মস্কো ও ওয়াশিংটন আপোষ অর্জনের পথ খুঁজছে, তবে মতভেদের প্রতি চোখ বন্ধ রাখছে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে নিজের আলাপ-আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে এ কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভ্রোভ, মার্কিনী পররাষ্ট্রসচিব হিলারী ক্লিন্টনের সঙ্গে মিলিত সাংবাদিক সম্মেলনে.
সের্গেই লাভ্রোভের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রধান উদ্দেশ্য পুরণ হয়েছে, আর তা ছিল – মস্কোয় শীর্ষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভের গ্রীষ্মকালীন সাক্ষাতের প্রস্তুতি. মার্কিনী পক্ষ শেষ দিকে আলাপ-আলোচনার সূচিতে পরিবর্তন আনে এবং মুখ্য আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল হোয়াইট হাউজে, এ খাস ঘটনা ওয়াশিংটনের অভিপ্রায়ের গুরুত্বেরই প্রমাণ দেয় যে, সে মস্কোকে রণনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, রণনৈতিক শরিক হিসেবেইদেখতে চায়.
অবশ্যই, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের “পেরেজাগ্রুজকা “ বা পুনর্ব্যাপৃতি নাম পাওয়া প্রক্রিয়ার অর্থ এ নয় যে বিদ্যমান মতভেদ ভুলে যাওয়া হয়েছে. গোটা একসারি ব্যাপারে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা ভিন্ন ভিন্ন, আর তা যেমন বিশ্ব ব্যাপারে, তেমনিই দ্বিপাক্ষিক সমস্যার ব্যাপারে. এর মধ্যে আছে – গত বছরের আগস্টে ককেশাসের ঘটনাবলির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী, নাটো জোটের সম্প্রসারণ এবং অবশ্যই, পোল্যান্ডে ও চেকিয়াতে নিজের রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপাদান স্থাপন সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা. প্রধান ব্যাপার হল নিজেদের আলাপ-আলোচনার ফলাফলের খতিয়ান টেনে সের্গেই লাভ্রোভ এবং হিলারী ক্লিন্টন একমত হন যে উভয় দেশ বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নিজেদের মুখ্য দায়িত্ব সম্বন্ধে সচেতন এবং আপোষ অনুসন্ধানে ইচ্ছুক. রাশিয়ার মন্ত্রী আলাপ-আলোচনার পরিবেশ বর্ণনা করেন এভাবে :
“মনে হয় এ হল সেই স্টাইল, যা আমাদের উভয় রাষ্ট্রপতির জন্য বৈশিষ্ট্যমূলক এবং তা রুশ-মার্কিন সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ,উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত নেতিবাচক উপাদান ত্রড়ানো ত্রবং ত্র সম্পর্ককে নতুন পর্যায় উন্নীত করার জন্য গুরুত্বপূর্ন. বিদ্যমান মতভেদের প্রতি আমরা চোখ বন্ধ করে খাকছি না.তবে মূলনীতি গত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ন যে আমরা ত্র সব মতভেদ খোলাখুলিভাবে আলোচনা করি. আর এতেই থেমে থাকছি না. ত্রমন সব মীমাংসা প্রনয়নের পথ অনুসন্ধান করছি, যে মীমাংসায় জড়িত সমস্ত পক্ষের আগ্রহ বিবেচনা হবে ত্রবং আপোষ করা যাবে. আমি আশাভরে আগামী দুমাসের দিকে তাকাচ্ছি.যাতে মস্কো শীর্ষ সাক্ষাতের জন্য পূর্নভাবে প্রস্তুত হওয়া যায.
ওয়াশিংটনের ত্র সাক্ষাতে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হয়ে ওঠে রননৈতিক আক্রমনাত্বক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত নতুন চুক্তি প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা .ভাল হবে, য়দি মস্কো শীর্ষ সাক্ষাতের আগে প্রনয়ন করা হয়,ত্র সমস্যা মীমাংসার মূলনীতি,যাতে উভয় পক্ষ রাজি হবে.অন্যান্য বিষয় উল্লেথ আছে,রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাতে ফলপ্রসুভাবে পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ চালাতে পারে. য়েমন,আফগানিস্তান,পাকিস্তানকে কেন্দ্র্ করে পরিস্থিতে,মধ্যপ্রাচ্য মীমাংসার প্রক্রিয়া,ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক সমস্যা, এ সব ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য সত্তেও সহযদিতার সুযোগ আছে.
বারাক ওবামার সঙ্গে আলোচনার পর সের্গেই লাভ্রোভ বিশেষ জোর দিয়ে বলেন যে, আমাদের দুদেশের স্বার্থে ত্রবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য মতভেদের ক্ষেত্রে সঙ্কুচিত হওয়ার প্রবনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে.এবাবে রাজনৈতিক অভিপ্রায় থেকে বৈষায়িক উপাদানে পরিনত হয়েছে.প্রধান ব্যাপার হল,মস্কোয় যেন তা চুড়ান্তভাবে সূত্রবদ্ধ হয়.