক্ষগুলি ও বিশ্ব পরিষদের প্রতিনিধিরা ছাড়াও এই কনফারেনসে ঐস্লামিক কনফারেনস অর্গানাইজেশন ও আরব লীগের দেশ গুলির প্রতিনিধিরাও থাকবেন. এর সাফল্যের অনেকটাই নির্ভর করছে প্যালেস্টাইনের আভ্যন্তরীন বিবাদের সমাধানের উপর. রাশিয়ার মন্ত্রী আরও বলেছেন যে, প্যালেস্টাইনের সব কটি রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধিদের সাথেই যে বৈঠকে বসা দরকার, বিশ্বে আজ তা বেশী করে মেনে নিতে দেখা যাচ্ছে. আরবীয় সমর্থনেরও বৃদ্ধি শান্তি প্রচেষ্টায় বিশেষ রূপে নিকট প্রাচ্যে সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের মূল ভিত্তিতে পরিণত হতে চলেছে. বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত মতবাদে এই প্রচেষ্টার একত্রিত করণের উদ্দেশ্যকে সের্গেই লাভরভ সাধুবাদ জানিয়েছেন. বিশ্বের জাতি পরিষদ আজ আশা করছে যে, মস্কো কনফারেন্স নিকট প্রাচ্যে শান্তি ও সম্মতি ফিরিয়ে আনার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে.